রাঙামাটির মগবানে সালিশের নামে স্কুল পড়ুয়া কিশোরী ও  তার মামাকে নির্যাতনঃ হাসপাতালে ভর্তি

বিশেষ রিপোর্টার,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

map sadarhillbd24.com

 রাঙামাটির সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নের বড় আদামে কারবারীর(গ্রাম প্রধান) সালিশীর নামে অষ্টম শ্রেনী পড়ুয়া এক কিশোরী ও  তার মামাকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এতে নির্যাতনে আহত কিশোরী ও তার মামা প্রদীপ চাকমা(২৭)কে গুরুত্বর আহত অবস্থায় রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।  মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটেছে।

মারধরের শিকার আহতদের আত্বীয়রা জানায়, সালিশের নাম করে মঙ্গলবার একদল লোক নির্যাতনের শিকার কিশোরী ও তার মামা প্রদীপ চাকমাকে স্থানীয় কারবারী অমর শান্তি চাকমার বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে দুজনকে নেয়ার পর কোন সালিশ না করে তাদের উপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয়। এতে দুজনের মধ্যে প্রদীপ চাকমা গুরুত্বর  আহত হলে তাকে মঙ্গলবার রাতে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে এবং বৃহস্পতিবার কিশোরীকে  হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রাঙামাটির সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নের বড় আদাম গ্রামের বাসিন্দা প্রদীপ ও অমর শান্তি চাকমার মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই নিয়ে বেশ কয়েক বার সালিশ হয়েছিল। এসব সালিশে প্রদীপ চাকমার পে রায়ও দেয়া হয়। এই রায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে অমর শান্তি চাকমা  পরিকল্পিতভাবে এই কাজ করতে পারে বলে ধারনা।

নির্যাতনের শিকার আহত কিশোরী জানায়,বিদ্যালয়ের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা শেষে বিকালে বাড়িতে আসার পথে এলাকার কিছু যুবক তাকে ধরে নিয়ে কার্বারীর বাড়িতে নিয়ে মারধর শুরু করে। কার্বারী আদেশে তাকে মারধর করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

প্রদীপ চাকমা জানান,বাড়ি থেকে তাকে ডেকে নিয়ে মারতে মারতে কার্বারীর বাড়িতে নেয়া হয়। সেখানে মারতে মারতে আহত করে  কিশোরীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক আছে বলে স্বীকারোক্তি নেয়া হয়।

আহত কিশোরীর বাবা যুদ্ধরাম চাকমা বলেন. তার মেয়েকে অজ্ঞান অবস্থায় বাড়িতে পৌছে দেয়া হয়। মেয়েকে যেন কোন হাসপাতালে নেয়া না হয় সেজন্য নিষেধ করে।তবে মেয়ের অবস্থার অবনতি হলে তিনি তার মেয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

গ্রামের কার্বারী অমর শান্তি চাকমা দুজনকে মারধরের কথা স্বীকার করে বলেন, আহতদের এই অবস্থা হবে তা তিনি বুঝতে পারেনি। আহতদের মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক ছিল বলে তিনি দাবী করেন।

মগবান  ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও রাঙামাটি সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অরুন কান্তি চাকমা বলেন, আহতদের রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা  সুস্থ হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আহতদের চিকিৎসার খরচ চালাতে কার্বারীকে বলা হয়েছে।

রাঙামাটি কোতয়ালীর  থানার ওসি সোহেল ইমতিয়াজ বলেন, এই ব্যাপারে তার কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ আসলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly