রাঙামাটি পৌর সভার উন্নয়ন নামে  ৯ পরিবারকে উচ্ছেদের হুমকির অভিযোগ পৌর মেয়র ও এক কমিশনারের বিরুদ্ধে

স্টাফ রিপোর্টার,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

Picture2

নির্মানাধীন রাঙামাটি পৌর ভবন বর্ধিত করার নামে পৌর মেয়র ও এক কমিশনার হতদরিদ্র  ৯ পরিবারকে উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছেন অভিযোগ করা হয়েছে। ফলে ওই সব পরিবার উচ্ছেদ আতংকের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন।

সোমবার এক সংবাদ সন্মেলনের মাধ্যমে উচ্ছেদ আতংকগ্রস্থ পরিবারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ করা হয়েছে।

রাঙামাটি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হতদরিদ্র ৯ পরিবারে পক্ষথেকে লিখিত বক্তব্যে পাঠ করেন ইসমাইল চৌধুরী। এসময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা আবদুল সবুরের স্ত্রী মরিয়ম, আবদুল করিমের ছেলে আদম আলী ও জাফর আহম্মেদের স্ত্রী মানিক বিবিসহ অন্যরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ পড়ে শোনান ইসমাইল চৌধুরী।

লিখিত অভিযোগে ইসমাইল চৌধুরী বলেন, তারা গরিব ও অসহায় মোট নয়টি পরিবার দীর্ঘ ১৬ বছর যাবৎ রাঙামাটি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর বাউন্ডারি ওয়ালের বাইরে বসবাস করে আসছেন। সেখানে কাপ্তাই লেকের জলমগ্ন অযোগ্য জায়গায় মাচাঘর তৈরি এবং মাটি ভরাট করে বসতবাড়ি নির্মাণ করেছেন। এতে পরিবার প্রতি এ পর্যন্ত অন্তত ৮থেকে ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এজন্য অনেক পরিশ্রমের বিনিময়ে স্বল্প আয়ের টাকার সিংহভাগ খরচ করতে হয়েছে। এরপরও অতি কষ্টে ছেলেমেয়ে ও পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। বর্ষা মৌসুমে ঘরগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। ওই সময় মাচাঘর বেঁধে মানবেতর দিনযাপন করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতেও রাঙামাটি পৌরসভার বর্তমান মেয়র সাইফুল ইসলাম ভূট্টো ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রবিউল আলম রবি পৌরসভার উন্নয়নের কথা বলে কোন নোটিশ ছাড়াই তাদেরকে সরে যেতে বলেছেন। অন্যথায় যে কোনো উপায়েই তাদেরকে উচ্ছেদ করা হবে মর্মে হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে আরও হয়, ৯টি পরিবারা দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে ভোটার হয়েছেন। ২০০১ সালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সুপারিশে বাজার ফান্ডে বন্দোবস্তুর আবেদন করেছেন। আবেদনের ভিত্তিতে ডকেট নম্বর দিয়েছে বাজার ফান্ড কর্তৃপক্ষ। তবে পার্বত্য চট্টগ্রামে বর্তমানে বন্দোবস্তু কার্যক্রম স্থগিত থাকায় বন্দোবস্তু তালিকাভূক্ত হতে পারেননি। ২০০০ সালে পিডিবি হতে বিদ্যুৎসংযোগ পেয়ে এ পর্যন্ত নিয়মিত বিদ্যুৎবিল পরিশোধ করে আসছেন। নিজ নিজ বাড়িঘরের নামে পাওয়া রাঙ্গামাটি পৌরসভার হোল্ডিং নম্বরের বিপরীতে প্রতিবছর নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করছেন। কিন্তু বর্তমান পৌর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার একবছর পর আমরা যখন পৌরকর পরিশোধ করতে যাই তখন কর বিভাগের কর্মকর্তারা করবিল নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

সংবাদ সন্মেলনে পৌরসভার জায়গা হলে ষোল বছর আগে যখন বাড়িঘর নির্মাণ করি সেই সময় পৌর কর্তৃপক্ষ কেন বাধা দিল না  প্রশ্ন রেখে বলা হয়, ২০০১ সালে বাজার ফান্ডে বন্দোবস্তুর আবেদন দাখিলের সময়ে জমি ছিল সম্পূর্ণ বিরোধমুক্ত। বাউন্ডারির ভেতর মার্কেটসহ পৌরসভার মোট বন্দোবস্তুকৃত জমির পরিমাণ ৭৪ দশমিক ৪ শতক। অথচ ২০০৯ সালে বর্তমান মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন উপায়ে তাদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে ভিটেমাটি জবরদখল করতে নানা স্থাপনা নির্মাণের পায়তারা চালাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে রাঙামাটি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রবিউল আলম রবি সাংবাদিকদের জানান, রাঙামাটি পৌর সভার নতুন ভবন নির্মাণ হচ্ছে। নির্মাণাধীন ভবনটির সম্প্রসারণের স্বার্থে সংলগ্ন জায়গায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে অন্যত্র পুনর্বাসনের মাধ্যমে তাদেরকে সরে যেতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে পৌরসভার তত্ত্বাবধানে তাদের পুনর্বাসনের জন্য জমি নেয়া হয়েছে। প্রত্যেক পরিবারকে ৫ থেকে ৮ শতক জমি এবং ১৭থেকে ১৯ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত রয়েছে।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly