বৈচিত্র্যময় রাঙামাটির ফুরামোন—জ্ঞান মিত্র চাকমা

             CIMG1950_DMEABSনামহারা ফুল, মেঘেদের হাতছানি, সবুজে ঘেরা আকাবাকা পাহাড়ি পথ ধরে পৌছে যাওয়া ফুরামোনে।পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্র রাঙামাটি শহর এ ফুরামোন নামক পাহাড়ের কোলে অবস্থিত। রঙ-বেরঙের ফুল, পাহাড়ী পাখির ডাক, ছোট ছোট ঝরনা আর সহজ সরল পাহাড়ী আদিবাসী মানুষদের সংগে নিরিবিলিতে কয়েক ঘন্টা কাটানো সত্যিই অসাধারণ। এই পাহাড় গুরুগম্ভীর প্রাকৃতিক প্রাচীরের মতো একপাশ ঘিরে রয়েছে সুপ্রাচীন রাঙামাটি শহরকে।ফুরামোনের বাসিন্দারা বর্তমানে জায়গাটাকে এক পবিত্র ধর্মীয় স্থান ও মেডিটেশন সেন্টার হিসাবে সংরক্ষন করে রেখেছেন। পাহাড় চূড়ায় অবস্থিত এ মন্দির। এই পাহাড়ের চূড়ায় মন্দির থেকে দেখা যায়, ঘন সবুজ পাহাড়ি অরণ্য, অন্যদিকে বার্ডস আই ভিউতে গোটা রাঙামাটি শহর ও লেককে। এখানে কিছুক্ষন থাকলে এক অদ্ভুদ ধর্মীয় অনুভূতি এবং প্রত্যন্ত ও প্রাচীন অনূভূতির গন্ধ পাওয়া যায়। এখানে পৌছানোর পথটি একটু খাড়া তবে দুর্গম নয়। বর্ষাকালে গাড়ি নেওয়া বিপদজনক, তবে শীতকালে গাড়ি করে যাওয়া যায়। পায়ে হেটে দেড় থেকে তিন ঘন্টা সময় লাগতে পারে। বৈচিত্রময় পাবর্ত্য চট্টগ্রামকে উপভোগ করতে হলে অবশ্যই ফুরামোনে আসা দরকার। তবে পর্যটন শিল্পের অতিরিক্ত বানিজ্যকরণ এখানে পৌছাতে পারেনি বলেই পাবর্ত্য চট্টগ্রামের ভার্জিনিটি এখানে পুরাপুরি অনুভব করা যায়।

 স্রষ্টার তুলির স্পর্শে যেন সব কিছু এখানে বর্ণময়। ফুল, পাখি, প্রজাপতি প্রকৃতির সমস্ত রং যেন এরা উজার করে পেয়েছে। নাম না জানা মিষ্ঠি পাখির ডাক পাহাড় থেকে পাহাড়ে প্রতিধ্বনিত হয়। আর এই সুন্দর প্রকৃতির তালে তাল মিলিয়ে এখনকার মানুষজনও হয়ে উঠেছে সহজ-সরল সাধাসিধে।

ফুরামোনের যাওয়ার পথটা বড়ই সুন্দর। ঘন সবুজ পাহাড়ী অরণ্য তার মধ্য দিয়ে আকা-বাকা পাহাড়ী পথ। ফুরামোন ঘুরতে গেলে দেখতে পারেন পবিত্র বৌদ্ধ মন্দির, মেডিটেশন সেন্টার মন চাইলে পাহাড় ট্রাকিংও করতে পারেন।

এখানে যাওয়ার উপযুক্ত সময় হচ্ছে নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত। তবে এখানে থাকার কোন হোটেল বা রিসোর্ট নেই। তাই সন্ধ্যা নামার আগেই আপনাকে রাঙামাটি শহরে ফিরতে যেতে হবে। আকাশে যদি মেঘ থাকে তাহলে সৌন্দর্য্য অন্য মাত্রা রুপ পায়। খানিকটা যদি বৃষ্টি হয়,  তাহলে তো আর কথায় নেই সবুজ আরও সবুজ হয়ে যায়। মেঘ আর পাহাড়ের অদ্ভুদ এক অলিঙ্গন। প্রকৃতি যেন আপন ছন্দে নাচতে শুরু করে নাম না জানা পাখির সুরে। সে এক অদ্ভুদ মায়া, যে মায়া ফুরামোনকে করে তোলে এক পাবর্ত্য পারিজাত। সে মায়ার বাধন ছিড়ে ইট, কংক্রিটের কর্মকান্ডের শহরে ফিরে আসা বড়ই কষ্টের।

কখন যাবেন ও কি ভাবে যাবেন: এখানে যাওয়ার উপযুক্ত সময় হচ্ছে নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত।রাঙামাটির শহর থেকে টেক্সী অথবা গাড়ি ভাড়া যোগে অথবা লোকাল বাস ও সিএনজি যোগে মানিকছড়ি বাজারে যাবেন। এরপর ওখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে সরাসরি ফুরামোনে যাওয়া যাবে।

মনে রাখবেন: আদিবাসীদের মন-মানসিকতায় খারাপ লাগতে পারে এমন কোন কর্মকান্ড করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আর অবশ্যই একজন লোকাল আদিবাসী গাইড সঙ্গে নিতে ভুলবেন না।

ট্যুর প্ল্যান: ফুরামোনে বেড়াতে গেলে অবশ্যই এক দিন হাতে রেখে যাওয়া উওম তাহলে মনের মতন করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যেকে উপভোগ করা যাবে।

Print Friendly