রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

DDCC Meeting Pic-24-07-14-01

বৃহস্পতিবার রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের জেলা উন্নয়ন কমিটির সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলা পরিষদ সন্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা। পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম জাকির হোসেনর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য নীলু কুমার তংচংগ্যা, সদর সার্কেল সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার চিত্ত রঞ্জন পাল, সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অরুন কান্তি চাকমা, কাউখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম চৌধুরী, জুরাছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান উদয় জয় চাকমা, রাজস্থলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান উথিনসিন মারমা, বরকল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনি চাকমা, বিলাইছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শুভ মঙ্গল চাকমা, নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কোয়ালিটি চাকমা, কাপ্তাই উপজেলা ওয়াগগ্যা ইউপি চেয়ারম্যান অংলাচিং মারমা, পরিষদের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাহিদুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী দীলিপ কুমার চাকমা, হেডম্যান এসোসিয়েশনের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক থোয়াই অং মারমা, জেলা আনসার ভিডিপির কমান্ড্যান্ট লুৎফর রহমান’সহ জেলার বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধান, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সিভিল সার্জন সভায় জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ম্যালেরিয়া প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য মশারি ব্যবহার ও বাড়ীর আশেপাশের ঝোপঝাড় কাটা ও ছোট ছোট গর্তের পানি অপসারণের জন্য গ্রাম মহল্লায় মাইকিং ও প্রচারণা করার জন্য উপজেলা, ইউপি চেয়ারম্যান, হেডম্যান, কার্বারী ও সচেতন ব্যক্তিদের অনুরোধ জানান।

বাংলাদেশ বেতারের কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে রাঙামাটিতে বেতারের এফএম সম্প্রচার কার্যক্রম অনটেষ্টে চলছে। আগামীতে পুরোপুরিভাবে চলবে এবং ১০৩.২ মেগা হার্টসে সংযোগ পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান। জেলা খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে জেলার খাদ্য গুদামে খাদ্য পরিমানমতো মজুদ রয়েছে। পানির নাব্যতা কম হওয়ায় নানিয়ারচর, জুরাছড়ি, বরকল ও বিলাইছড়িতে খাদ্যশস্য পাঠাতে সমস্যা হচ্ছে। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মকর্তা জানান, জেলার রোগী ও অন্যান্য বিপদাপন্ন জনগণের জন্য রেড ক্রিসেন্ট হতে বিনামূল্যে রক্ত প্রদান করা হয়। রক্তের প্রয়োজনে তাদের প্রতিষ্ঠানে বা ০১৮১৫২১৫৯৪৫ এই নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়।

পুলিশ বিভাগের সদর সার্কেল সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জানান, জেলার আইনশৃংখলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে এবং ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বিভিন্ন পয়েন্টে ও মার্কেটে পুলিশের টহল, গোয়েন্দা নজরদারী জোরদার ও মোবাইল কোর্ট অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি জেলায় যে কোন ধরনের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি সুষ্ঠ রাখার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। প্রয়োজনে ০১৭৩০৩৩৬১৪১ নম্বরে কল করার অনুরোধ জানান।

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য, বিদ্যালয় পরিদর্শন করতে গিয়ে জেলার বালিকা ও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্লাসরুম ও শৈাচাগারের অবস্থা খুবই নাজুক বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

 সভাপতির বক্তব্যে পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা বলেন, পার্বত্য জেলার উন্নয়নে সকলের সম্মিলিত প্রয়াসের কোন বিকল্প নেই। তাই যুগের বর্তমান বাস্তবতাকে উপলব্ধি করে এ এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সবাইকে নিরলসভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এ বছর বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত কম হওয়ার কারণে কাপ্তাই লেকের পানি বৃদ্ধি হয়নি। তাই মাছের প্রজননও কম হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তাই এখন যদি মৎস্য শিকার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় তাহলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। আপাতত মৎস্য শিকার বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ জানান।

 তিনি বলেন এ জেলার জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে জেলেদের আরো অবগত করতে হবে যে ৯ইঞ্চির নীচে কোন পোনা পাওয়া গেলে তা পুনরায় লেকে অবমুক্ত করা। এ জন্য তিনি উপজেলা, ইউপি চেয়ারম্যান, হেডম্যান, কার্বারী ও সচেতন ব্যক্তিদের গ্রামে গ্রামে সামাজিক আন্দোলন অথবা সামাজিক বন্ধনের মাধ্যমে জেলেদের বোঝানোর পরামর্শ দেন। তিনি আরো বলেন, কাপ্তাই লেকে মাছ অবমুক্ত করার সময় অন্য জেলা থেকে পোনা ক্রয় না করে জেলার স্থানীয় মৎস্যচাষীদের কাছ থেকে পোনা ক্রয়েরও অনুরোধ জানান। এতে করে স্থানীয় চাষীরা যেমন উপকৃত ও উৎসাহিত হবে তেমনি অন্য জেলা থেকে সরবরাহের খরচটা অনেকাংশে কম হবে বলে তিনি জানান।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly