স্বল্প সময়েই পার্বত্য চুক্তির বাকী ধারাগুলো বাস্তবায়ন করা হবে –নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা

স্টাফ রিপোর্টার,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

1

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা পার্বত্য শান্তি চুক্তি মোতাবেক পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সম্প্রদায়ের শান্তি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, সম্পাদিত পার্বত্য শান্তি চুক্তির অধিকাংশ ধারাই বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকী ৩টি ধারা ভূমি, পুলিশ ও পরিবেশ বিষয়গুলো বাস্তবায়নের জন্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। খুব স্বল্প সময়েই চুক্তির বাকী ধারাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে চুক্তি কাজ সম্পন্ন করা হবে।

শুক্রবার রাঙামাটিতে পাবলিক কলেজের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

3

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক ও পাবলিক কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস-চেয়ারম্যান তরুন কান্তি ঘোষ, বোর্ডের সদস্য শাহিনুল ইসলাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরার সহধর্মীনি অনামিকা ত্রিপুরা, রাঙামাটি সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অরুন কান্তি চাকমা, রাঙামাটি পৌরসভা মেয়র মোঃ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভূট্টো প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ তাসাদ্দিক হোসেন কবীর। কলেজের শিক্ষকদের পক্ষে বেগম রেকসোনা খানম এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষে মোঃ সাইফুল ইসলাম বক্তব্যে দেন।

অনুষ্ঠান শুরুর আগে তবলছড়ির আসামবস্তিস্থ নারকেলবাগান এলাকায় রাঙামাটি পাবলিক কলেজ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তুর উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা।

এদিকে, সকালের দিকে পার্বত্য সচিব কাঠালতলীস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড রেষ্ট হাউসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও শাহ বহমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ােম ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন।

রাঙামাটি পাবলিক কলেজের অধ্যক্ষ তাসাদ্দিক হোসেন কবীর বলেন, বর্তমানে প্রথম বর্ষে ২৮৫ শিক্ষার্থী কলেজে অধ্যায়ন করছে। নিয়মিত পাঠদান করছেন ১০জন শিক্ষক।

2

জেলা প্রশাসক ও রাঙামাটি পাবলিক কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও গভর্নিং বডির সভাপতি মোঃ মোস্তফা কামাল বলেন, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বহু শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ হয় না। প্রতি বছর এ জেলা থেকে তুলনামুলকভাবে যেসব শিক্ষার্থী এসএসসি পাস করে তাদের সবার পক্ষে রাঙামাটি সরকারি কলেজ এবং মহিলা কলেজে ভর্তির সুযোগ হয় না। অনেকে আছে যাদের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বাইরে গিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ সম্ভব হয় না। ফলে মাধ্যমিকের পর অনেক শিক্ষার্থীর পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। সেইসব বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সর্বস্তরের জনগণের জন্য রাঙামাটি পাবলিক কলেজের সংযোজন।

পার্বত্য মন্ত্রনালয়ের সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা তার বক্তব্যে আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পার্বত্যাঞ্চলে অনেক উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোন দেশে অঞ্চল ভিত্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশের মতো নির্দিষ্ট কোন মন্ত্রণালয় নেই। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে দেখে এরই আদলে ভারতে ও এরকম মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

CHTDB Chairman Picture 21-11-14-0.1

উল্লেখ্য, চলতি শিক্ষা বছর গত আগষ্ট মাসে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু রাঙামাটি পাবলিক কলেজের। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কলেজটির স্থাপন করা হয়। সম্পূর্ণ রাজনৈতিকমুক্ত এ কলেজেটি পরিচালিত হবে সরাসরি জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে। বর্তমানে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে শহরের তবলছড়ি মিনিস্ট্রিয়াল ক্লাবে। আসামবস্তি নারকেল বাগানের পাশে তিন একর জমির ওপর এ কলেজ অবকাঠামো নির্মানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly