সরকার পার্বত্য চুক্তিকে খণ্ডিত ও জুম্ম জনগনের অস্তিত্ব ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে—-সন্তু লারমা

স্টাফ রিপোর্টার,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

h3

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা(সস্তু লারমা) অভিযোগ করে বলেছেন, ১৭ বছরেও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য সরকার এগিয়ে আসেনি। সরকার পার্বত্য চুক্তিকে খণ্ডিত করতে এবং পার্বত্য চট্টগ্রমের জুম্ম জনগনের অস্তিত্ব ধ্বংস করার জন্য ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি যুগ যুগ ধরে সরকার এ অঞ্চলে মুসলিম অধ্যূষিত অঞ্চল হিসেবে পরিণত করার জন্য ষড়যন্ত্রের বিদ্যমান রয়েছে। তিনি মানববেন্দ্র নারায়ন লারমার নীতি-আদর্শ ও সংগ্রামী জীবনকে ধারন করে সবাইকে জুম্ম জনগনের অধিকার আদায়ের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের আহ্বান জানান।

সোমবার রাঙামাটিতে পাবর্ত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সাংসদ প্রয়াত মানবেন্দ্র নারায়ন লারমার(এমএন লারমা) ৭৫ তম জন্ম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সন্তু লারমা এ কথা বলেন।

h2

জেলা শিল্পকলা একাডেমী চত্বরে এমএন লারমা মোমোরিয়্যাল ফাউন্ডেশন ও গিরিসুর শিল্পী গোষ্ঠীর যৌথ উদ্যোগে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব এমএন লারমা মেমোরিয়্যাল ফাউন্ডেশনের সভাপতি করেন বিজয় কেতন চাকমা। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙামাটি আসনের নির্বাচিত সাংসদ উষাতন তালুকদার, চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়, পার্বত্য মহিলা সমিতির নেত্রী মাধবিলতা চাকমা, ঐক্য ন্যাপের সাধারন সম্পাদক আসাদুল্লাহ তারেক, বিশিষ্ট সাংবাদিক বিপ্লব রহমান ও আদিবাসী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা। বক্তব্যে দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতা ত্রিজিনাদ চাকমা। স্বাগত বক্তব্যে দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা।

আলোচনা সভার শুরুর আগে শিশু-কিশোরদের নিয়ে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার অংশ গ্রহনকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরুস্কার বিতরণ করেন অতিথিরা। এর আগে জেলা শিল্প কলা একাডেমী প্রাঙ্গনে শিশু-কিশোরদের নিয়ে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এছাড়া সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রধান সন্তু  লামরা আরও বলেন, ২০০১ সালে সরকার পার্বত্যাঞ্চলের জুম্ম জনগনের কোন মতামত না নিয়ে একতরফাভাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয় জনগনের উপর ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছে। যা এখানকার বসবাসত জনগনের বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়াবে। একই অবস্থা মেডিকেল কলেজের ক্ষেত্রেও। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডকে সংবিধিবদ্ধ আইনে পরিণত করা হয়েছে। এই পার্বত্য উন্নয়ন পার্বত্য চট্টগ্রামে যে স্থানে জমি চাই দিতে হবে। পার্বত্য জেলা পরিষদের ৫ সদস্যর পরিবর্তে ১১ সদস্য করে আইন করা হয়েছে। সম্প্রতি পর্যটন বিভাগ নামে পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে তাতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে প্রতিষ্ঠান স্থাপন করার অনুমোদন দেয়া হয়েছে এতে অঞ্চলে পর্যটন উন্নয়ন নামের চরিত্রকে হনন করা হয়েছে।

h1

তিনি বলেন, এমএন লারমা পার্বত্য চট্টগ্রামের ঘুমন্ত মানুষকে বেঁচে থাকার জন্য আন্দোলনের জেগে তুলেছিলেন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা দেশের অনৈতিক,শ্রেণীগত, লিঙ্গগত বৈষম্য চেয়েছিলেন।

চাকমা রাজা দেবাশীষ রায় তার বক্তব্যে বলেন, এমএন লারমা নির্যাযিত শোষিত নীড়িত ও জাতিগত শোষনের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। ১৯৭০ সাল থেকে তাঁর নেতৃত্বে জতিগোষ্ঠীর স্বকীয়তা,কৃষ্টি, প্রথাগত অধিকার আদায়ের সংগ্রাম শুরু হয়েছিল। বর্তমানেও যেসব প্রথাগত, ভূমি অধিকার ইত্যাদি অধিকারের কথা রয়েছে তার মতামতের সাথে মিলে যায়।

তিনি বলেন, এমএন লারমা একজন সহজ সরল সাহসী সংগ্রামী নেতা ছিলেন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম আইনজীবি ছিলেন। তিনি আইনের অনেক কিছুই উপলদ্ধি করতে পেরেছিলেন। সে জন্য তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের প্রথাগত সাংবিধানিক মর্যাদার জন্য দাবি জানিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ব্যক্তি এমএন লারমার বিষয়ে অনেক কিছু জানার রয়েছে। তিনি এমএন লারমার নীতি আদর্শ ধারন করে সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উষাতন তালুকদার এমপি বলেন, পাহাড়ে বর্তমানে নীরব দুর্ভিক্ষ চলছে। ব্যাংক থেকে কোন ঋণসহ কোন সরকারী সুবিধা মিলছে না। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পন্যর সঠিক বাজার মূল্য পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, পাহাড়ের মানুষ আইনের সুশাসন পাচ্ছে না। এখানকার পাহাড় দখল হচেছ, নারী ধর্ষিত হচ্ছে, নির্যাতন নীপিড়নের শিকার হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের অনুপ্রেবশ ঘটছে। নারীদের সন্মান প্রতিষ্ঠা হচ্ছে না।

সম্পাদিত পার্বত্য চুক্তিকে পদদলিত করা হয়েছে উল্লেখ তিনি আরও বলেন, পাহাড়ে এখনো ভূমি কমিশন সংশোধন করা হয়নি। পার্বত্য চুক্তির গুরুত্বপুর্ন বিষয়ের মধ্যে ভূমি, বন ও পরিবেশ এবং পুলিশ বিভাগকে এখনো হস্তান্তর করা হয়নি।

ঐক্য ন্যাপের সাধারন সম্পাদক আসাদুল্লাহ তারেক বলেন, এমএম লারমা একজন ছিলেন চির বিপ্লবী নেতা। এদেশের অসহায় নির্যাযিত মেহনতি ও শ্রমজীবি মানুষের অধিকারের জন্য আন্দোলন করে গেছেন। এ ধরনের নেতার জন্ম পৃথিবীতে বিরল।

ঐক্য ন্যাপ পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগনের অধিকার আন্দোলনের সবসময় পাশে থাকবে বলে উল্লেখ করে বলেন, পার্বত্য চুক্তির ১৭ বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি। পার্বত্য চুক্তির পূর্নাঙ্গ বাস্তবায়ন হলে এখানকার সমস্ত সমস্যা সমাধান হতো। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধান ও শান্তির জন্য পার্বত্য চুক্তি পূর্নাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে সরকারকে।

তিনি বলেন, আজকে পাহাড়ের তরুনদের বুকে আগুন জ্বলছে অনুভব করতে পারছি। তার আগুন নেভানোর দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু এ আগুন বেশী জ্বলে উঠলে সরকার তা নেভাতে পারবে না।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly