৭৫০ জন পাহাড়ি-বাঙ্গালি বেকার যুবক যুবতীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি

নজরুল ইসলাম লাভলু, কাপ্তাই, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

TUt Pic_DMEABS

“রেশম চাষ বদলে দিতে পারে পার্বত্য বাসীর জীবনধারা” এ শ্লোগানকে সামনে রেখে কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা আঞ্চলিক রেশম গবেষণা কেন্দ্র ৭৫০ জন পাহাড়ি বাঙ্গালি বেকার যুবক যুবতীকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে এক প্রসংশনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশে কাঁচা রেশমের চাহিদা পূরণ করে অবশিষ্ট রেশম বিদেশে রপ্তানি করতে পারবে। এতে বিপুল পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে। পাশাপাশি পার্বত্য এলাকায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ফলে এলাকার বেকার যুবক যুবতীরা আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে নিজেরাই স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে সম হবে।

জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের আর্থিক সহায়তায় “প্রজেক্ট অন সেরিক্যালচার রির্সাচ এন্ড টেকনোলজি ডেসিমিনেসন ইন হিলি ডিস্ট্রিকস্” নামের এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিণ ইন্সষ্টিটিউটের মাধ্যমে। ২০০৯-২০১২ সাল পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদি এ প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩ কোটি ত্রিশ লাখ টাকা। যথাসময়ে অর্থ ছাড় না পাওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৪ সালের ৩০শে জুন পর্যন্ত বর্ধিতকরণ করা হয়েছে। পুরো অর্থই ব্যয় করা হবে পার্বত্য পাহাড়ি বাঙ্গালি জনগোষ্টির মাঝে রেশম চাষ ছড়িয়ে দিয়ে নিজেদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে।

মূলত এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হল পাহাড়ি এলাকায় উপযোগী রেশম চাষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন, উদ্ভাবিত প্রযুক্তি তৃণমূল পর্যায়ে হস্তান্তর, প্রশিণের মাধ্যমে দ জনশক্তি তৈরিকরণ, গবেষণার মাধ্যমে পাহাড়ি এলাকায় তুঁতজাত ও পলুজাতের অ্যাডাপটিবিলিটি পরীা, নন মালবেরি সেরিক্যালচার এর ফেসিবিলিটি তৈরি, তুঁত ও পলু পোকার জামপ্লাজম সংরণ, কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পার্বত্য এলাকায় দারিদ্র দূরিকরণ ও বিভিন্ন সংস্থার সাথে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে রেশম চাষ সম্প্রসারণ করা।
প্রসঙ্গঁত, পার্বত্য এলাকার পাহাড়ি বাঙ্গালিদের মধ্যে রেশম চাষ ছড়িয়ে দিতে প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায় ২০০৬-২০০৯ অর্থ বছরে তিন বছর মেয়াদি সর্বপ্রথম একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এ প্রকল্পে পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রনালয় এক কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। প্রকল্পের আওতায় তখন প্রশিক প্রশিণ কোর্স, রেশম চাষী কোর্স ও রিলিং এবং স্পিনিং কোর্সে ২৭৪ জন মহিলা এবং ৭৫ জন পুরুষ মিলে সর্বমোট এ পর্যন্ত ৪২৫ জন পাহাড়ি বাঙ্গালি বেকার যুবক যুবতীকে প্রশিণ দেয়া হয়েছে। ২০০৯-২০১৪ সাল মেয়াদের এ প্রকল্পে অবশিষ্ট প্রশিণার্থীদের প্রশিণের মাধ্যমে দ হিসাবে গড়ে তোলা হবে। নতুন করে গৃহীত এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যভাবে প্রায় সাড়ে সাতশ’ বেকার যুবক যুবতীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

প্রশিতি এসব যুবক যুবতীদের মধ্যে ১০০ জনকে গত অক্টোবর ২০০৯ মাসে ২০ হাজার উন্নত জাতের তুঁত গাছ বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ানাধীন বারঘোনা তংচংগ্যা পাড়ায় ২৫ জন চাষী, ওয়া¹া ইউনিয়নের বটতলিতে ১০ জন, কাউখালী উপজেলায় ৪০ জন, রাজস্থলী উপজেলা সদরে ১০ জন, এবং বাঙ্গালহালীয়ায় ১৫ জন সহ মোট ১০০ জন চাষীকে মাথাপিছু ২০০ টি করে মোট ২০ হাজার তুঁত গাছ বিতরণ করা হয়েছে। এসব চাষীকে প্রকল্পের আওতায় ৪ বছর ৬ মাস ধরে কঠোর তত্ত্বাবধানে রেখে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে এদেরকে পূর্ণাঙ্গ চাষী হিসাবে গড়ে তোলা হবে। পরবর্তীতে এসব চাষী নিজেরাই রেশম চাষের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য বদল করতে সম হবে।

এ ব্যাপারে কাউখালী উপজেলার প্রশিতি রেশম চাষী ফেরদৌসি বেগমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, চন্দ্রঘোনা আঞ্চলিক রেশম গবেষণা কেন্দ্র থেকে রেশম চাষ বিষয়ে স্বল্প মেয়াদী প্রশিণ গ্রহণ করার পর ২০০ টি উন্নত জাতের তুঁত চারা নিয়ে রেশম চাষ শুরু করি। এটা প্রায় চার বছর আগের কথা। এখন আমি সফলভাবে রেশম ও পুল পালনসহ রেশম সুতা বিক্রি করে উর্পাজিত অর্থ দিয়ে নিজ সংসার ভালভাবে চালানোর পরও কিছু অর্থ উদ্বৃত্ত থাকে। আমার পরিবারে এখন অনেকটা স্বচ্ছলতা এসেছে। রেশম চাষে আমার সফলতা দেখে এই এলাকার আরও মহিলাদের রেশম চাষের আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। আঞ্চলিক রেশম গবেষণা কেন্দ্রের নতুন প্রকল্পের আওতায় এ অঞ্চলে আরও প্রায় ত্রিশ জন মহিলাকে প্রশিন প্রদান করা হয়েছে। প্রশিতি এসব মহিলাকে মাথাপিছু ২০০টি করে তুঁত চারা দেওয়া হয়েছে। আমি আশা করি প্রশিতি এসব মহিলা আমার মত রেশম চাষের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়নের সাথে সাথে দেশের অর্থনীতিকে উন্নত করবে। একই ভাবে কাপ্তাইয়ের ওয়াগ্গা ইউনিয়নের আদিবাসী মঙ্গল শোভা চাক্মা জানান, পূর্বে গবেষণা কেন্দ্র হতে প্রশিন নিয়েছি। দু’বছর পূর্বে ২০০টি তুঁত চারা বিনামূল্যে পেয়েছি। প্রশিন লব্ধ জ্ঞান প্রয়োগের মাধ্যমে একজন দ রেশম চাষী হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। এতে নিজেই স্বাবলম্বী হতে পারব বলে আশাকরি। কারণ আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্র আমাদেরকে প্রযুক্তিগত ও অর্থিক বিষয়ে সহযোগীতা করে যাচ্ছে। প্রসঙ্গতঃ চলতি বছর কাপ্তাই উপজেলার ৭ জন প্রশিতি মহিলাকে পোকা পালনের কাজে ব্যবহারের জন্য ঘর নির্মাণ করতে মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে প্রকল্পের আওতায়।

এ ব্যাপারে চন্দ্রঘোনা রেশম গবেষণা কেন্দ্রের প্রকল্প কর্মকর্তা কামনাশীষ দাশ এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, রেশম চাষী এবং বিয়ারারগণ চাষের মাধ্যমে রেশম গুটি উৎপাদন করতে পারবে। এ সকল রেশম গুটি তারা সরাসরি বিক্রি করতে বা গুটি হতে সুতা উৎপাদন করেও বিক্রি করতে পারবে। আর উইভারগণ সুতা হতে কাপড় তৈরি করে বিক্রি করতে পারবে। পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত আদিবাসীগণ নিজেদের কাপড় নিজেরাই বুনন করে থাকে। গুটি হতে সুতা তৈরি করে সে সুতার সাহায্যে তাদের নিজেদের পরিধেয় কাপড় তৈরি করে পরিধান করতে সম হবে। অবশিষ্ট কাপড় বিক্রি করে তাদের ভাগ্যের উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে সম হবে। এটাই প্রকল্পের মূখ্য উদ্দ্যেশ্য তিনি আরও জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ৩০০ মেট্রিক টন কাঁচা রেশম প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে মাত্র ৫০ মেট্রিক টন কাঁচা রেশম দেশে উৎপাদিত হয়। অবশিষ্ট ২৫০ মেট্রিক টন রেশম বিদেশ হতে আমদানি করতে হয়। এর পেছনে দেশের বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের চাহিদা পূরণ করে অবশিষ্ট রেশম বিদেশে রপ্তানী করে বিপুল অর্থ আয় করা সম্ভব হবে।

চন্দ্রঘোনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত
কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা আজ সোমবার(২ ডিসেম্বর) কেপিএম স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। পরিচিতি সভায় সভাপতিত্ব করেন, ফারুক হোসেন। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোঃ নাছির উদ্দিন চৌধুরী। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান আনিছ, মুরাদ হোসেন, টুটুল, মোঃ সেলিম, তৌহিদুল আলম, শাহআলম, মোঃ কাশেম প্রমূখ। সভায় প্রধান অতিথি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নির্দেশনানুযায়ী হরতাল, অবরোধ কর্মসূচী পালন করার অনুরোধ জানান। তিনি আরো বলেন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবী প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীদের রাজপথে থাকার আহ্বান জানান।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly