হাজারো পূর্ন্যার্থীর অংশ গ্রহনে রাজ বন বিহারে কঠিন চীবন দান সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্টার, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম 

1_DMEABS

দেশ ও বিশ্বের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে এবং উৎসব মুখর ও ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে আজ শুক্রবার(১৫ নভেম্বর) রাঙামাটির রাজ বন বিহারে ৪০ তম দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব সম্পন্ন হয়েছে। হাজার হাজার পূর্ন্যার্থী অংশ গ্রহনে অনুষ্ঠানস্থল মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে।

রাজ বন বিহার মাঠে অনুষ্ঠিত ৪০তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাজার হাজার পূর্ন্যার্থীদের উদ্দেশ্য ধর্ম দেশনা দেন রাঙামাটি রাজ বন বিহারের প্রধান শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার ও শ্রীমৎ জ্ঞান জ্যোতি মহাস্থবির। এসময় বক্তব্যে দেন শিল্প মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী দীলিপ বড়ুয়া,চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়, ভারত থেকে আগত পূর্নার্থী কুমার সিং।  দেশ ও বিশ্বের মঙ্গল কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করেন রাজ বন বিহার পরিচালনা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি গৌতম দেওয়ান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো বাণী পাঠ করে শুনান রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং বিরোধী দলীয় নেত্রীর পাঠানো বাণী পাঠ করে শুনান জেলা বিএনপির সভাপতি দীপেন দেওয়ান। এসময় অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোস্তফা কামাল ও পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম ভূটো, সাবেক উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

2_DMEABS

অনুষ্ঠান শুরুর আগে স্থানীয় শিল্পীরা ধর্মীয় সংগীত পরিবেশন করেন। এরপর উপস্থিত হাজার হাজার ধর্ম প্রান নর-নারীরা পঞ্চশীল প্রার্থনা ও কঠিন চীবর উৎস্বর্গ করেন। পরে ২৪ ঘন্টার মধ্যে তৈরীকৃত কঠিন চীবর ভিক্ষু-সংঘের উদ্দেশ্য দান করেন চাকমা রাজা দেবাশীষ রায়।

শিল্পমন্ত্রী দীলিপ বড়ুযা বলেন, বন ভান্তের কারণে বুদ্ধের সভ্যতা নতুন করে জাগরনের সৃষ্টি হয়েছে। ধর্ম যুগ যুগ ধরে মানুষত্ববোধকে জাগ্রত করে এবং মৈত্রীময় ধর্মীয় মধ্য দিয়ে আমরা ধর্মীয় সুধা পান করে থাকি। তিনি আরও বলেন, শ্রদ্ধেয় বনভান্তে শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামে নয় বাংলাদেশ ও বিশ্বের অনুজাগরন ও রেনেসা। বনভান্তের কারেণ আজ বুদ্ধ সভ্যতাকে খুঁজে পাওয়া গেছে। তাই বনভান্তে না থাকলেও তার আমাদের মাঝে রয়েছেন। তিনি সমাজের মধ্যে অহিংসা, হানাহানি, থেকে মুক্ত থেকে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বুদ্ধ শাসনকে প্রতিপালন ও মেনে চলার আহ্বান। তিনি মৈত্রীময় চিন্তা-চেতনার মধ্য দিয়ে দেশের জনসাধারনকে সুখে শান্তিতে বসবাস করারও আহ্বান করেন।

রাজা দেবাশীষ রায় বলেন, এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এক দিকে যেমন আড়াই হাজার বছর পূর্বে ভগবান গৌতম বুদ্ধে জীবদ্দশায় মহাপূন্যবতী বিশাখা প্রবর্তিত ২৪ ঘন্টার মধ্যে চীবর তৈরীর ধর্মীয় অনুষ্ঠান শ্রদ্ধেয় বনভান্তের নির্দেশে একমাত্র পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে পালন করছি। অ্যদিকে জুম চাষের উৎপাদিত তুলার বয়ন শিল্পের মাধমে পার্বত্যাঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীদের তাদের ঐতিহ্যবাহী প্রথা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকেও একসাথে পালন করতে পারছে। তিনি আরও বলেন, শ্রদ্ধেয় বনভান্তে স্ব-শরীরে আমাদের মাঝে না থাকলেও তার উপদেশ, নীতি আদর্শ, জ্ঞান দিয়ে গেছেন। তাই বনভান্তের এসব নীতি আদর্শ, জ্ঞানকে যদি আমরা কাজে কর্মে বাস্তবায়ন করি তাহল এ এলাকায় উন্নয়ন ও কল্যাণকর হবে। তিনি সমাজের হানাহানি, হিংসার অবসান হোক তার কামনা করে দেশের শান্তি, উন্নয়ন এবং সকল জীবের প্রতি নির্বাণ হেতুর প্রার্থণা করেন।

3_DMEABS

উল্লেখ্য, প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে ভগবান গৌতম বুদ্ধের জীবব্দশায় মহাপূর্নবতী বিশাখা কর্তৃক প্রবর্তিত ২৪ ঘন্টার মধ্যে সূতা কাটা শুরু করে কাপড় বয়ন, সেলাই ও রং করাসহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে বৌদ্ধ ভিুদের দান করা হয়ে থাকে বলে একে কঠিন চীবর দান হিসেবে অভিহিত করা হয়। এ পদ্ধতিতে দান করলে কায়িক-বাচনিক এবং মানসিক পরিশ্রম অধিকতর ফলদায়ক হয় বলে বৌদ্ধ শাস্ত্রে উল্লেখ আছে। তাই প্রতি বছর প্রবর্তিত ঐতিহাসিক নিয়ম অনুসারে রাজ বন বিহারের বৌদ্ধ ধর্মীয় নর-নারীরা কঠিণ চীবর দান করে থাকেন।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly