লক্ষ্মীছড়িতে ইউপিডিএফ নেতা রুইখই মারমার পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

ডেস্ক রিপোর্ট, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়িতে বৃহস্পতিবার ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের(ইউপিডিএফ) কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ রুইখই মারমার  পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

ইউপিডিএফের লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা ইউনিটের বিধান চাকমার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বার্তায় বলা হয়, ইউপিডিএফের খাগড়াছড়ি জেলা ইউনিটের সংগঠক অংগ্য মারমার সভাপতিত্বে স্বরণ সভায় বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সদস্য সচিব রিপন চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি বিপুল চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রিনা চাকমা ও লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অংগ্য প্রু মারমা প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আপ্রুসি মারমা। এছাড়া অনুষ্ঠানে শুকনাছড়ি মৌজার হেডম্যান সুপ্রীতি বিকাশ চাকমা সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শত শত লোক যতীন্দ্র কার্বারী পাড়া থেকে মিছিল সহকারে অনুষ্ঠানস্থল লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা সদরে যেতে চাইলে পুলিশ বাদী পাড়ায় নামক স্থানে তাদেরকে আটকিয়ে দেয়। ফলে সেখানেই রাস্তার উপর স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রথমে অস্থায়ীভাবে নির্মিত শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর দুই মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

প্রেস বার্তায় দাবি করা হয়, অনুষ্ঠান বানচাল করে দেয়ার লক্ষ্যে সকাল থেকে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্য  ও প্রশাসনের নানা ষড়যন্ত্র শুরু করে। এতে দুল্যাতলীসহ বিভিন্ন স্থানে  আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা স্মরণসভা অনুষ্ঠানে আসার সময় লোকজনকে প্রকাশ্যে বাধা দেয়। যদিও উপজেলা ও জেলা প্রশাসনকে এ বিষয়ে লিখিত অবগতিপত্র দেওয়া হয়েছিল। ফলে অনেকে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি।

বক্তারা স্মরণসভায় বলেন  রুইখই মারমাকে হত্যার ৫ বছর অতিক্রান্ত হলেও হত্যাকারীদের এখনো গ্রেফতার করা হয়নি। খুনীরা এখনো প্রকাশ্যে প্রশাসনের নাকের ডগায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে আগলে রেখেছে। ফলে তারা খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মুক্তিপণ আদায় সহ নানা অপকর্ম সংঘটিত করছে। বক্তারা অবিলম্বে রুইখই মারমার খুনী বোরকা পার্টির সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধের দাবি জানান।

বক্তারা রুইখই মারমার আদর্শ ও চিন্তাকে সমুন্নত রেখে পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্ম জনগণের বাঁচার একমাত্র দাবি পূর্ণস্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে এগিয়ে নেয়ার জন্য সমবেত জনতার প্রতি আহ্বান জানান।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly