রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব নয়–দুদক চেয়ারম্যান

স্টাফ রিপোর্টার, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

hhillhillbd24.com

দূর্নীতি দমন কমিশন(দুদক) চেয়ারম্যান মোঃ বদিউজ্জামান বলেছেন রাজনৈতিক সদিচ্ছা না  থাকলে দেশের দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব নয়। তিনি দূর্নীতি প্রতিরোধে দুদকের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতা,সুশীল সমাজসহ দেশের আপামর জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পাশাপাশি দেশকে ভালবেসে দূর্নীতির বিরুদ্ধে সকলকে একসাথে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, দুনীর্তির কারণে আমাদের দেশে অর্থনৈতিক মুক্তি সম্ভব হচ্ছে না। তবে দুনীর্তি নিয়ন্ত্রণ করতে অনেক সময় লাগবে।

তিনি আরও বলেন, এক সময় দুদকের বিভিন্ন মামলা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মনিটরিং করা হলে ও স্বচ্ছতার স্বার্থে এখন তা করা হয়না। দুদকের বিষয়ে এখন দুদকই সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবংএর মাধ্যমে দুদক স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে।

বুধবার দুপুরে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত পৃথক দুটি মতবিনিময় সভায়  প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুদক চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কে আয়োজিত মতবিনিময়সভায় সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব ড.মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান। বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিভাগের দুদকের পরিচালক আব্দুল আজিজ ভুঁইয়া,রাঙামাটি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ সাইফুদ্দিন আহমেদ,রাঙামাটি পুলিশ সুপার আমেনা বেগম, রাঙামাটি জেলা সিভিল সার্জন ডা.মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান,রাঙামাটি পৌরসভা মেয়র মোঃ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী,রাঙামাটি প্রেস কাবের সভাপতি সুনীল কান্তি দে,রাঙামাটি সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা রহমান শম্পা প্রমূখ। এ ছাড়া মতবিনিময় সভার উন্মুক্ত আলোচনায় রাঙামাটির বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি,রাজনৈতিক,সামাজিকও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

 মত বিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে জেলা উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলো দুনীর্তির আখড়ায় পরিণত হচ্ছে। এসকল প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নেই। যারা নির্বাচিত হচ্ছেন তারা দুনীর্তিতে জড়িয়ে পড়ছেন। জেলা পরিষদ ও উন্নয়ন বোর্ডে বিশেষ বরাদ্দ ও বেশি বরাদ্দ দেয়ায় সেখানেই দুনীর্তি বেশি হচ্ছে। যারা চেয়ারম্যান মেম্বার হচ্ছেন তারা টাকা-পয়সার মালিক হচ্ছেন।এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্যেও মাধ্যমে প্রচুর ঘুষ নেয়া হয়।  সামান্য শিক্ষক পদে ঘুষ নেয়া হয় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। তারা এ অবস্থা থেকে অচিরেই উত্তরনের দাবি জানান দুদক চেয়ারম্যানের কাছে।

বক্তারা রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার উপজেলাগুলোতে দুর্নীতি দমন কমিশনের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ে না বলে ও দুদক চেয়ারম্যানকে অবহিত করে বলেন, দুনীর্তি প্রতিরোধ কমিটিগুলোতে বির্তকিত লোকজনদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে।  জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে উন্নয়ন সমন্বয় ও আইনশৃঙ্খলা সভায় যাতে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির নেতৃবৃন্দকে আহবান করা হয় সে ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য  দুদক চেয়ারম্যানের কাছে দাবী জানান।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly