রোয়াংছড়িতে বোল্ডার পাথর উত্তোলনের মহোৎসব,পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

বান্দরবান প্রতিনিধি, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম 

p-2hillbd24.com

বান্দরবানে রোয়াংছড়ি উপজেলার ঘেরাউ এলাকায় ক্রিংদাইং ঝিরি থেকে বোল্ডার পাথর উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। পাথর উত্তোলন পারমিটের(সরকারি অনুমতি পত্র) শর্তে মাটি খুঁড়ে বা পাহাড় কেটে পাথর উত্তোলন না করার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ।

এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেছেন, ঘেরাউ মৌজা প্রধান শৈসাঅং হেডম্যানের নামে ৩৪৯নং ঘেরাউ মৌজায় বলগা পাশের ঝিরি,ছোট বৈক্ষ্যং ঝিরি ও ঘেরাউ প্রাংসা ঝিরি থেকে বিশ হাজার ঘনফুট পাথর উত্তোলনের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অনুমতি পত্র দেয়া হলেও অনুমতি পত্রের শর্ত ভঙ্গ করে ক্রিংদাইং ঝিরি থেকে পাথর উত্তোলন করা হয়েছে। সরকারীভাবে পাথর উত্তোলন পারমিটের শর্তেই রয়েছে পাথর উত্তোলন করতে হলে মাটি কাটা বা পাহাড় কাটা যাবে না। কিন্তু সরকারী শর্ত না মেনে পাথর উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

এদিকে উপজেলা পাথর উত্তোলন তদারক কমিটি থাকলেও তাদের কাছে কোন উত্তোলিত পাথরের কোন হিসাব নেই বলে তারা জানিয়েছেন।

p-1hillbd24.comএলাকাবাসী লাবুসে মারমা অভিযোগ করেছেন, পাথর উত্তোলনের জন্য নির্ধারিত ঝিরি থেকে পাথর উত্তোলন করা হয়নি। মাটি খুঁড়ে এবং ক্রিংদাইং ঝিরির বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দিয়ে ঝিরির গতিরোধ করা হয়েছে। ঝিরির প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পাহাড় কেটেছে। মাটি খুঁড়ে উত্তোলন করা হয়েছে বোল্ডার পাথর। এতে ঝিরির পানি শুকিয়ে যাচ্ছে।এতে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

গ্রামবাসী মুইঅং মারমা(৭৫)জানান,ক্রিংদাইং ঝিরিতে পাথর নেই। সব উত্তোলন করা হয়েছে। পাথর নেই তো,ঝিরিতে পানি নেই। পানি না থাকলে ঝিরিতে মাছ,কাঁকড়া,চিংড়ি,শামুকও বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। পানি ঘোলাতে হয়ে দূষিত হচ্ছে।

বোল্ডার পাথর ক্রেতা আবুল বশর জানান, শৈসাঅং হেডম্যানের দেখানো ঝিরি থেকে পাথর উত্তোলন করা হয়েছে। তবে মাটি খুঁড়ে ও পাহাড় কেটে পাথর উত্তোলনের বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি তিনি।

পরিবেশ কর্মী জুয়াম লিয়ান আমলাই অভিযোগ করে জানান, পাথর উত্তোলনের অনুমতি পত্রের শর্ত মানা হচ্ছে না। নির্ধারিত ঝিরি থেকে পাথর উত্তোলন না করে বেআইনীভাবে অন্য ঝিরি থেকে পাথর তোলা হচ্ছে তার বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। পরিবেশ বাঁচাতে পাথর উত্তোলনের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

মৌজা প্রধান শৈসাঅং হেডম্যান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তাঁর নামে বিশ হাজার ঘনফুট পাথর উত্তোলনের অনুমতি রয়েছে। তিনি পাথর উত্তোলন অনুমতি পত্রের শর্ত মেনেই বৈধভাবে পাথর উত্তোলন করছেন বলে দাবি করেন।

রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইসমাইল হোসেন সরেজমিনে তদন্ত করে বেআইনির কোন কাজ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly