ঈদ ছূটিতে ঘুরে আসতে পারেন প্রকৃতির রাণী রাঙামাটি

বিশেষ রিপোর্টার,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

22
বন্দর নগরী চট্টগ্রাম থেকে ৭০ কিলোমিটার দূেের রাঙামাটি। এর পূর্বে ভারতের মিজোরাম রাজ্য, উত্তরে পার্বত্য খাগড়াছড়ি এবং দক্ষিণে পার্বত্য বান্দরবান জেলা। রাঙামাটির আয়তন ছয় হাজার ৪৮১ বর্গকিলোমিটার। সত্তর দশকের শেষদিকে সরকার রাঙামাটি জেলাকে পর্যটন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে এবং পর্যটন করপোরেশনও পর্যটকদের সুবিধার্থে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তুলে।

কি ভাবে যাবেন
চট্টগ্রামের অক্সিজেন বাস স্ট্যান্ড থেকে প্রতি এক ঘন্টার পর পাহাড়িকা বাস ও প্রতি আধঘণ্টা পরপর বিরতিহীন বাস ছেড়ে যায় রাঙামাটির উদ্দেশ্যে। ভাড়া নিবে জনপ্রতি ১শ টাকা। আরও একটু আরামে যেতে চাইলে উঠতে পারেন এস আলম, ইউনিক, বিআরটিসি। তবে এসব চেয়ারকোচ সব পাওয়া না গেলেও স্টেশন রোড থেকে এক ঘন্টা পর বিআরটিসি বাস পাওয়া যায়। এসব চেয়ার কোচের নিজস্ব কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করে তবেই যেতে হবে। ভাড়া পড়বে একশ টাকা। চট্টগ্রাম শহর থেকে রাঙামাটি যেতে সময় লাগবে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা।
দেখার যা আছে

পর্যটনের ঝুলন্ত সেতু, সুভলং ঝরনা, পেদা টিং টিং, সাংফাং রেস্টুরেন্ট, চাকমা রাজার কার্যালয়,রাজ বন বিহার, আদিবাসী যাদুঘর, জেলা প্রশাসকের বাংলো, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি অব্দুর রউফের সমাধিস্থল, আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়কের মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং আদিবাসী গ্রাম। তাছাড়া আদিবাসীদের সম্পর্কে একটি যাদুঘর রয়েছে তা দেখতে পারেন স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ইনস্টিটিউটে। এছাড়া রাঙামাটিতে অনেক আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট রয়েছে যেগুলো অসংখ্য পর্যটকের অজানা। এর মধ্যে অন্যতম ফুরামোন পাহাড়, বরকলের ফালিতাংগ্যা চুগ ( পাকিস্তান টিলা) ও বরকলের প্রাকৃতিক অপরুপ সৌন্দর্য্য, বালুখালীর কৃষি খামার এবং মোন ঘর শিশু সদন।

দর্শনীয় স্থান দেখবেন যেভাবে
রাজবাড়ি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ইনস্টিটিউটস্থ আদিবাসীদের সম্পর্কে জাদুঘর, জেলা প্রশাসন বাংলো, রাজ বন বনবিহার ইচ্ছে করলে আপনি অটোরিকশা ভাড়া করে ঘুরে আসতে পারেন। কারণ এগুলো শহরের মধ্যেই অবস্থিত। চাকমা রাজার কার্যালয় ও যাদুঘর, বৌদ্ধদের তীর্থস্থান রাজ বন বিহার। বৌদ্ধ ধর্মের বেশ কিছু নিদর্শন রয়েছে এখানে। পার্বত্য বেীদ্ধ ধর্মীয় গুরু বনভান্তে এ বিহারে অবস্থান করে থাকেন। অপরদিকে ক্ষুদ্র নুগোষ্ঠী জাদুঘরে রয়েছে আদিবাসীদের কৃষ্টি ও সংস্কৃৃতির প্রাচীন নিদর্শন।

রাঙামাটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ পর্যটন কমপ্লেক্স। পর্যটন কমপ্লেক্সে ঝুলন্ত ব্রিজটি সব পর্যটককেই আকৃষ্ট করে। দুটি পাহাড়ের মধ্যে সংযোগ ঘটিয়ে কাপ্তাই হ্রদের উপর ঝুলে আছে এ সেতু। এ ঝুলন্ত সেতু দেখতে হলে পর্যটন করপোরেশনকে দিতে হবে পাঁচ টাকা।

সুভলং ঝরনার প্রাকৃতিক দৃশ্যে, নানিয়ারচরের বুড়িঘাট এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের স্মৃতিসৌধ, পেদা টিং টিং ও ইকো টুক টুক ভিলেজ দেখতে হলে আপনাকে অবশ্যই ইঞ্জিন চালিত নৌকা ভাড়া করতে হবে।

বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়ক মুন্সি আব্দুর রউফ মুক্তিযুদ্ধের সময় নানিয়ারচরের বুড়িঘাটে শহীদ হন। স্থানীয় এক আদিবাসী তাকে ওই স্থানে কবর দিয়েছিলেন। পরে রাঙামাটির বিডিআর ওই স্থানে স্মৃৃতিসৌধ নির্মাণ করে। তবে এসব স্থান পরিদর্শনের সময় সারাদিনের জন্য বোট ভাড়া করলে একসঙ্গে রাজবাড়ি, বন বিহার, পর্যটনের ঝুলন্ত সেতু ও জেলা প্রশাসকের বাংলো ঘুরতে পারবেন।

বোটে করে যাওযার সময় কাপ্তাই হ্রদের স্বচ্ছ জলরাশির বুক ছিঁড়ে যখন সুভলংয়ের দিকে এগুবেন তখন একটি সবুজ দ্বীপ চোখে পড়বে। যাওয়ার সময় চোখে পড়বে বেসরকারী পর্যটন স্পট পেদা টিং টিং রেস্টুরেন্টে। পেদা টিং টিং শব্দটির চাকমা ভাষায় নামকরণ করা হয়েছে। এর অর্থ হল পেট ভরে খাওয়া। ১৯৯৭সালে পার্বত্য শান্তি চুক্তির পরবর্তী সময়ে রাঙামাটি শহরের অদূরে বালুখালীতে গড়ে ওঠে বেসরকারি পর্যটন স্পট পেদা টিং টিং। পুরো একটি সেগুন বাগানকে কেন্দ্র করেই এই পর্যটন স্পট। সারি সারি সেগুন গাছের সঙ্গে রয়েছে কিছু বনের পশু-পাখি। এখানে আদিবাসী ঐতিহ্যবাহী খাবার পাওয়া যাবে। এছাড়া রাতযাপন করতে চাইলে রয়েছে আদিবাসীদের ঐতিহ্যের ধারক টং ঘর। পেদা টিং টিং পর্যটন স্পটের অদুরে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে ওঠেছে পিকনিক ইকো টুক টুক ভিলেজ। এখানকার রেস্টুরেন্টও পাবেন আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী খাবার।

পেদা টিং টিং এর সবুজ পাহাড় ছেড়ে এগুলেই পড়বে কিছু আদিবাসী গ্রাম। ইচ্ছে করলে ঘুরতে পারেন এসব গ্রাম। জেনে নিতে পারেন পাহাড়ি মানুষের সরল জীবন কাহিনী। এসব গ্রামের পাহাড়ের মাঝেই দেখতে পাবেন জুমক্ষেত (পাহাড়ের চড়ায় চাষাবাদ)। মনভোলানো এসব দৃশ্য দেখতে দেখতে কখন যে সুভলং পৌঁছে গেছেন তা টেরই পাবেন না। নয়নাভিরাম সুভলং ঝরনার কাছাকাছি পৌঁছলে দেখতে পাবেন দু’দিকে সুউচ্চ পাহাড়। এক সময় এখানে কাপ্তাই বাঁধ নির্মানের জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাঁধ নির্মাণ করা হলে ভারতের কিছু এলাকা জলমগ্ন হয়ে যাবে, সেজন্য পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছিল। এরপর দেখতে পাবেন পাহাড়ের কোল থেকে নেমে আসা সুভলং ঝর্ণা। তবে বর্তমানে ঝর্না পানির কম রয়েছে। তারপরও ঝরনাটি দেখলে যে কারোই মন ভরে যাবে। পাহাড়ের ওপর থেকে নেমে আসা ঝরনার পানি পাথুরে মাটিতে আছড়ে পড়ার অপূর্ব দৃশ্য না দেখলে বলে বোঝানোর নয়। এখানে আপনি ইচ্ছে করলে গোসলও করতে পারবেন। ক্যামেরা থাকলে ঝটপট তুলে নিতে পারেন কিছু ছবিও। তবে বর্ষা মৌসুমে ঝরনায় পানি পানি বেশী। আর ঝরনা দেখতে হলে প্রবেশ ফি হিসাবে দিতে হবে।

ঝরনা দেখা শেষ হলে কিছুক্ষনের জন্য সুভলং বাজারে ঘুরে আসতে পারেন। সেখানে সেনাবাহিনীর একটি ক্যান্টিনও রয়েছে। ইচ্ছে করলে সেখান থেকে চা-নাস্তা খেতে পারেন। কারণ এখান থেকে সোজাসোজি আপনাকে রওনা দিতে হবে শহরের দিকে। এছাড়াও রাঙামাটি শহরের অদুরে বালুখালীতে হট্টিকালচার নার্সারির বিশাল এলাকাজুড়ে যে উদ্যান রয়েছে তার সৌন্দর্যও পর্যটকদের দৃষ্টি আকৃষ্ট করে। এখানে সারি সারি ফল ও ফুল গাছের সঙ্গে রয়েছে বন্য পশু-পাখি। সবমিলিয়ে এই স্থানটি পর্যটকদের কাছে দিন দিন খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠছে।

এছাড়া ১৯ কিলোমিটার দুরত্বে আসামবস্তি-কাপ্তাই হ্রদ সড়ক চালু হওয়ার কারণে কাপ্তাই হ্রদের দুই ধারে সড়কটির অবস্থানের কারণে মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য গড়ে উঠছে। সড়কে যেতে যেতে চোখে পড়বে আদিবাসী গ্রামসহ উচুনিচ পাহাড় ও কাপ্তাই হ্রদের অপরুপ দৃশ্য। আবার এই সড়কের আসামবস্তি এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে একটি অপরুপ সেতু। বিকালে ওই সেতুতে বসে কাপ্তাই হ্রদের অপরুপ দৃশ্য ও সূর্যাস্তের দৃশ্য অবলোকন করতে পারেন। আপনি ইচ্ছে করলে এই আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়ক দিয়ে কাপ্তাই উপজেলায় যেতে পারেন। সিএনজি যোগে সময় লাগবে প্রায় আধা ঘন্টা থেকে পৌনে এক ঘন্টা। রিজার্ভ করে গেলে ভাড়া পড়বে ৭ থেকে ৮শ টাকা। আর আপনি কাপ্তাই পৌছঁলে সেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে পারেন। সেখানে রয়েছে কর্নফুলীর নদীর দুপাশের মনপাগল করা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য। এছাড়া রয়েছে কাপ্তাই জল বিদ্যূৎ উৎপাদন কেন্দ্র, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান, দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কর্নফুলী কাগজ কলসহ ইত্যাদি রয়েছে। আপনি ইচ্ছে কাপ্তাই হয়ে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম শহরে যেতে পারেন।

অন্য কিছু স্পট
ফালিটাংগ্যা চুগঃ রাঙামাটির বরকল উপজেলায় অবস্থিত ফালিতাংগ্যাচুগ। রাঙামাটি শহর থেকে নৌপথে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত বরকল সদর উপজেলা। এ উপজেলায় যেতে হলে শুভলং বাজার থেকে পূর্ব দিকে কর্ণফুলী নদীর উজানের দিকে এগুতে হবে। এ শুভলং বাজারে পাশেই কয়েকটি নদী মিলিত হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিন-পূর্ব দিক থেকে এসেছে জুরাছড়ি এবং উত্তর-পূর্ব দিক থেকে এসেছে মাইনী ও কাচলং নদীর মিলিত স্রোতধারা। কর্ণফুলী নদীর বুক ছিড়ে বরকল উপজেলা সদরের দিকে যাওয়ার পথে চোখে পড়বে বিস্তীর্ণ জলরাশি ও নদীর দুধারে উচুনিচু অসংখ্য পাহাড়। এছাড়া চোখে পড়বে আদিবাসী গ্রামের দৃশ্য। সেখানে রয়েছে নির্মল পাহাড়ি সরলতা ও জীবনযাত্রার পাশাপাশি অসংখ্য জুম ক্ষেত। এই মন পাগল করা প্রাকৃতি দৃশ্য উপভোগ করতে করতে এক সময় দেখা মিলবে বরকল সদর উপজেলা। বরকল উপজেলা সদরটি পাকিস্তান (ফালিট্যাংগা চুগ) ঢিলার পাদদেশে অবস্থিত। সেখানে রয়েছে বরকল উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়, বাজার ও বিডিআর জোন। তবে স্থাণীয় লোকজন এখন আর পাকিস্তান ঢিলা না বলে ফালিট্যাংগা চুগ বলে অভিহিত করে থাকেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সৈন্যরা এ পাহাড়ে বড়ো বড়ো বাংকার খুঁড়ে আশ্রয় নিয়েছিল বলেই পাকিস্তান টিলার নাম হয়েছিল। এই ফালিটাংগ্যা চুগটি হচ্ছে রাঙামাটির সবচেয়ে সুউচ্চ পর্বত। যার উচ্চতা হচ্ছে ১হাজার ৬শ৬৮ ফুট। এ পাহাড়টির ওপরে ওঠেই উপভোগ করার সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত। এছাড়া এ পাহাড় থেকে রাতে দেখা মিলবে ভারতের মিজোরাম রাজ্যের আলোকিত আইজল শহর।

অপরদিকে বরকল সদরের পূর্ব-দিকে রয়েছে সীমান্তবর্তী থেগামূখ। বর্তমানে সরকার এ থেগামুখ স্থানে স্থল বন্দর বন্দর স্থাপনের ঘোষনা দিয়েছে। এই থেগামুখ যেতে হলে কর্ণফুলী নদীর উজান দিয়ে যেতে হয়। এ নদীর দুই তীরে যাওয়ার সময় চোখে পড়বে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যর অপরুপ দৃশ্য। যা পাহাড় থেকে জলীয় বাষ্প উড়ে যাওয়ার অপরুপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য যে কোন মানুষকে বিমোহিত করবে। কর্ণফুলি নদীর উৎপত্তিস্থল হচ্ছে ভারতের লুসাই পাহাড়ের পাদদেশ থেকে। এ কর্ণফুলী নদীর দুপাশে রয়েছে বাংলাদেশ-ভারতের মন পাগলকরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও আদিবাসীদের সহজ সরল জীবনযাপের দৃশ্য। আবার এই কর্নফুলি নদীর একপাশে বাংলাদেশী পতাকাবাহী জেলে আর অন্যপাশে ভারতীয় পতাকাবাহী জেলেরা মাছ ধরছে এক সাথে। যেনো একই সুতোয় বাঁধা জীবন ঘুরপাক খাচ্ছে এই নদীর নীল জলে।
জানা গেছে, ১৯২৩ সালে গড়ে উঠা এই বরকল উপজেলাটি। বরকলের নামের পেছনে জনশ্র“তিতে রয়েছে কর্ণফুলী নদীর এই স্থানে একটি খুবই প্রবাহমান ঝর্না ছিল। পানি পড়ার শব্দ অনেকদুর থেকে শোনা যেত যেত।্ আর এই পানি পড়ার শব্দ শুনে মনে হত যেন কোন বড় ষন্ত্র বা কলের শব্দ হচ্ছে। যার কারণে ওই স্থানে বসবাসকারী আদিবাসী লোকজন নাম দেয় বরকল। কিন্তু ১৯৬০ সালে বিদ্যূৎ উৎপাদনের জন্য কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণ করার কারণে এই বরকলের সর্ববহৃৎ ঝর্র্ণাটি পানির নিচে তলিয়ে যায়। বরকল যেতে হলে আপনাকে অবশ্যই রাতে থাকার প্রস্তুতি নিয়ে যেতে হবে। রাঙামাটি শহর থেকে ইঞ্জিনচালিত বোট ভাড়া করে এখানে আসতে হবে।

ফুরামোন পাহাড় : এটি রাঙামাটি শহরে অনতিদহৃরে অবস্টি’ত। এই পাহাড়ের চূড়ায় ওঠে রাঙামাটি শহরের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এর উচ্চতা এক হাজার ৫১৮ ফুট। ফুরামোন পাহাড় যেতে হলে শহরের মানিকছড়ির সাপছড়ি হয়ে যেতে হবে। এখানে রাজ বন বিহারের ফুরামোনা শাখা নামে বৌ™ব্দদের একটি মন্দিরও রয়েছে। ফুরামোনে যেতে হলে আপনাকে প্রথমে সিএনজি ভাড়া করে সাপছড়ি পর্ষন্ত গিয়ে পায়ে হেঁটে যেতে হবে। এজন্য পাহাড় উঠার অভ্যাস থাকতে হবে। আবার ফুরামোনের পাদদেশে হয়ে একটি রাস্টøাও করা হয়েছে। ইচ্ছে করলে সিএনজিতে করে কিছু দহৃর যেতে পারেন। তবে বলে রাখা ভালো ফুরামোন পাহাড়ে যাওয়ার আগে নিরাপত্তার ব্যাপার নিয়ে একটু ভাবতে হবে। কারণ এলাকাটি খুবই নির্জন।

বালুখালী কৃষি খামার : রাঙামাটি শহরের কাছেই বালুখালী কৃষি খামার। এ খামারের বিশাল এলাকাজুড়ে যে উদ্যান রয়েছে তার সৌন্দর্য্যও পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষন করে। এখানে প্রায় সময় দলবেধে লোকজন পিকনিক করতে আসে। ফল ও ফুলসহ অসংখ্য প্রজাতির গাছগাছালি রয়েছে খামারটিতে। পর্যটকদের পছন্দের একটি স্পট বালুখালী কৃষি খামার। এখানে আসতে হলে রাঙামাটি শহর থেকে বোট ভাড়া করে যেতে হবে। বোট ভাড়া পাঁচশ’ থেকে আটশ’ টাকা নিবে।

মোন ঘর শিশু সদন : রাঙামাটি শহর থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দুরে রাঙাপানি এলাকায় চার একর পাহাড়ের উপর অবস্থি’ত মোন ঘর শিশু সদন। প্রতিষ্ঠানটি পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি নিকেতন হিসেবে স্থানীয় লোকজনের কাছে পরিচিত। ১৯৭৪ সালের দিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষা প্রসার ও অসহায় দরিদ্র অনাথ ছেলে-মেয়েদের আশ্রয় দিয়ে পড়াশুনার জন্য মোন ঘর শিশু সদন প্রতিষ্ঠা করা হয়। মোনঘর শব্দের অর্থ পাহাড়ে জুম চাষের জন্য চাষিদের থাকার অস্থ’ায়ী আশ্রয়স্থল। যতদিন না পর্ষন্ত চাষিরা জুমের ধানের বীজ থেকে অন্যান্য ফলন মোন ঘরে তূলতে না পারে ততদিন পর্ষন্ত এই আশ্রয়স্থ’লে থেকে কাজকর্ম চালিয়ে যান চাষিরা। ঠিক তেমনি তৃণমুল পর্যায়ের অনাথ, অসহায় ও ছিন্নমুল ছেলে-মেয়েদের আশ্রয় দিয়ে তাদের মানুষের মতো গড়ে তোলাই মোন ঘর শিশু সদনের কাজ। চারদিকে গাছগাছালি ঘেরায় বাসভবন ও বৌদ্ধ মন্দিরসহ অনেক কিছুই দেখার রয়েছে এখানে। তবে মোন ঘর শিশু সদনের ভেতরে যেতে চাইলে করতে হলে এর আগে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। শহর থেকে সিএনজি ভাড়া করে এখানে আসা যাবে। এছাড়া মোনঘর এলাকা থেকে দুরে হ্যাচারি ঘাট এলাকায় সবুজ বৃক্ষরাশি ঘেরা পুলিশ লাইনের সুখী নীলগঞ্জ, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে নির্মিত বোটানিক্যাল গার্ডেন ও মিনি চিড়িয়াখানা ঘুরে আসতে পারেন।

রাঙামাটি জেলায় সম্ভাবনাময় অসংখ্য পর্যটন স্পট রয়েছে। যেগুলোর প্রায় সবই দুর্গম এলাকায়। এর মধ্যে বাঘাইছড়ি উপজেলায় পাবখালীর অভয়ারণ্য, সাজেক ভ্যালি, বিলাইছড়ি উপজেলায় রাইনক্ষ্যং হ্রদ বা বগা লেক, চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের ঘাগড়ার হাজাছড়ি এলাকার প্রাকৃতিক ঝরনা, মগবানের বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর এলাকায় মনোরম পিকনিট স্পট অন্যতম।

বোট পাবেন যেখানে
ইঞ্জিনচালিত বোট কিংবা স্পিডবোট ভাড়া পাওয়া যায় রাঙামাটি শহরের তবলছড়ি বাজারের বোট ঘাট, রিজার্ভ বাজার, বনরূপার সমতা ঘাট ও রাজবাড়ি ঘাট এলাকায়। তবে নতুন লোক দেখলে বোটের চালকরা বেশি ভাড়া দাবি করার আশংকা রয়েছে। তাই দরদাম করেই বোট ভাড়া নেওয়াই উত্তম। সারাদিনের জন্য বোট ভাড়া করলে এক হাজার থেকে ১২শ’ টাকা নিবে। দুই-তিন ঘণ্টার জন্য এই ভাড়া হতে পারে ৫ থেকে ৬শ টাকা।

থাকতে পারেন যেখানে
একুট নিরিবিলি পরিবেশে থাকতে চাইলে উঠতে পারেন রাঙামাটি পর্যটন মোটেলে। এছাড়া বেসরকারি হোটেলে রাতযাপন করা হয়। পৌরসভার কার্যালয়ের পাশেই অবস্থিত হোটেল সুফিয়া, রিজার্ভ বাজারের গ্রিন ক্যাসেল, কলেজ গেইটের মোটেল জজ ও চম্পক নগরের গেস্ট হাউস বনরূপা টুরিস্ট ইন। এছাড়াও পর্যটকদের থাকার জন্য মাঝারি মানের অল্প টাকার হোটেলও রয়েছে। এর মধ্যে হোটেল দিগনিটি, সমতা বোর্ডিং, হোটেল অনিকা, হোটেল আলবোমা ও হোটেল সৈকত অন্যতম। তবে নতুন দম্পতিররা থাকতে পারেন পর্যটন কমপ্লেক্সে রয়েছে দুটি হানিমুন কটেজে। এখানে থাকালে নবদম্পতিদের দিনটা যে অন্যরকম হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আধুনিক শৈলীতে নির্মিত এই দুটি হানিমুন কটেজে রয়েছে।

পর্যটন মোটেলে থাকতে চাইলে ০৩৫১-৬৩১২৬ নাম্বারে যোগাযোগ করতে হবে। এছাড়া সুফিয়া হোটেল ০৩৫১-৬২১৪৫, গ্রিন ক্যাসেল ০৩৫১-৬১২০০, মোটেল জজ ০৩৫১-৬৩৩৪৮, শাইনিং হিল গেস্ট হাউস- ০১৫৫৬৭৪৭১৯০.

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly