সেমুতাং গ্যাস ফিল্ডের ৬নং কুপের খনন কাজ শেষ পর্যায়েঃ চলতি মাসেই দেখা দিতে পারে আশার আলো

 স্টাফ রিপোর্টার,খাগড়াছড়ি, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

DSCN1652hillbd24.com

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি সেমুতাং গ্যাস ফিল্ডের  ৫ নং কুপ সফলভাবে উৎপাদনে যাবার ১৬ মাসের মাথায় আশার আলো দেখা দিয়েছে, নিকটবর্তী ৬ নং কুপেও। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারী পুরোদমে ৬ নং কুপ খনন কাজ শুরু করে রাশিয়ান কোম্পানী গেজফর্ম’র সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘কে.এন হারবার কনসোর্টিয়াম’। কাজ শুরুর ৪০ দিনের মাথায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারী খননের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষ হয়। কোম্পানি ডিলিং কাজ শেষ করে ডি.এস.টি (ড্রিল ষ্টেনথ টেষ্ট) রিপোর্ট দিলেই উক্ত কুপে কি পরিমান গ্যাস আছে তা জানা যাবে। ‘কে এন হারবার কনসোর্টিয়াম’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই ডি.এস.টি শেষ করা হবে। আর তাতেই জানা যাবে, কী পরিমাণ গ্যাস মজুদ আছে ৬ নং কুপে।

অপরদিকে ৫ নং কুপে গ্যাসের পাশাপাশি তৈলজাতীয় দাহ্য পদার্থও উঠে আসছে। ফলে ৫ নং কুপে গ্যাস যদি নিঃশেষও হয়, তাহলে বেরিয়ে আসতে পারে জ্বালানীর নতুন সম্ভাবনা।

বিগত ২০১২ সালের ৪ ডিসেম্বর থেকে সেমুতাং গ্যাস ফিল্ডের ৫ নং কুপ থেকে দৈনিক ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রথম বারের মত জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়।

সেমুতাং থেকে উত্তোলিত গ্যাস দিয়ে মুলতঃ চট্টগ্রামের বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প কারখানা ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

সেমুতাং ফিল্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বছর যেতে না যেতে ৫ নং কুপে গ্যাসের চাপ কমে যায়। এক পর্যায়ে চাহিদার বিপরীতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেই সম্ভাবনাময় ৬ নং কুপে খননের সিদ্ধান্ত নেয়, খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

রাশিয়ান কোম্পানী ‘এরিয়েল’ ‘গেজফর্ম’ ও ‘হেলিবাটন’ মুল কাজ করলেও সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে কাজ করছে, বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান ‘কে এন হারবার কনসোর্টিয়াম’ ।

নির্ধারিত সময়ের দেড় মাস আগেই খনন কাজ সম্পন্ন হওয়ায় খুশী বাপেক্সও। কারণ উৎপাদন চুড়ান্ত হলেই এটির পূর্ন কর্তৃত্ব বুঝিয়ে দেয়া হবে, বাপেক্সকে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন পরীক্ষামূলক উত্তোলন এবং পাইপলাইন সংযোগের কাজ শেষ হলে আগামী  এক মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে এ কুপের গ্যাস।

সরেজমিন জানা গেছে, পার্বত্যাঞ্চলের একমাত্র সেমুতাং গ্যাসক্ষেত্রটি উপজেলার যোগ্যছোলা ইউনিয়নের কালাপানি এলাকায় অবস্থিত। গ্যাস ফিল্ডের ৫ নং কুপ থেকে ২০১১ সালের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পরীক্ষামুলক গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। উত্তোলনের শুরুতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে তা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে। সর্বশেষ ২০১২ সালের শেষে সফলভাবে এটি উৎপাদনে যেতে সক্ষম হয়।

‘কে এন হারবার কনর্সোটিয়াম’র প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, খনন কাজ শেষ হয়েছে গ্যাসের চাপ পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে এ কুপে কি পরিমান গ্যাস মজুত আছে। তবে আমরা আশাবাদী এখানে প্রচুর গ্যাস পাওয়া যাবে।

সেমুতাং গ্যাস ফিল্ডের ইনচার্জ মো. মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, খননের প্রাথমিক কাজ শেষ করেছে প্রকৌশলীরা। এখন পরীক্ষামূলক গ্যাস উত্তোলন করা হবে এবং ৫নং কুপ (উত্তোলনরত) থেকে ৬ নং কুপ পর্যন্ত পাইপ লাইনের কাজ শেষে আগামী দু’মাসের মধ্যেই নতুন কুপের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা যাবে বলে আশা করছি।

এদিকে ‘কে এন হারবার কনর্সোটিয়াম’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গত তিন বছর ধরে দেশীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা রাশিয়ান খনিজ কুপ খননকারী প্রতিষ্ঠান ‘এরিয়েল’র সাথে সফলতার সাথে কাজ করছি। এরিমধ্যে ১০টি ফিল্ডে কাজ করা অভিজ্ঞতা আমাদের ঝুলিতে জমেছে। আরো কিছু নতুন কুপের এগ্রিমেন্ট এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি মানিকছড়ি’র সেমুতাং গ্যাস ফিল্ডের ৬ নং কুপের ‘আশার আলো’-কে জাতীয় জীবনের অগ্রগতিতে ‘কে এন হারবার কনর্সোটিয়াম’র একটি বড়ো অংশীদারিত্বও মনে করছেন।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly