সিএইচটি কমিশনের সমন্বয়কারী হানা শামসের উপর হামলায় উদ্ধেগ ও নিন্দা পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির

ডেস্ক রিপোর্ট, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

CHT

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন(সিএইচটি-কমিশন) সমন্বয়কারী হানা শামসের উপর হামলায় গভীর উদ্ধেগ ও নিন্দা জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি।

মঙ্গলবার পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ানের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বার্তায় বলা হয়, সিএইচটি-কমিশনরে সমন্বয়কারীর হানা শামসের উপর কাপুরুষোচিত হামলার নিন্দা জানানোর ভাষাও আমাদের জানা নেই। সাম্প্রতিক সময়গুলোতে সিএইচটি কমিশনের সদস্য ও কর্মকর্তাদের উপর ক্রমাগত হামলা পরিচালনা করা হচ্ছে। কোন গণতান্ত্রিক সমাজে এ ধরনের হামলা যে কোন যুক্তি কিংবা বিচারে বাঞ্ছিত হতে পারে না।

এ ধরনের আমাদের রাষ্ট্রনায়কেরা বাংলাদেশকে একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন এ জন্যে যে, বাংলাদেশের সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে একজন ব্যক্তির মর্যাদা, স্বাধীনত ও মৌলিক মানবাধিকারের সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ২৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইনের চোখে সকলেই সমান ও সকলেরই আইনের সমান সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং ৩৯(১) অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। ৩৬ অনুচ্ছেদে নাগরিকদেরকে দেশের যে কোন অঞ্চলে অবাধে চলাচলের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। কারণ একমাসের কিছু অধিক সময়ের মধ্যে সিইচটি কমিশনের কর্মকর্তা পার্বত্য চট্টগ্রামে দ্বিতীয়বারের মত আক্রমের গভীর উদ্বিগ্ন।

প্রেস বার্তায় আরও বলা হয়, ৩ আগষ্ট রাঙামাটিতে সিইচটি কমিশনের উপর যারা আক্রমন করেছিল তাদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিতভাবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করা হলেও তাদরকে প্রশাসনের নাকের ডগায় অবাধে বিচরন করতে দেখা যায়। শান্তিপূর্ণ নাগরিক আক্রান্ত হন কিন্ত আক্রমনকারীরা ফৌজদারী অপরাধ করলেও আইন তাদের স্পর্শ করতে পারে না। এ ধরনের অবস্থা চলতে দেয়াটা যুগপৎভাবে দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। তা প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা দেখভালের দায়িত্ব যাদের, তাদের জন্য কদাচিৎ শ্লাঘার বিষয় হতে পারে। যদি এ সব অপরাধের বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তা হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিদ্যমান পরিস্থিতির বিষয়ে দেশে ও দেশের বাইরে নানা ধরনের উদ্বেগ ও প্রশ্ন দেখা দেবে, সরকারের অবস্থান প্রশ্ন বিদ্ধ করবে।

প্রেস বার্তায় বলা হয়, এ ধরনের ঘটনায় সরকারের নির্লিপ্ত থাকার কোন সুযোগ নেই। তাই সরকারের কাছে দাবি পার্বত্য চট্টগ্রামের সব সমস্যার শান্তিপুর্ন সমাধানের লক্ষ্যে অবিলম্বে পার্বত্য চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। পার্বত্য নাগরিক কমিটি মনে করে শক্তি নয়, কেবল যুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেই সমস্যার  শান্তিপুর্ন সমাধান হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার সন্ধ্যায় বান্দরবান-চিম্বুক সড়কের শৈলপ্রপাতে থেকে সিএইচটি-কমিশনের সমন্বয়কারী হানা শামস ও তার এক বান্ধবীসহ শহরে আসার পথে একটি অবকাশযাপনের পাশে ৭থেকে ৮ জনের একদল লোক তাদের গাড়ী গতিরোধ এবং লাঞ্ছিত ও মারধ করে। এ হামলা ঘটনায় পার্বত্য সম-অধিকার আন্দোলনের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly