রাঙামাটি শহরে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুঃ স্বামী আটক

স্টাফ রিপোর্টার, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

1রাঙামাটি শহরের আমানতবাগ এলাকায় মঙ্গলবার নুরুন্নাহার বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার সন্দেহে পুলিশ নিহতের স্বামী বাচ্চু মিয়াকে আটক করেছে। আটক বাচচু মিয়া রাঙামাটি কারিগরী প্রশক্ষিণ কেন্দ্র(টিটিসি)-এর  ইলেকট্রিক্যাল বিষয়ক শিক্ষক বলে জানা গেছে।

নিহতের স্বজন ও এলাবাসীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে গৃহবধূ নুরুন্নাহারকে স্বামী বাচ্চু মিয়া রাঙামাটি সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে গৃহবধূর নিহতের ঘটনা জানাজানি হলে বিক্ষুদ্ধ এলাবাসী স্বামী বাচ্চু মিয়াকে আটক করে পুলিশের কাছে সোর্পদ করেন। বর্তমানে তাকে রাঙামাটি কোতয়ালী থানায় রাখা হয়েছে।

সূত্র জানায়,শহরের আমানতবাগ সদর উপজেলা পরিষদ কার্যালয় এলাকার বাসিন্দা প্রথম স্বামী মারা যাওয়ার পর ১০ থেকে ১২বছর আগে নুরুন্নাহার রাঙামাটি টিটিসির ইলেকট্রিক্যাল বিষয়ক শিক্ষক বাচ্চু মিয়াকে বিয়ে করেন। নুরুন্নাহারের প্রথম স্বামীর ঘরে দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। আবার দ্বিতীয় স্বামী বাচ্চু মিয়ার ঘরে নুরুন্নাহার বেগমের আরও দুটি সন্তান রয়েছে। তার মধ্যে একজনের বয়স তিন বছর আরেক জনের বয়স এক বৎসর। নিহত নুরুন্নাহার বেগমের প্রথম স্বামী সরকারী চাকুরে হওয়ায় তার প্রথম স্বামীর পেনশনের সব টাকা দ্বিতীয় স্বামী বাচ্চু মিয়া বিভিন্ন কৌশলে হাতিয়ে নেয়ার পাশাপাশি অন্যজনের সাথে পরকীয়া সম্পর্কও গড়ে তোলে। এ নিয়ে নুরুন্নাহার বেগম প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন অজুহাতে স্বামী বাচ্চুমিয়া তাকে অমানুষিক নির্যাতন ও অত্যাচার চালাতেন। অসহায় চার সন্তানের কথা চিন্তা করে গৃহবধূ নুরুন্নাহার দীর্ঘ বছর ধরে সহ্য করলেও পরবর্তীতে নির্যাতনের মাত্রা ক্রমশ বেড়ে যাওয়ায় নুরুন্নাহার বেগম স্বামী বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় নির্যাতনের মামলা করেন। এতে বাচ্চু মিয়া জেলও হয়। দীর্ঘ ছয় মাস জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বাচ্চু মিয়া আবারও নুরুন্নাহার বেগমের উপর নির্যাতন শুরু করেন। এর আগে বাচ্চু মিয়া বিভিন্ন জায়গায় আরও চারটি বিয়ে করেছেন বলে জানা গেছে।

রাউজান থেকে আসা নিহত নুরুন্নাহার বেগমের ফুফাতো ভাই মোঃ জাহিদ জানান, গত কয়েকদিন আগে থেকে তার বোন নুরুন্নাহার বেগম বাচ্চু মিয়ার নির্যাতনের বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন সুপরিকল্পিতভাবে তার বোনকে হত্যা করেছে বাচ্চু মিয়া। তিনি বাচ্চু মিয়ার ফাঁিসরও দাবী জানান।

pic-2

নিহত নুরুন্নাহার বেগমের ভাগিনী ফিরোজা বেগম, রানীরহাট থেকে আসা ননদ খুঁিশ বেগম, আমানতবাগ এলাকার পাশ্ববর্তী বাসিন্দা রাশেদা বেগম, নিহত নুরুন্নাহার বেগমের প্রথম স্বামীর বড় বোন খদিজা বেগমসহ রাঙামাটি সদর হাসপাতালে উপস্থিত আরও অনেকেই বাচ্চু মিয়ার নির্মম নির্যাতনের বর্ননা দেন। তাদের অভিযোগ পবিত্র শবে কদরের রাতে ও নুরুন্নাহারকে মারধর করেছিল বাচ্চু মিয়া। এমনকি এবার ঈদের সময় ও নুরুন্নাহার বেগম ও তার সন্তানদের কোন কাপড়-চোপড় দেয়নি বাচ্চু মিয়া এবং এবার নুরুন্নাহার বেগম ও তার সন্তানদের ঈদ ছিল অনেকটা বেদনার। তারা অভিযোগ করেন, বাচ্চু মিয়া বৈদ্যুতিক শর্ট দিয়ে নুরুন্নাহার বেগমকে হত্যা করেছে। তারা বাচ্চু মিয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।

গৃহবধৃ নুরুন্নাহার বেগমের হত্যার বিষয়ে আটক বাচ্চু মিয়াকে প্রশ্ন করা হলে তিনি অস্বীকার করে উল্টো নুরুন্নাহার বেগম নিজে শর্ট লেগে মৃত্যুবরণ করেছে বলে দাবি করেছেন। তবে হাসপাতালে উপস্থিত আমানববাগ এলাকার নারী নেত্রী নূরজাহান বেগম পারুল জানান,এটা একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। এ হত্যাকান্ডের জন্য দায়ী বাচ্চু মিয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য তারা যা কিছু করার তা করবেন।

নুরুন্নাহার বেগমের মৃত্যুর বিষয়ে রাঙামাটি সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মং ক্য চিং জানান,নুরুন্নাহারকে সকালে যখন হাসপাতালে নিয়ে আসা হলেও আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। নিহত নুরুন্নাহারের লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

রাঙামাটি কোতয়ালী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমতিয়াজ সোহেল জানান, এ হত্যাকান্ডের সন্দেহে নিহত গৃহবধূর স্বামী বাচ্চু মিয়াকে থানায় আটকে রাখা হয়েছে। নিহতের স্বজনদের কাছ থেকে অভিযোগ করলে বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly