রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

h1

পার্বত্য জেলা পরিষদের সেপ্টেম্বর  মাসের জেলা সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলা পরিষদ সন্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা। পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম জাকির হোসেনের পরিচালনায় অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য অভিলাষ তংচংগ্যা, প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী দিলীপ কুমার চাকমা, জনসংযোগ কর্মকর্তা অরুনেন্দু ত্রিপুরাসহ হস্তান্তরিত বিভাগের কর্মকর্তারা।

 সভায় সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় চিকিৎসকের শূন্যপদ পুরণ হয়েছে। কিন্তু উপজেলায় ডাক্তারদের আবাসিক ভবনগুলোর অবস্থা নাজুক হওয়ায় থাকার সমস্যা হচ্ছে। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রদান করেছেন যদি কোন চিকিৎসক সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করে তাহলে তার বেতনভাতা বন্ধ রাখার জন্য।  তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ২লক্ষ ১শত ৪০টি কিটনাশকযুক্ত মশারি রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলায় বিতরণের জন্য আনা হয়েছে এবং তিনটি উপজেলায় বিতরণ কার্যক্রম চলছে। পর্যায়ক্রমে বাকী উপজেলাগুলোতে বিতরণ করা হবে। তিনি রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ইউএনডিপি’র একটি জরিপে হাসপাতালটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে। এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগের মাধ্যমে পুনরায় জরিপের জন্য পরিষদ চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানান।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক জানান, এ বছর আউশের ফলন ভালো হয়েছে এবং টার্গেটের তুলনায় আমনের ফলন ভালো হয়েছে।এছাড়াও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষি সহায়তা কার্ড করার লক্ষে ডাটা কালেকশন কার্যক্রম চলছে। এতে করে জেলার সকল কৃষি প্রধানদের নাম ঠিকানা ও জমির হিসাব ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।   কৃষি সহায়তা কার্ড করা হলে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে।

 প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা জানান, ইতোমধ্যে জেলার ২৫টি স্কুলের পাশাপাশি আরো ২টি মোট ২৭টি ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল পাওয়া গেছে এবং এদের তালিকা পরিষদে প্রেরণ করা হয়েছে। পরিষদের বিশেষ ব্যবস্থায় স্কুলগুলো মেরামত বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি অনুরোধ জানান।

 মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা জানান, ৭ম শ্রেণী বৃত্তি প্রদানের বিষয়ে একটি নীতিমালা তৈরী করা হয়েছে অনুমোদন হলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

 জেলা সমাজসেবা বিভাগের উপ-পরিচালক জানান, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে ছাড়পত্র পাওয়া গেছে। এছাড়া বিভাগীয় কার্যক্রম যথাযথভাবে চলছে।

 প্রাণী সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা জানান, জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় পাহাড় থেকে পড়ে একটি হাতি  মারা গেছে। সেটির পোস্টমর্টেম করা হয়েছে। হাতির কোন ধরনের রোগ ছিল না বলে রিপোর্ট পাওয়া গেছে।

সভাপতির বক্তব্যে পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা বলেন, জেলার উন্নয়নের স্বার্থে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরো গতিশীলতা বাড়াতে হবে। এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

 তিনি আরও বলেন, ১৯৮৬ সালে স্থাপিত জেনারেল হাসপাতালটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হওয়ায় পুনরায় তদন্তের জন্য গণপূর্ত বিভাগকে অবহিত করা হবে বলে জানান। এছাড়া হাসপাতালে মেডিকেল অফিসারের যে সব শুন্য পদ রয়েছে সেগুলো পূরণের জন্য মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করা হবে। হাসপাতালের ডাক্তারদের আবাসিক ভবনটি পুনরায় সংষ্কার করে থাকার উপযোগি করা হবে। তিনি হাসপাতালের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দূর করে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ্দের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে গ্রহণের জন্য সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেন।

 তিনি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর উদ্দেশ্যে বলেন, বিদ্যুতের অপচয় ও জনগণের সুবিধার্থে পানি সংগ্রহের জন্য উঁচু স্থান র্নিধারণ করে সেখানে পানি মজুদ করে পরে সরবরাহ করতে হবে। সরবরাহের ক্ষেত্রে আর বিদ্যুতের প্রয়োজন হবেনা। চেয়ারম্যান এ বিষয়ে একটি প্রকল্প তৈরিরও নির্দেশ দেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীকে। তিনি আরো বলেন, বিগত পাঁচ বছরে জেলার যেসমস্ত এলাকায় টিউবওয়েল, রিংওয়েল, তারা পাম্প বসানো হয়েছে সেগুলো কি অবস্থার রয়েছে তার একটি তালিকা তৈরিরও নির্দেশ দেন।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly