পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশনের সংশোধনী আইন দ্রুত জাতীয় সংসদে তোলা হবে–গওহর রিজভী

বিশেষ প্রতিনিধি, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

IMG_6923

প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী বলেছেন, পার্বত্য চুক্তির একটি বড় অংশ হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভুমি বিরোধ নিষ্পক্তি কমিশন। তাই এই ভূমি কমিশন আইনের কার্যক্রম শুরু করতে খুব শিগরিই পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশনের সংশোধনী আইন দ্রুত জাতীয় সংসদে তোলা হবে।

তিনি আরও বলেন, চুক্তি সম্পাদনের অনেক বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া দুঃখজনক। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামের মূল সমস্যা ভূমির চুড়ান্ত সমাধান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার আন্তরিকতার সাথে এগিয়ে এসেছে।

বুধবার রাঙামাটিস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড সন্মেলন কক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পার্বত্য ভুমি কমিশনের কার্যক্রম বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা শেষে এক প্রেস ব্রিফিং তিনি এ কথা বলেন।

11

প্রেস ব্রিফিং-এ গওহর রিজভী আরও বলেন, আজকের মতবিনিময় সভাটি মূলত ভুমি কশিনের চেয়ারম্যান নতুন যোগদান করেছেন। ভুমি কমিশনের সদস্য, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, তিন জেলার সাংসদ,জেলা প্রশাসকদের সাথে প্রোগ্রেসিভ নিয়ে আলোচনা করেছি যে আমরা ভালভাবে কাজ করছি। আমরা সকলেই একসাথে কাজ করছি। আমাদের মধ্যে কোন ভিন্নতা নেই।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাঙামাটিতে মেডিকেল কলেজ এবং বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন বিষয়টি আলাদা, এটির সাথে কোন সম্পর্ক নেই। সেই বিষয়টি নিয়ে আলাদাভাবে কথাবার্তা হচ্ছে।

প্রেস ব্রিফ্রিং এ সন্তু লারমা আজকে মতবিনিময় সভায় আমরা সবাই স্ব-স্ব অবস্থান থেকে আন্তরিকতা নিয়ে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করার চেষ্টা করেছি উল্লেখ করে বলেন, সংশোধিত পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশন আইন প্রনীত হলে কমিশনের কাজ দ্রুত সম্প্রসারিত হবে। তিনি অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, অহযোগের আন্দোলন কর্মর্সূচি অনেক দুরে আছে। সরকারের পক্ষ থেকে কি কি উদ্যোগ নেবে, না নেবে না। তবে আমরা অবশ্যই আশা করবো সরকার পক্ষ থেকে একটি উদ্যোগ আসবে।

অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। সভায় সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈ সিং এমপি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা(সন্তু লারমা), ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরনার্থী পুর্নবাসন বিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান যতিন্দ্র লাল ত্রিপুরা, পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আনোয়ারুল হক, ভূমি মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ শফিউল আলম, পার্বত্য মন্ত্রনালয়ের সচিব নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, চট্টগ্রাম বিভাগী কমিশনার মোঃ আব্দুল্লাহ, রাঙামাটি আসনের সাংসদ উষাতন তালুদকার, তিন পার্বত্যজেলা সংরক্ষি মহিলা আসনের সাংসদ ফিরোজা বেগম চিনু, খাগড়াছড়ি আসনের সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চাথোয়াই অং মারমা, বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যশহ্লা মারমা,চাকমা সার্কেল চীফ দেবাশীষ রায়, মং সার্কেল চীফ সাচিং প্রু চৌধুরী, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও তিন পার্বত্য জেলা প্রশাসকগন।

Rangamati Picture -28-01-15-03

এদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পার্বত্য ভুমি কমিশনের কার্যক্রম বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের মতবিনিময় সভাটি প্রায় দু ঘন্টা স্থায়ী হয়। সভায় বিশেষ করে পার্বত্য ভূমি কমিশন আইন নিয়ে আলোচনায় গুরুত্ব পায়। মতবিনিময় সভায় আগামী এক মাসের মধ্যে নব গঠিত ভুমি কমিশনকে তাদের কার্য প্রনালী নির্ধারনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সভার একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সন্তু লারমা পার্বত্য চুক্তির সম্পাদনের দীর্ঘ দিন পরও সেনা শাসন অব্যাহত থাকার বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে অভিহিত করে এর চুড়ান্ত সমাধান কামনা করেন। তিনি ভূমি কমিশনসহ অন্যান্য সমস্যা বাস্তব সমাধান করে পার্বত্যাঞ্চলে বসবাসরত পাহাড়ী ও স্থায়ী বাঙালীদের জন জীবনের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

সূত্র আরও জানায়, নব গঠিত ভূমি কমিশন চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আনোয়ারুল হক তার বক্তব্যে মানুষ থাকলে বিরোধ থাকবে, আর বিরোধ হলে তার নিষ্পত্তিরও প্রয়োজন। তাই বিচারের মাধমে নিষ্পত্তি নিরসনের জন্য আইনের যথাযথ প্রয়োগকে প্রাধান্য দিতে তিনি কমিশনের সকল সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি সহযোগিতা কামনা করেছেন।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly