লাখো পুর্নার্থীদের সমাগমের মধ্য দিয়ে রাঙামাটির রাজ বন বিহারে দুদিনের কঠিন চীবর দান সমাপ্তি

স্টাফ রিপোর্টার,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

3

দেশ ও বিশ্বের সূখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দেশের সর্ব বৃহৎ বৌদ্ধ মন্দির রাঙামাটির রাজ বন বিহারের দুদিন ব্যাপী প্রধান ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান শুক্রবার সমাপ্তি ঘটেছে। দুদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের শেষ দিনে লাখো বৌদ্ধ পূনার্থী যোগদান করেন। এতে ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে।

রাঙমাটির রাজ বন বিহার প্রাঙ্গনে আয়োজিত ৪১তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানে উপস্থিত লাখো পূর্ন্যার্থীদের উদ্দেশ্য ধর্ম দেশনা দেন রাঙামাটি রাজ বন বিহারের ভিক্ষংসংঘের প্রধান শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির। এছাড়া ধর্ম দেশনা দেন ফুরামোন আর্ন্তজাতিক ভাবনা কেন্দ্রের প্রধান শ্রীশৎ বৃগু মহাস্থবির ও নানিয়ারচর রত্নাংকুর বন বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ বিশুদ্ধানন্দ মহাস্থবির। অনুষ্ঠানে বক্তব্যে দেন চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়। প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো বাণী পাঠ করে শুনান রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা।

2

স্বাগত বক্তব্যে রাখেন রাজ বন বিহার পরিচালনা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি গৌতম দেওয়ান। এসময় অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোস্তফা কামাল, পুলিশ সুপার আমেনা বেগম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ, চাকমা রানী ইয়ান,ইয়ান, সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল(অবঃ) অনুপ দেওয়ান, জেলা বিএনপি নেতা দীপেন দেওয়ানস বোমাং সার্কেলে রাজ কন্যা জিনিয়াসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে অসুস্থতার কারণে উপস্থিত থাকতে না পারায় রাঙামাটি আসনে নির্বাচিত সাংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার বক্তব্যে পড়ে শুনানো হয়।

এর আগে ২৪ ঘন্টার মধ্যে জুমে উৎপাদিত তুলা থেকে সূতা, কাপড় বুননসহ তৈরীকৃত কঠিন চীবর বেইন ঘর থেকে অনুষ্ঠান মঞ্চে নিয়ে আসেন দায়ক-দায়িকারা। কিছুক্ষন পর রাঙামাটি রাজ বন বিহারের ভিক্ষংসংঘের প্রধান শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকা মহাস্থবিরের নেতৃত্বে ভিক্ষুসংঘ মন্ডলী মঞ্চে আসলে লাখো পুর্ণার্থী দাঁিড়য়ে তিনবার সাধুু উচ্চারণ করেন। ধর্মীয় সভা শুরুর আগে স্থানীয় শিল্পীরা ধর্মীয় সংগীত পরিবেশন করেন।

1

এরপর উপস্থিত হাজার হাজার ধর্ম প্রান নর-নারীরা পঞ্চশীল প্রার্থনা ও কঠিন চীবর উৎস্বর্গ করা হয়। উৎস্বর্গকৃত কঠিন চীবর চাকমা রাজা উপস্থিত ভিক্ষুসংঘের প্রধানের কাছে হস্তান্তর করেন। অনুষ্ঠানস্থলে লাখো পুর্ণাথীদের যোগদানে বিহার প্রাঙ্গনে ঢিল ধারনের জায়গা ছিল না।

অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুরা তথাগত বুদ্ধের বাণী ও পরিনির্বাণপ্রাপ্ত শ্রদ্ধেয় বনভান্তের উপদেশ মেনে চলার হিতোপোদেশ দেন। হিতোপোদেশে নিজেদের চিত্তকে সংযম করতে পারলে এবং অনুত্তোর ও লোকোত্তোর জ্ঞান দিয়ে কঠিন চীবর দানসহ নানান দান কার্য সম্পাদন করতে পারলে দুঃখ থেকে মুক্তি লাভ হবে। দেশের সূখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি আসবে।

5

অনুষ্ঠানে চাকমা রাজা দেবাশীষ রায় বলেন, মহাপরিনির্বাণ প্রাপ্ত শ্রদ্ধেয় বনভান্তের নির্দেশে ৭০ সাল থেকে ২৪ ঘন্টার মধ্য কাপড় তৈরী করে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান পালিত হয়ে আসছে। তাই এ কঠিন চীবর দান উৎসবের মধ্য দিয়ে একদিকে ভগবান বুদ্ধ ও মহাপূর্নবতী বিশাখাকে শ্রদ্ধা করছি। অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রথাগত রীতিনীতিকে লালন-পালন এবং জুমে উৎপাদিত তুলা চাষ, বেইন বুনাসহ ঐতিহ্যবাহী কৃষ্টিকে ধরা রাখা হচ্ছে।

তিনি নারী-পুরুষ একসাথে ঐক্যবদ্ধভাবে থেকে ভগবান বুদ্ধ, শ্রদ্ধেয় বনভান্তের উপদেশ ও বানী নিয়ে বুদ্ধ ধর্মকে প্রতিপালন করার আহ্বান জানান। তিনি এ কঠিন চীবর দানের মাধ্যমে নির্বাণ হেতু উৎপন্ন হয়ে জগতের সকল প্রানীর সুখ ও শান্তির কামনাও করেন।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা.সিআর.

Print Friendly