রাঙামাটির লংগদুতে যুবলীগ নেতা কর্তৃক চল্লিশোর্ধ এক গৃহবধূকে ধর্ষনের অভিযোগ

স্টাফ রিপের্টার,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় যুবলীগ নেতা কর্তৃক চল্লিশোর্ধ এক গৃহবধূকে ধর্ষনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলেও ঘটনার একদিন পরও জড়িতরা আটক হয়নি। গত রোববার রাতে উজেলার বাইট্টাপাড়ায় এ ঘটনা ঘটেছে।

মামলার এজাহারে ও ধর্ষিতার স্বজনরা জানায়, গত রোববার রাতে ক্ষমতাসীন দলের যুবলীগের লংগদু উপজেলা শাখার শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক জুয়েল মিয়া(৩২) এবং দুই সঙ্গী বাবুল মিয়া ও আবু মিয়াকে নিয়ে ৭নং লংগদু ইউপির ৩নং লংগদু মৌজার বাইট্টা পাড়ায় যায়। এ সময় জুয়েল ও তার সঙ্গীরা ধর্ষিতা গৃহবধূর বাড়ীতে গিয়ে দরজা খুলতে বলে এবং তার(ধর্ষিতা) ছেলে ও ছেলের বউ কোথায় আসে জিজ্ঞাসা করে। এতে ধর্ষিতা তার ছেলে ও ছেলের বউ পাশ্ববর্তী ঝর্নাটিলায় বউয়ের বাবার বাড়ীতে বেড়াতে গেছে বলে জানায়। এক পর্যায়ে জুয়েল গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব দিলে তিনি রাজী না হওয়ায় ঘরের ভেতর থেকে টেনে হিছড়ে বের করে মারধর করে। এক পর্যায়ে জুয়েল গৃহবধূকে ঘরের ভেতর নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষন করে এলাকা ত্যাগ করে। পরে এলাকার লোকজন খবর পেয়ে ওই দিন রাতেই অসুস্থ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তবে ডাক্তারী পরীক্ষা র জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গাইনি চিকিৎসক না থানায় তাকে সোমবার রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত যুবলীগ নেতা জুয়েলের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে এ ঘটনায় লংগদু থানার এসআই নিভূ রঞ্জন দত্ত বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া ঘটনার পর অসহায় ধর্ষিতা গৃহবধুকে আইনী সহায়তার জন্য ইতোমধ্যে কমিউনিটি লিগ্যাল সার্ভিসেস গ্রীনহীল-শিখা প্রকল্প থেকে আইনী সহায়তাসহ সকল ধরনের সাহায্যে দিয়ে যাচ্ছে।

ধর্ষিতার আত্বীয়-স্বজন ও এলাকার লোকজন অভিযোগ করে জানায়, ধর্ষক যুবলীগ নেতা জুয়েল এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম ছাড়াও এলাকায় অবৈধ গাছ ব্যবসা থেকে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। জুয়েল এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউই কিছু বলতে সাহস পায় না।

বিশিষ্ট নারী নেত্রী টুকু তালুকদার বলেন, দোষী ব্যক্তি জুয়েল আওয়ামীলীগের দলীয় নেতা হওয়ায় আওয়ামীলীগ নেতাদের উচিত হবে অতিদ্রুত তাকে খুঁেজ বের করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া। চল্লিশোর্ধ এক নারীকে এভাবে জোরপুর্বক ধর্ষনের ঘটনা খুবই নিন্দীয়।

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ নুয়েন খীসা জানান, ঘটনার শিকার গৃহবধূকে হাসপাতালের ভর্তির পর একজন গাইনী চিকিৎসকের তত্বাবধানে ধর্ষনের পরীক্ষা করা হচ্ছে।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly