২০১৪ সালে আদিবাসী নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে মোট ৭৫ টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ঢাকায় সংবাদ সন্মেলনে আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক

ডেস্ক রিপোর্ট,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

Hill

বাংলাদেশে আদিবাসী নারীর প্রতি সহিংসতার চিত্র ও আদিবাসী নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের দাবিতে শনিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক-এর সংবাদ সন্মেলন আয়োজন করে।

সংবাদ সন্মেলনে বলা হয়, ২০১৪ সালে বাংলাদেশে আদিবাসী নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে মোট ৭৫ টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ৭৫ টি ঘটনার মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে ৫১ টি এবং সমতল অঞ্চলে ২৪ টি। এছাড়া ২০১৩ সালে এই সহিংসতার ঘটনা ছিল ৪৮ টি যার মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে ৩২ টি এবং সমতলে ১৬ টি উল্লেখ করা হয়েছে। সংবাদ সন্মেলনে আদিবাসী নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও সহিংসতা বন্ধের স্বার্থে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন করা এবং এ লক্ষ্যে সময়সূচি ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা (রোড ম্যাপ) ঘোষণা করাসহ ৬ দফা দাবি জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক-এর ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী সিলভিয়া খিয়াং-এর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বার্তায় বলা হয়, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির গোল টেবিল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সন্মেলনে সংগঠনের মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের যুগ্ম আহ্বয়ক চৈতালী ত্রিপুরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব চঞ্চনা চাকমা। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট রাখি দাস পুরকায়স্থ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিস বিভাগের শিক্ষক সাবিহা ইয়াসমিন রোজী, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের সমন্বয়কারী দিলারা রেখা, কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা, বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সমন্বয় কমিটির সদস্য রাখি ম্রং, পার্বতী রায়, বন্যা কুজুর, সুজয়া ঘাগ্রা এবং ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী সিলভিয়া খিয়াং প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের যুগ্ম আহ্বায়ক চৈতালী ত্রিপুরা তার মূল প্রবন্ধে বলেন, ২০১৪ সালে বাংলাদেশে আদিবাসী নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে মোট ৭৫ টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ৭৫ টি ঘটনার মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে ৫১ টি এবং সমতল অঞ্চলে ২৪ টি। ২০১৩ সালে এ সহিংসতার ঘটনা ছিল ৪৮ টি যার মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে ৩২ টি এবং সমতলে ১৬ টি। ২০১৩ সালের তুলনায় গত বছর আদিবাসী নারী ও শিশুদের উপর যৌন ও শারীরিক সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধি মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দেয়। ২০১৪ সালে পরিসংখ্যান অনুযায়ী যৌন ও শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়েছে ১১৭ জন নারী ও শিশু। এর মধ্যে ধর্ষন এবং গণধর্ষনের শিকার হয়েছে ২১ জন আদিবাসী নারী ও শিশু, ধর্ষনের পর হত্যা ৭ জন, শারীরিক লাঞ্চনা ও আক্রমনের শিকার ৫৫ জন, ধর্ষনের চেষ্টার শিকার ২১ জন, অপহরণ ও অপহরনের চেষ্টা শিকার ১১ জন, যৌন হয়রানী ২ জন আদিবাসী নারী ও শিশু। ২০১৩ সালে আদিবাসী নারী ও শিশু সহিংসতার শিকারের এই সংখ্যা ছিল ৬৭ জন। ২০১৩ সালের সহিংসতার শিকার আদিবাসী নারী ও শিশু থেকে ২০১৪ সালে ৫০ জন বেশী শিকার হয়েছে, যার অর্থ হলো ২০১৩ সাল থেকে ২০১৪ সালে দেড় গুণ বেশী আদিবাসী নারী ও শিশু যৌন ও শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়েছে ।

তিনি প্রবন্ধের আরও বলা হয়, ২০১৪ সালে যৌন ও শারীরিক সহিংসতার শিকার আদিবাসী নারী ও শিশুর মধ্যে শতকরা ৫৭ ভাগ হচ্ছে শিশু, যাদের বয়স ৪ থেকে ১৮ বছরের নীচে। আর শতকরা ৪৩ ভাগ ভিকটিম হচ্ছে ১৮ বছর ও তদুর্ধ্ব বয়সের নারী। আর শতকরা ৯১ ভাগ ঘটনা সেটেলার বাঙালি বা বাঙালি ভূমিগ্রাসীদের দ্বারা, শতকরা ৪ ঘটনা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং অবশিষ্ট ঘটনা আদিবাসী ব্যক্তিদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে। ২০১৪ সালে সংঘঠিত ৭৫টি ঘটনার মধ্যে ৪২টি ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। যদিও প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হয়নি। এমনকি কোন কোন মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হলেও তাদের মধ্যে অধিকাংশ গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি কয়েকদিনের মধ্যে জামিনে জেল থেকে বের হয়ে এসেছে । এছাড়া অধিকাংশ অপরাধী ভূমি জবরদখলের উদ্দেশ্যে আদিবাসী নারী ও শিশুদের উপর যৌন ও শারীরিক সহিংসতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আদিবাসীদের মধ্যে ত্রাসের সৃষ্টি করা এবং ত্রাস সৃষ্টি করে জায়গা-জমি থেকে উচ্ছেদ করার উদ্দেশ্যেই আদিবাসী নারী ও শিশুদের উপর সহিংসতা চালানো হয়ে থাকে। অধিকাংশ সহিংসতার ঘটনা আদিবাসী এবং প্রভাবশালী বাঙালি বা সেটেলার বাঙালিদের মধ্যে ভূমি বিরোধের কারণে ঘটে থাকে।

প্রবন্ধে তিনি আরও উল্লেখ করেন,পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রায় ১৭ বছর অতিক্রান্ত হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি বিরোধ এখনো নিষ্পত্তি না হওয়ায় সেটেলার বাঙালি কর্তৃক পার্বত্য চট্টগ্রামে নারীর উপর সহিংসতাসহ ভূমিকে কেন্দ্র করে আদিবাসীদের উপর প্রতিনিয়ত হামলা, হত্যা, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ইত্যাদি মানবতা বিরোধী কার্যকলাপ সংঘটিত হচ্ছে। আদিবাসী নারীর নিরাপত্তার স্বার্থে তথা পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ অতি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে অনতিবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয় মন্ত্রণালয় কর্তৃক যৌথভাবে চূড়ান্তকৃত ১৩-দফা সংশোধনী প্রস্তাব অনুসারে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশন আইন সংশোধন করা অত্যাবশই দরকার।

প্রবন্ধে তিনি আরও উল্লেখ করেন, সারাদেশে মোট ধর্ষণের চেষ্টা, ধর্ষণ ও দলগত ধর্ষণের শিকার ৬৯৮ জন নারীর মধ্যে প্রায় শতকরা ১২ ভাগ ভিকটিম হচ্ছে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর। যারা দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংম। অপরদিকে ৬৯৮ জনের মধ্যে শতকরা ৮৮ ভাগ বাঙালি জনগোষ্ঠীর। যারা দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৯৮ দমমিক ৯ ভাগ। ২০১৪ সালে কেবল পার্বত্য চট্টগ্রামে ৩৫ জন আদিবাসী নারী ও শিশু ধর্ষণের চেষ্টা, ধর্ষণ ও দলগত ধর্ষণের শিকার হয়েছে। সারাদেশের ৬৯৮ জন ভিকটিমে বিপরীতে হিসাব করলে শতকরা ৫ দশমিক শুন্য ভিকটিম হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নারী ও শিশু। যাদের মোট জনসংখ্যা শতকরা ১ ভাগের কাছাকাছি। অথচ ২০১৪ সালের মে মাসে জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের ১৩তম অধিবেশনে সরকারের প্রতিনিধি বলেছেন যে, সারাদেশের তুলনায় পার্বত্য চট্টগ্রামের নারীর উপর যৌন সহিংসতা অত্যন্ত কম। এছাড়া ২০১৪ সালের ধারাবাহিকতায় এবছর প্রথম এক মাসের মধ্যে আদিবাসী নারীদের উপর সহিংসতা উব্দেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। সম্প্রতি রাজবাড়ি জেলায় পাংশায় আদিবাসী মা এবং মেয়েকে গণধর্ষন, রাঙ্গামাটি জেলায় কাউখালীতে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষন, দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরে ভূমি দখলকে কেন্দ্র করে আদিবাসী নারীদের শ্লীলতাহানি এবং খাগড়াছড়িতে প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষনের ঘটনা ভাবিয়ে তুলেছে।

সংবাদ সন্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী নারীর উপর সংঘটিত যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, হত্যা ও অপহরণের বিরুদ্ধে যতগুলো মামলা হয়েছে সেসব মামলায় কোন দোষী ব্যক্তি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পেয়েছে এমন কোন নজির নেই। দেশের সমতল অঞ্চলে দু-একটি মামলায় আদালত অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত ও শাস্তির রায় দিলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে অধিকাংশ ঘটনায় ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপরাধীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে যায় এবং ফলশ্রুতিতে অপরাধীরা সম্পূর্ণভাবে দায়মুক্তি পেয়ে থাকে। ফলশ্রুতিতে সহিংসতার শিকার আদিবাসী জুম্ম নারীরা ন্যায় ও সুবিচার থেকে বরাবরই বঞ্চিত হয়ে আসছে। এতে করে অপরাধীরা এ ধরনের অপরাধ সংঘটনে প্রকারান্তরে আরো উৎসাহিত হচ্ছে। আদিবাসী নারীর উপর সহিংসতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো সাম্প্রদায়িক নীতি, দোষীদের দায়মুক্তি অর্থাৎ শাস্তির আওতায় না আনা, বিচার বিভাগের প্রলম্বিত বিচার প্রক্রিয়া ও বিরূপ পরিবেশ, বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে আদিবাসীদের সচেতনতার অভাব ও অনভিজ্ঞতা, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্নীতি ও অনিয়ম, আদিবাসীদের দুর্বল প্রথাগত প্রতিষ্ঠান, ভূমি জবরদখল ও ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়া, সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত আইনী ও বস্তুগত সহায়তার অভাব, ঘটনার অব্যাহত অনুগামী কর্মসূচী ও পরিবীক্ষণের অভাব, ঘটনার শিকার পরিবারের নিরাপত্তার অভাব, জাতীয় পর্যায়ের মানবাধিকার ও নারী সংগঠনের বলিষ্ঠ ভূমিকার অভাব ইত্যাদি রয়েছে।

সমতল অঞ্চলেও আদিবাসীদের ভূমি সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ভূমি কমিশন গঠনের জন্য সরকার ২০০৮ এবং ২০১৪ সালে যথাক্রমে অনুষ্ঠিত ৯ম ও ১০ম জাতীয় সংসদে নির্বাচনে অঙ্গীকার করেছে। কিন্তু সরকারের পূর্ববর্তী মেয়াদে এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ তো গ্রহণই করেনি, এমনকি কোন আলোচনাও করেনি। গত ১২ জানুয়ারি বর্তমান মেয়াদে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণের পর সরকার এ বিষয়ে এখনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলে তিনি সংবাদ সন্মেলনে দাবি করেন।

সংবাদ সন্মেলনে ৬ দফা দাবি জানানো হয়। সেগুলো হল আদিবাসী নারী ও শিশুর উপর সহিংসতা বন্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা,আদিবাসী নারী ও শিশুর উপর সহিংসতার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান,সহিংসতার শিকার আদিবাসী নারী ও শিশুদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা ও আইনী সহায়তা প্রদান, জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে দ্বিতীয় বার ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিউ-এর সময় নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতি অবসানে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয় মন্ত্রণালয় কর্তৃক যৌথভাবে চূড়ান্তকৃত ১৩-দফা সংশোধনী প্রস্তাব অনুসারে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন ২০০১ এর বিরোধাত্মক ধারা সংশোধন এবং সমতল অঞ্চলের আদিবাসীদের বেহাত হওয়া ভূমি পুনরুদ্ধারের জন্য একটি পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করা।

সংবাদ সন্মেলনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাখি দাস পুরকায়স্থ বলেন, সারাদেশের আদিবাসী নারীদের উপর সহিংসতা খুবই নিন্দনীয় এবং সহিংসতা বন্ধে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করা দরকার।

সাবিহা ইয়াসমিন রোজী বলেন, সহিংসতার শিকার আদিবাসী নারীদের মেডিকেল পরীক্ষার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিকভাবে পুনবাসন সমানভাবে জরুরী। এক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব তাদেরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে পুনবাসন এবং পাশাপাশি অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা।

দিলারা রেখা বলেন,বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলনে যে আদিবাসী নারীদের উপর সহিংসতা চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে তা অত্যন্ত উব্দেগজনক। অতি দ্রুত এর বিরদ্ধে দেশের প্রগতিশীল নাগরিক সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে এবং এ ধরনের ঘটনা যাতে বন্ধ হয় তার জন্য সরকারকে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

আদিবাসী নারী অধিকার আন্দোলনের নেতা রাখি ম্রং বলেন, আদিবাসী নারীদের জাতিগতভাবে সাংস্কৃতিক ভিন্নতার কারণে আদিবাসী নারীরা বিভিন্ন যায়গায় সহিংসতার শিকার হয়ে থাকে। সাংস্কৃতিকগত ভিন্নতা, ভূমি দখল, দোষীদের শাস্তির আওতায় না আনা, বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে আদিবাসীদের সচেতনতার অভাব ও অনভিজ্ঞতা, পার্বত্য চট্টগ্রামে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়া আদিবাসী নারীদের উপর সহিংসতার অন্যতম কারণ।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly