সকল প্রাণীর প্রতি মৈত্রী ও মঙ্গল কামনায় রাঙামাটি রাজ বন বিহারে দুদিনব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসব শুরু

স্টাফ রিপোর্টার,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

12

পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা দেশের সর্ব বৃহৎ বৌদ্ধ মন্দির রাঙামাটির রাজ বন বিহারে বৃহস্পতিবার থেকে দুদিন ব্যাপী প্রধান ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান শুরু হয়েছে।

রাজ বন বিহারের প্রধান শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির অহিসংসা,অমোহ,নিরোহংকারের সুদৃষ্টি রেখে এবং সকল প্রাণীর প্রতি মৈত্রী, করুনা ও মঙ্গল কামনা করে কঠিন চীবর দান উৎসব পালনের ধর্মোপদেশ দেন।

13

রাঙামাটি রাজ বন বিহারের ৪১ তম কঠির চীবর দান উৎসবের প্রথম দিনে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিহারের পাশে বেনইঘরে রাজ বন বিহারের ভিক্ষুসংঘের প্রধান শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থরিসহ অন্যান্য ভিক্ষুসংঘ সমবেত পুনার্থীদের পঞ্চশী প্রার্থনা দেন। এর পর পর পুর্ন্যবতী উপাসিকা বিশাখা কর্তৃক প্রবর্তিত নিয়মে ২৪ ঘন্টার মধ্যে চরকা সূতা কাটা থেকে কঠিন চীবর (রং বস্ত্র) তৈরী স্থান বেইন ঘর উদ্বোধন করেন চাকমা চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়।

পরে চরকা-চরকীতে সূতা কাটার উদ্বোধন করেন নতুন চাকমা রানী ইয়ান ইয়ান। এ সময় অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজ বন বিহার উপাসক-উপাসিকা পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি গৌতম দেওয়ান, সাধারন সম্পাদক প্রতুল বিকাশ চাকমা ও  জাতীয় মানবধিকার কমিশনের সদস্য নিরুপা দেওয়ান, এ্যাডভোকেট সুস্মিতা চাকমাসহ বিহার পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ।

14

বেইন ঘর ও চারকায় সূতা কাটা উদ্বোধনের পর তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শত শত আদিবাসী নারী-পুরুষ চারকায় সূতা কাটা, বেইন বুনা শুরু করেন। পুর্ণার্থীরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে জুমে উৎপাদিত তুলা চরকায় সূতা কাটা,কাপড় বুনন, রংকরনসহ চীবর তৈরীর পর কাল শুক্রবার ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানিকভাবে ভিক্ষু সংঘের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে, রাজ বন বিহারের ৪১ তম কঠিন চীবর দান উৎসবকে ঘিরে রাঙামাটি শহর উৎসবের নগরীতে পরিনত হয়েছে। রাজ বন বিহারের পাশে হস্তশিল্প, বস্ত্র, ধর্মীয় সিডি ক্যাসেড, বইপত্রসহ নানা পন্যর মেলার পসরা বসানো হয়েছে। এছাড়া বিনোদনের জন্য নাগরদোলাসহ নানান খেলাধুলা রয়েছে। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় পুর্নার্থীদের উপছে পড়ার ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। রাঙামাটি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ এ অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠ ও শান্তিপুর্নভাবে সম্পন্ন করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

15

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চাকমা রাজা দেবাশীষ রায় বলেন, আড়াই হাজার বছর পূর্বে গৌতম বুদ্ধের প্রবর্তিত নিয়মে ২৪ ঘন্টার মধ্যে থাইল্যান্ড,মিয়ানমারসহ বৌদ্ধ প্রধান দেশে চীবর তৈরী করা হলেও এখন আর তৈরী করা হয় না। বর্তমানে বিশ্বের মধ্যে একমাত্র পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজবন বিহারে ২৪ ঘন্টার মধ্যে কাপড় তৈরী করে ভিক্ষু সংঘের কাছে এ চীবর দান করা হচ্ছে। তাই একদিকে এ বেইন বুননের মাধ্যমে প্রবর্তিত ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপিত হচ্ছে। অন্যদিকে বেইনের শিল্পকে প্রতিপালন করা হচ্ছে।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly