রাজধানীতে দুই দিনব্যাপি জাতীয় আদিবাসী নারী সম্মেলন শুরু

ঢাকা ব্যূরো, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

aa

আদিবাসী নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্য ও সংহতি জোরদার  লক্ষে শনিবার থেকে ঢাকায় দুদিন ব্যাপী  জাতীয় আদিবাসী নারী সম্মেলন শুরু হয়েছে।

রাজধানী ঢাকার সিবিসিবি মিলনায়তনে বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক ও কাপেং ফাউন্ডেশন যৌথভাবে আয়োজিত সন্মেলনে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও উদ্ধোধক ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম। ইউরোপিয় ইউনিয়ন এবং অক্সফাম এর আর্থিক সহযোগিতায় সকাল ১০টায় সম্মেলনের শুরুতেই আদিবাসী শিল্পীদের সাথে সাথে সম্মেলনে আগত অংশগ্রহণকারীদের সকলের কন্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে এই সম্মেলনের শুরু হয়। এরপর অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানমসহ উদ্বোধনী অধিবেশনের অতিথিবৃন্দরা মোমবাতি জালিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক মিনু ম্রং। উপস্থিত  ছিলেন, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, অক্সফামের প্র্রোগ্রাম ম্যানেজার এম বি আখতার, কাপেং ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা মঙ্গল কুমার চাকমা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের যুগ্ম আহ্বায়ক ফ্লোরা বাবলি তালাং। সঞ্চালনা করেন নারী নেটওয়ার্কের যুগ্ম আহ্বায়ক চঞ্চনা চাকমা। বক্তব্য রাখেন, অক্সফামের প্রোগ্রাম ম্যানেজার এম বি আখতার।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অক্সফামের প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর সৈকত বিশ্বাস; কাপেং ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার হিরন মিত্র চাকমা; প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর বাবলু চাকমা; গবেষনা সহযোগী মানকি সরেনসহ বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিরা।

উদ্বোধনী অধিবেশনের পর পর বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের গত দুই বছরের কার্যক্রম তুলে ধরেন নেটওয়ার্কের সদস্য ফাল্গুনী ত্রিপুরা। এরপর পার্বত্য চট্টগ্রাম, উত্তরবঙ্গ, বৃহত্তর ময়মনসিংহ, সিলেট, উপকূল এবং ঢাকা অঞ্চলের আদিবাসী নারী প্রতিনিধিরা তাদের স্ব স্ব অঞ্চলের নারীদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে রিপোর্ট পেশ করেন।

দুই দিনব্যাপি এই সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে আরও যোগদান করার কথা রয়েছে সাবেক তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের এ্যাডভোকেট রাখী দাশ পুরকায়স্থ, কাপেং ফাউন্ডেশনরে চেয়ারপার্সন ও জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা,আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদ ঢাকা অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক রাখী ম্রং ও  কাপেং ফাউন্ডেশনের পরিচালক পল্লব চাকমা।

সম্মেলনে পাহাড়, সমতল এবং ঢাকায় অবস্থানরত চাকমা, সাঁওতাল, মারমা, উরাও, রাখাইন, গারোসহ বিভিন্ন আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর প্রায় একশত আদিবাসী নারী যোগ দেন। রোববার আদিবাসী নারীদের অধিকারের ঘোষনাপত্র পাঠের মধ্য দিয়ে দু’নিব্যাপি এই সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটবে।

কাপেং ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা মঙ্গল কুমার চাকমা বলেন, সারাদেশের অঞ্চল পর্যায়ের নারী সংগঠনগুরো আরো বেশী জোরালো ভাবে কাজ করতে হবে এবং এই সংগঠনগুলোকে একটি নেটওয়ার্কের মধ্যে থেকে কাজ করতে হবে। এতে করে সকল আদিবাসী নারীদের মধ্যে যেমন একটি যোগাযোগ তৈরি হবে তেমনি নারী আন্দোলন আরো বেগবান হবে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় নারী আন্দোলনের সাথে আদিবাসী নারীদের আন্দোলনকে সংযুক্ত করতে হবে। এজন্য আদিবাসী নারীদের পাশে জাতীয় নারী সংগঠনের নারী নেতৃত্বকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

আদিবাসী নেতা সঞ্জীব দ্রং বলেন, আদিবাসী হওয়ার কারনে, নারী হওয়ার কারণে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসসহ আদিবাসী নারীরা ৫টি স্তরে বৈষম্যের শিকার হন। এমনকি গারো, খাসিয়াদের মতো মাতৃসূত্রীয় সমাজেও নারীরা পুরোপুরি অধিকার পায়না।

তিনি আরো বলেন, আদিবাসী নারীরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তহীনতায় আছে। আদিবাসী নারীর উপর প্রশাসন, রাষ্ট্র অবহেলা করে। ধর্ষিত হলে পুলিশ অপেক্ষা করে কখন থানায় অভিযোগ হবে তারপর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এভাবে আদিবাসী নারীরা শুধু লাঞ্চনার শিকার হয়। আদিবাসী নারীদের মানুষ হিসেবে মূল্য দেওয়ার দাবি জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আয়েশা খানম বলেন, সন্তান যখন জন্ম হয় তখন ছেলে বা মেয়ে হিসবে জন্ম হয় না। একজন মানুষ হিসেবেই জন্ম নেয়। কিন্তু পরবর্তীতে নারীকে আমাদের বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার কারনে  সবচেয়ে প্রান্তিক অবস্থায় থাকতে হয়। রাষ্ট্রের অনেক নীতিমালা, আইন ও সমাজের কিছু বানানো নিয়ম নারীকে বৈষম্যের শিকার হতে বাধ্য করে। নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে সমাজ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে। নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সকল নারীদের কাজ করতে হবে। নারীদের অধিকার আদায়ে তিনি সকল পুরুষকে নারীদের পাশে থাকার আহ্বান জানান। তিনি  আরও বলেন, এই সম্মেলন থেকে আদিবাসী নারীদের অধিকারের প্রশ্নে যে সুপারিশগুলো উঠে আসবে তা মহিলা পরিষদ যথেস্ট গুরুত্ব দিয়ে তাদের মূল আন্দোলনের সাথে অবশ্যই যুক্ত করবে।

তিনি আদিবাসী নারী, বাঙ্গালি নারী সেতুবন্ধন রচনা করে বাংলাদেশের নারী আন্দোলনকে বেগবান করার আহ্বান জানিয়ে  সকল নারীদেরক ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly