সহিংসতামুক্ত নিরাপদ পার্বত্য চট্টগ্রাম ও  শান্তির স্বপক্ষে প্রচারনার লক্ষে রাঙামাটিতে মতবিনিময় সভা

স্টাফ রিপোর্টার,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

h2

পার্বত্যঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং সহিংসতামুক্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রচারনার মধ্য দিয়ে একটি অসাম্প্রায়িক নায্য সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

বৃহস্পতিবার রাঙামাটিতে সহিংসতামুক্ত নিরাপদ পার্বত্য চট্টগ্রাম ও শান্তির স্বপক্ষে প্রচারনার লক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সিএইচটিডিএফ-ইউএনডিপির সহায়তায় সিএইচটি পিসমেকার এলায়েন্স-এর উদ্যোগে একটি আবাসিক হোটেল কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত মতনিময় সভার সঞ্চালনা করেন নারী নেত্রী টুকু তালুকদার। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামাল, পুলিশ সুপার আমেনা বেগম, ইউএনডিপি-সিএইচটিডিএফ-এর ডেপুটি ডাইরেক্টর প্রসেনজিৎ চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক  কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান, জাতীয় মানবধিকার কমিশন সদস্য নিরুপা দেওয়ান, জেলা বিএনপির সভাপতি দীপেন দেওয়ান, আদিবাসী ফোরাম পার্বত্যাঞ্চল শাখার সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, রাঙামাটি প্রেস ক্লাব সভাপতি সুনীল কান্তি দে প্রমুখ। সভায় স্বাগত বক্তব্যে রাখেন সিএইচটি পিসমেকার এলায়েন্স-এর নির্বাহী সদস্য জিনাদ সুলতানা।  সভায় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অংশ গ্রহন ও মতামত তুলে ধরেন।

h1

সিএইচটি পিসমেকার এলায়েন্স-এর নেতৃবৃন্দ জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংঘাত বন্ধ করে উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠা জন্য  সিএইচটি পিসমেকার এলায়েন্স কাজ করবে। পাশাপাশি পাহাড়ী-বাঙালীর মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি ও নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধের জন্য কাজ করে যাবে।

বক্তারা আরও বলেন, পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও ১৭ বছরেও চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়িত হয়নি। পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়িত হলে পার্বত্যাঞ্চলে সংঘাত অনেকাংশে কমে যেত।  বক্তারা আগামী প্রজন্মের কাছে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও সম্প্রীতির পার্বত্য চট্টগ্রাম রেখে যেতে সবাইকে একজোট হয়ে শান্তির স্বপক্ষের কাজ করার আহ্বান জানান।

জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, শান্তি ও উন্নয়ন সম্ভব।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সদস্য নিরুপা দেওয়ান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে প্রত্যেককে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে। নিজেদের ঘর থেকে অসাম্প্রদায়িক চেতনার  আস্থার জায়গাটি তৈরী করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গড়ে তুলতে হবে।

পার্বত্য নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘ দিন সংঘাতের পর ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাবার পথ পেয়েছি। পার্বত্য চুক্তি পাহাড়ীদের জন্য এই চুক্তি নয়। এই চুক্তি পাহাড়ী-বাঙালী সকল সম্প্রদায়ের জন্য। পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন সত্যিকার অর্থে বাস্তবায়ন হয় তাহলে পার্বত্যাঞ্চলে শান্তি আসবে। তিনি আরও বলেন, পাহাড়ী-বাঙালী ঐক্যবদ্ধভাবে জনমত গড়তে পারি তাহলে এ অঞ্চলের সংঘাতকে অবশ্যই ঠেকানো সম্ভব হবে।  নেতৃবৃন্দ খোলামেলা মন নিয়ে পার্বত্যাঞ্চলের সমস্যাটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের দিকে এগুতে পারি তাহলে এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে অবশ্যই।

পুলিশ সুপার আমেনা বেগম বলেন, জনগনের দাবি বা মতামতকে প্রধান্য দিয়ে বাস্তবায়নের কাজ হল পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের। এলাকার শান্তির জন্য সকলকে একসাথে করতে হবে। এলাকায় মানুষকে শিক্ষা দিক দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে। মানুষ শিক্ষিত হলে সচেতনা বাড়বে।

জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামাল বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা সমাধানের জন্য হিতাকাংখির অভাব নেই। এখানে সবাই শান্তি জন্য কাজ করলেও ধাক্কাধাক্কিতে তা নিষ্পেষিত হচ্ছে। সব কিছুতেই পার্বত্য চুক্তিকে দেখে তাহলে কিছুই হবে না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব চুক্তি স্বাক্ষরকারীর দুপক্ষের। চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে স্বাক্ষরকারী দুপক্ষের ব্যর্থতা। চুক্তি স্বাক্ষরকারী এক পক্ষ কেন শুধু অপর পক্ষকে দোষারুপ করবে। তবে তার জন্য আলোচনায় বসতে হবে, কথা বলতে হবে।

তিনি বলেন, প্রত্যেকের কাজের মধ্য বিশ্বাস সৃষ্টি করতে হবে। গ্রহনযোগ্য আস্থা নিরপেক্ষতার ভূমিকা রাখতে হবে। এখানে শান্তি কেউ প্রতিষ্ঠা করে দিয়ে যাবে না। নিজেদের মধ্যে শান্তি  প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly