সাজেকের মৈত্রীপুর বনানী বন বিহারে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান সম্পন্ন

 স্টাফ রিপোর্টার,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকের মৈত্রীপুর বনানী বনবিহারে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্যের মধ্য দিয়ে রোববার কঠিন চীবর দানানুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

 সাজেকের মৈত্রীপুর বনানী বনবিহার মাঠে অনুষষ্ঠিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ধর্ম দেশনা দেন রাঙামাটির রাজ বনবিহারের শ্রীমৎ ভৃগু মহাস্থবির, বনানী বনবিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ কৃপারত্ন স্থবির, খাগড়াছড়ি ধর্মপুর বিহারের ভিক্ষু শ্রীমৎ ধর্মবংশ ভিক্ষু প্রমুখ। ধর্মীয় সভায় বক্তব্য দেন কঠিন চীবর দান উদযাপন কমিটির সভাপতি বিমল কান্তি চাকমা ও ইউপিডিএফ সাজেক ইউনিট সংগঠক মিঠুন চাকমা।সভা পরিচালনা করেন রুপন চাকমা। অনুষ্ঠানে সকালের দিকে পঞ্চশীল প্রার্থনা-সূত্রপাঠ ও সদ্ধর্ম দেশনা অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে সমবেত দায়ক দায়িকা কর্তৃক পঞ্চশীল গ্রহণ-সংঘদান-অষ্টপরিষ্কার দ্রব্য দান-বুদ্ধমূর্তি দান-চীবর দান-বিবিধ দানীয় দ্রব্যাদীয় দান ও তৈরীকৃত কঠিন চীবর আনুষ্ঠানিকভাবে ভিক্ষু-সংঘের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে কয়েক হাজার ধর্মপ্রান নর-নারী অংশ নেন।

 এর আগে শনিবার পঞ্চশীল প্রার্থনা অনুষ্ঠানের পর পর বেইনের মাধ্যমে চীবর বুননের কার্যক্রম শুরু করা হয়। বিকাল থেকে শুরু হয়ে সারারাত ধরে সকাল পর্যন্ত বেইন বোনার কাজ চলে।এই সময় রাতে বেইন বোনার কার্যক্রম অনুষ্ঠান দেখতে হাজারো যুব-যুবা-দায়ক-দায়িকা রাতভর বিহারে সমবেত হন।

 ধর্মীয় সভায়, বৌদ্ধ ভিক্ষুগণ সাজেকবাসীকে চুরি-ব্যভিচার-হত্যা-হিংসা ইত্যাদির দ্বারা বশবতী না হবার জন্য উপদেশ দেন। কারোর ব্যবসায়িক-আর্থিক-সামাজিক উন্নতি দেখে হিংসা-দ্বেষ-বিদ্বেষ না করতে উপদেশ দেন। তারা বলেন, এভাবে কারোর উন্নতিতে হিংসা করলে তাতে সবার অমংগল সাধিত হয়। উপরন্তু সামাজিকভাবে কারোরই কল্যাণ সাধিত হয় না। এছাড়া ভিক্ষুগণ সৎ উপায়ে পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করে পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষন করা-মিথ্যা না বলা-ব্যভিচার না করা- ডাকাতি-লুটপাট না করা- অন্যকে না ঠকানো ইত্যাদি সাংসারিক দায়িত্ব পালন করতে দায়ক দায়িকাদের উপদেশ দান  ধর্মীয় গুরুরা।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly