রোয়াংছড়িতে দুই ত্রিপুরা পরিবারকে উচ্ছেদের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি,বান্দরবান,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নের ৩৪০নং তারাছা মৌজায় শনিবার বন বিভাগ কর্তৃক দুই ত্রিপুরা পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে বন বিভাগের দাবি ওই দুটি পরিবার জোরপূর্বক দখল করে বসতি স্থাপন করেছে। উচ্ছেদ করতে বন বিভাগের কোন জায়গা নোটিশ দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

এদিকে এ ঘটনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও পাহাড়ীরা নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জানা গেছে, শনিবার বান্দরবার জেলা বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) কর্মকর্তা মো: রফিকুজ্জামান শাহ, রেঞ্জার আবু তাহের ও কর্মচারীরাসহ ১০ জনের একটি দল দা, কুড়াল, সাবল, করাত, হাতুড়ি নিয়ে ৩৪০নং তারাছা মৌজায় যান। দুই ত্রিপুরা পরিবারকে জায়গা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে তারা চলে যেতে না চাইলে পরিবারের দুই পুরুষ সদস্যকে শারীরিকভাবে আঘাত করে বলে অভিযোগ। তবে বাধা দিতে গেলে পুলিশে দেয়ার ও মামলার ভয় দেখানো হয়। এরপরও বাধা দিতে গেলে তাদেরকে দেশিয় অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখানো হয়। তারপর বন কর্মকর্তার নির্দেশে শুরু ঘর ভাঙ্গার ধ্বংস যজ্ঞ। দা দিয়ে ঘরের টিনের বেড়াগুলো কেটে টুকরো টুকরো করা হয়। রান্নার পাতিল, কলসি ও প্লেইট কেটে টুকরো টুকরো করে দেয় বন বিভাগের লোকজন। ভয়ে প্রাণ বাচাতে পাশের জঙ্গলে আশ্রয় নেয় ত্রিপুরা পরিবারগুলো। জঙ্গলের ভেতর থেকে তাকিয়ে দেখতে হয় কিভাবে তাদের ঘর ভাঙ্গা হচ্ছে।

খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌছার পর বন বিভাগের লোকজন অভিযান বন্ধ করে। লুকানোর চেষ্টা করা হয় দা, কুড়াল, সাবল, করাত, হাতুড়ি গুলো। অবশ্যই সাংবাদিকদের দেখার পর পরিবারের লোকজন জঙ্গল থেকে বের হয়ে আসেন। ক্ষতিগ্রস্থ পাচি খাঁ ত্রিপুরা ও অনাচন্দ্র ত্রিপুরা জানান, হঠাৎ করে ১০ থেকে ১২জন লোক এসে তাদের ঘরে উপস্থিত হয়। ঘর ছেড়ে চলে যেতে বলে। কি জন্য চলে যাবো জানতে চাইলে কোনো উত্তর না দিয়ে ঘর ভাঙ্গা শুরু করেন তারা। ভয়ে তারা পরিবারের লোকজনদের নিয়ে জঙ্গলে গিয়ে আশ্রয় নেন।

জায়গার মালিক বাচমং মার্মা বলেন, তিনি ১৯৯০ সাল থেকে হেডম্যান রিপোর্ট নিয়ে ওই জায়গা ভোগ দখলে আছেন। ওই জায়গায় তিনি মূল্যবান সেগুন গাছ লাগিয়েছেন। সেগুন গাছ বড় হওয়ার পর গত তিন বছর আগে তা বিক্রি তা করে দিয়েছেন। সেগুন গাছ বিক্রি এক বছর পর সেখানে আবার রাবার গাছ রোপন করেছেন। তিনি আরও বলেন বন বিভাগের কর্মকর্তা এই বিষয়ে তাকে কোনো নোটিশ প্রদান করেনি। মোখিকভাবেও কিছু বলেনি। হঠাৎ করে এসে বন বিভাগের লোকজন জায়গাটি তাদের বলে দাবি করছে।

জেলা বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) কর্মকর্তা মো: রফিকুজ্জামান শাহ বলেন, এটি বন বিভাগের জায়গা। তারা জোরপূর্বক দখল করে বসতি স্থাপন করেছে। উচ্ছেদের ব্যাপারে তাদেরকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বন বিভাগের জায়গা নোটিশ দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। আপনাদের জায়গা দখল করে রাবার বাগান গড়ে তোলার সময় কোনো বাধা নিষেধ দেওয়া হয়েছিল প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা বাধা নিষেধ দিলেও কর্ণপাত করে না। তাদেরকে দখল ছেড়ে চলে যাওয়ার কোনো সুযোগ না দিয়ে এভাবে কি অন্যজনের ঘর ভাঙ্গার কোনো বৈধতা আছে কিনা? তিনি বলেন, সবকিছু উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিদের্শে হয়েছে। আমি কেবল হুকুম পালন করতে এসেছি।

এই ব্যাপারে বান্দরবানের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হককে তার মুঠো কয়েকবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

এদিকে পাহাড়ী নেতারা জানান,বন বিভাগের সরকারি কর্মকর্তাদের হাতে ‘আদিবাসীরা’ যে নিরাপদে নেই তার প্রমাণ তারা নিজেরাই দিয়েছে। এইটাতো সরকার জানান দিচ্ছে নিজ ভূমিতে ‘আদিবাসীরা’ কিভাবে সংগ্রাম করে বেঁচে আছে। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে যেখানে সরকার তার নাগরিকদের নিরাপত্তা দেয়ার কথা সেখানে সরকার নিজেই আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।

 জেএসএস বান্দরবান জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ক্যবামং মার্মা বলেন, এই দিনে এমন ঘটনা আদিবাসীদের জন্য দু:খজনক। সরকার বাংলাদেশ থেকে ‘আদিবাসীদের’ নাম, চিহ্ন মুছে ফেলতে সরকারি কর্মকর্তাদের এখন ব্যবহার করছে।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly