সামাজিক উৎসব বিজু-সাংগ্রাই-বৈসুক-বিহু

ডেস্ক রিপোর্ট, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

 

bd

Rangamati  Picপার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত আদিবাসী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসবের নাম বিজু-সাংগ্রাই-বৈসুক-বিহু। প্রতি বছর এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে অর্থাৎ বাংলা বর্ষের শেষ দুদিন ও নতুন বছরের প্রথম দিন এই উৎসব পালন করা হয়। এই উৎসবকে ঘিরে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় বসবাসরত আদিবাসী জনপদগুলো উৎসবে মূখরিত হয়ে উঠে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) এগার ভাষাভাষি চৌদ্দটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আদিবাসী জাতিসত্তার বসবাস। এসব সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব হচ্ছে বিজু-সাংগ্রাই-বৈসুক-বিষু-বিহু। পার্বত্য চট্টগ্রামের বসবাসরত আদিবাসীদের এই উৎসবটি উচ্চারনগতভাবে বিভিন্ন নামের পালন করলেও এর নিবেদন ও ধরন কিন্তু একই। তাই এ উৎসবটি আদিবাসী পাহাড়িদের শুধু আনন্দের নয়, সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী সম্প্রদায়ের সামাজিক, রাজনৈতিক অর্থনৈতিক, ঐক্য ও মৈত্রী বন্ধনের প্রতীকও বটে। পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে অন্যতম চাকমারা এ উৎসবকে বিজু, মারমারা সাংগ্রাই ও ত্রিপুরারা বৈইসুক নামে অভিহিত করে থাকেন।

উৎসবের প্রথম দিন হচ্ছে ফূল বিজুঃ- এদিনে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে আদিবাসী পাহাড়ি মেয়েরা ঘরবাড়ি ও বাড়ির অঙিনা পরিস্কার করে ও অবাল বৃদ্ধবনিতা হতে সবাই নদীতে স্নান করে জল দেবের উদ্দেশ্য ফূল দিয়ে পূজা করে থাকে। এছাড়া, ছোট্ ছোট্ ছেলে-মেয়েরা ঘুম থেকে উঠে বনফূল সংগ্রহ করে বাড়ি সাজায় ও তরুন-তরুনীরা পাড়ায় পাহাড় বৃদ্ধদের শ্রদ্ধার সাথে স্নান করায়।

 Rangamati Pic

দিনভর আয়োজন করা হয় আদিবাসীদের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খেলাধূলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এদিন আদিবাসী বৌদ্ধরা বৌদ্ধ মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা, সন্ধ্যায় নদীর ঘাটে ও বাড়ির অঙিনা প্রদীপ প্রজ্জলন করে থাকেন। তবে আজকাল যুগের পরির্বতনের কারণে ঐতিহ্যবাহী অনেক রীতিনীতি হারিয়ে যেতে বসেছে।

 

 

Rangamati Festival Pic-2উৎসবের দ্বিতীয় দিন মূল বিজুঃ- এ দিনে আদিবাসীদের বাড়িতে বাড়িতে শুধূ চলবে শুধু খাওয়া-দাওয়ার পর্ব ও আনন্দ করার পর্ব। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা নতুন নতুন জামাকাপড় পড়ে থাকে। এদিনে বিভিন্ন রকমের সুস্বাদু খাবার-দাবার আগত অতিথিদের পরিবেশন করা হয়। সুস্বাদু খাবারের মধ্যে পাচনসহ(প্রায় ৩০ প্রকারের অধিক সব্জি) বিভিন্ন অন্যান্য রকমারী খাবার। এদিন ধনী-গরীব সবাইয়ের জন্য দ্বার উন্মুক্ত থাকে। মূল বিজুর দিনে আদিবাসী পাহাড়িদের তৈরী মদ এক ছোনী-দোছোনী আগত অতিথিদের পরিবেশন করা হয়। মূল বিজুর দিনটি মূলত অন্যরকম একটি দিন। যা শুধু খাওয়া-দাওয়া আর আনন্দ উল্লাসের মধ্যে মেতে থাকার দিন।

      mm

উৎসবের শেষ দিন গজ্যাপজ্যা বিজুঃ- এ দিনে আদিবাসী পাহাড়িরা সারাদিন ঘরে বসে বিশ্রাম নিয়ে থাকে। এ দিন বৌদ্ধ মন্দিরে প্রার্থনা ও বয়োজ্যেষ্ঠদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে এসে যত্নসহকারে ভাত খাওয়ানোসহ আর্শীবাদ নেয়া হয়। এদিনটিকে আদিবাসীরা মনে করে থাকে সারাদিন আনন্দ আর হাসি-খূশিতে কাটাতে পারলে সারা বছর সূখে শান্তিতে ও ধন-ধৌলতে কেটে যাবে। এ দিন তারা যে কোন প্রাণী হত্যা করা থেকে বিরত থাকেন। অন্যদিকে আদিবাসী মারমা সম্প্রদায়রা এদিনে ঐতিহ্যবাহী পানি খেলার আয়োজন করে থাকে। তারা পানি খেলার মাধ্যমে পূরনো বছরের সমস্ত গ্লানি ও দূঃখ কষ্টকে দূর করে নতুন বছরকে বরণ করে থাকেন।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

m

Print Friendly