নানিয়ারচরে বগাছড়িতে আনারস ও সেগুন গাছের চারা উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা

স্টাফ রির্পোটার হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

Rangamati Pic 1

নানিয়ারচর উপজেলার বগাছড়ির ভুগুলুক্যামা ছড়া এলাকায় পাহাড়ে লাগানো নতুন আনারস ও সেগুন গাছের চারা মঙ্গলবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা উপড়ে ফেলেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

জানা গেছে,জেলার নানিয়ারচর উপজেলার বগাছড়ির পশ্চিম থ্রি পয়েন্ট এলাকার ভুগুলুক্যামা ছড়া এলাকায় মঙ্গলবার গভীর রাতে বাঙালী কৃষক মামুন,নিজাম ও হামিদের নতুন লাগানো আনারস ও সেগুন গাছের চারা একদল দুর্বৃত্ত উপড়ে ফেলে দেয়। সকালে তারা দেখে নতুন লাগানো আনারস উপড়ে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় বাঙালীদের মাঝে চাপা ক্ষোভদেখা দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নুরুজ্জামান, নানিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আব্দুর রশিদসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

নানিয়ারচর ওসি আব্দুর রশিদ জানান, উপজেলার বগাছড়ির পশ্চিম দিকে থ্রি পয়েন্ট এলাকাস্থ ভুহুলুক্যামা ছড়া স্থানে ৫ একর ২০ শতক জমিতে নতুন করে লাগানো আনারস চারা ও সেগুন গাছের চারা দুর্বৃত্তরা উপড়ে ফেলে দিয়েছে। এতে ১লাখ ৮২ হাজার আনারস চারা ও ১০ হাজার সেগুন গাছের চারা উপড়ে দেয় বলে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা তাকে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এখনো কোন মামলা হয়নি।

এদিকে, পার্বত্য নাগরিক পরিষদের রাঙামাটির আহবায়ক নুর জাহান বেগমের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বার্তায় এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন,গত মঙ্গলবার রাতে বগাছড়ি এলাকায় দুর্বৃত্তরা বাঙালী কৃষকদের ২লাখ আনারসের চারা ও ১০ হাজার সেগুন গাছের চারা কর্তন করে দেয়।  ২২ দিন আগে বগাছড়িতে রাতের অন্ধকারে কমপক্ষে ৫লাখ ফলন্ত আনারসের চারা ও ২৫ হাজার সেগুন গাছের চারা কেটে ধ্বংস করে দেয়। এসব ঘটনায় সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করলেও প্রশাসন তাদের গ্রেফতার করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

প্রেস বার্তায় অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্থ বাঙ্গালী কৃষকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরন দাবি জানান। অন্যথায় তিন পার্বত্যা জেলায় তীব্র প্রতিরোধ ও পার্ব্যত্যাঞ্চলকে অচল করে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, নানিয়ারচরে বুড়িঘাট ইউনিয়নের ১৪ মাইলস্থ বগাছড়ির সুরিদাশ পাড়া এলাকায় আনারস বাগান ও সেগুন গাছের চারা কেটে দেয়াকে কেন্দ্র করে গত ১৬ ডিসেম্বর সুরিদাস পাড়া, নবীন পাড়া ও বগাছড়ির পাহাড়ী গ্রামে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে তিনটি গ্রামের ৫১ টি বসতঘর ও ৭টি দোকান আগুনে পুড়ে যায়।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly