হেডম্যান ও কারবারীদের প্রথাগত রীতিনীতি মেনে চলে নিরপেক্ষভাবে বিচার করতে হবে—দেবাশীষ রায়

স্টাফ রিপোর্টার,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

P1450799

চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় হেডম্যান ও কারবারীদের সামাজিক বিচার বা সালিশের ক্ষেত্রে প্রথাগত রীতিনীতি মেনে চলে দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার সাথে  বিচার কাজ সম্পাদনের জন্য গুরুত্বারোপ করেছেন।

 মঙ্গলবার রাঙামাটিতে হেডম্যান(মৌজা প্রধান) ও কারবারীদের (গ্রাম প্রধান) প্রথাগত বিচার ব্যবস্থায় দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষে তিন দিনের প্রশিক্ষন কোর্সের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা গ্রীনহীলের শিখা প্রকল্পের উদ্যোগে আশিকা হল রুমে আয়োজিত প্রশিক্ষন কোর্সের উদ্বোধক ও প্রধান অতিথি ছিলেন চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়। গ্রীনহীলের নির্বাহী পরিচালক মংথোয়াই চিং মারমরা সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন কমিউনিটি লিগ্যাল সার্ভিসেস-এর কর্মকর্তা শিরীন লিরা। গ্রীনহীলের চেয়ারপার্সন টুকু তালুকদারের সঞ্চালনায় বক্তব্যে দেন যতন কুমার দেওয়ান ও আহম্মদ তাসলিন আলম। প্রশিক্ষন কোর্সে চাকমা সার্কেলের অধীনে রাঙামাটির লংগদু উপজেলা থেকে ৯ জন হেডম্যান ও ২৭ জন কারবারী অংশ গ্রহন করেন।

চাকমা রাজা তার বক্তব্যে আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন ১৯০০, পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ, পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনে স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধভাবে রয়েছে হেডম্যান-কারবারী আদালতের মাধ্যমে সামাজিক ও পারিবারিক বিষয়ে বিরোধ নিষ্পক্তি করবেন। এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামে যে সব প্রথা ও রীতিনীতি রয়েছে সেগুলো বাংলাদেশ সংবিধান দ্বারাও স্বীকৃত রয়েছে।

হেডম্যান ও কারবারীদর অনেক দায়িত্ব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথাগত রীতিনীতির ব্যাপারে কেবল হেডম্যান ও কারবারীরারা পালন করবেন তা না। তাদের ফৌজদারী  মামলার ব্যাপারে ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, চাকমা সার্কেলে পুরুষের পাশাপাশি নারী হেডম্যান ও কারবারী অংশ গ্রহন নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭০জন নারী কারবারীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আগামীতে নারী-পুরুষের সমতা আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি হেডম্যান-কারবারীদের পক্ষপাতদুষ্ট না হয়ে নিরপেক্ষভাবে সামাজিক বিচারিক কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন,এক হেডম্যান বিচারের বিচার প্রার্থীকে বেত্রাঘাতের নির্দেশ দিয়েছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন ১৯০০ দন্ডবিধিতে কোথাও উল্লেখ নেই। এটা  সংবিধান বর্হিভুত ও আর্ন্তজাতিক মানবধিকার লংঘনের সামিল। তাই হেডম্যান-কারবারীকে কোন প্রকার পক্ষপাতগ্রস্থ না হয়ে নিরপেক্ষতার সহিত বিচার বা সালিশ করতে হবে।

গ্রীনহীলের উদ্যোগে প্রথাগত বিচার ব্যবস্থায় দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষে যে প্রশিক্ষন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে তা হেডম্যান ও কারবারীদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে কাজে আসবে। তিনি জেলা জেলা প্রশাসন থেকে হেডম্যান ও কারবারীদের ডেশাগত উন্নয়নে যে প্রশিক্ষন দেয়া কমে গেছে উল্লেখ করে পুনরুজ্জীবিত করার অনুরোধ জানান।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly