রাঙামাটিতে সহিংস ঘটনায় জারিকৃত ১৪৪ ধারা প্রত্যাহারঃ  ৩ সদস্য  বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন

স্টাফ রিপোর্টার, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

11

শনিবার রাঙামাটিতে মেডিকেল কলেজ উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে শহরে সৃষ্ঠ ঘটনা স্বাভাবিক হয়েছে। তবে ঘটনার চার দিন পরও শহরবাসীর মনে এখনো চাপা আতংক তাড়া করছে।

এদিকে, জেলা প্রশাসনের জারিকৃত ১৪৪ ধারা বুধবার দুপুরের দিকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। সৃষ্ঠ ঘটনা তদন্তে জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট  একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 উল্লেখ্য, শনিবার রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ উদ্বোধনকে জের ধরে ছাত্রলীগ ও পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় পাহাড়ী-বাঙালীর সহিংসতার দিকে মোড় নেয়ায় প্রশাসন রাঙামাটি শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে। পরবর্তীতে ১৪৪ ধারা জারির সময়ে গত রোববার ভেদভেদি, কলেজ গেইট ও তবলছড়িসহ কয়েকটি স্থানে সংঘর্ষ ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া এবং তবলছড়ির কয়েকটি বসতবাড়ীতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভেদভেদীতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে সোমবার সকালে ৮টা পর্ষন্ত রাঙামাটি শহরে কারফিউ জারি করা হয়।  তবে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্ষন্ত কারফিউ শিথিলের পর আবারও সোমবার বিকাল ৫টা থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টা পর্ষন্ত কারফিউ বলবৎ রাখা হয়।রাঙামাটি শহরে জারিকৃত ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকলেও দুপুর দেড়টা থেকে বিকাল ৫টা পর্ষন্ত  তা শিথিল করা হয়। আবার মঙ্গলবার বিকাল ৫টা থেকে ১৪৪ ধারা বুধবার দুপুর ১২টা নাগাদ বলবৎ রাখার পর তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

ঘটনার চার দিন পর রাঙামাটি শহরের জনজীবন স্বাভাবিক হয়েছে। শহরের যানবাহন চলাচল করেছে, দোকানপাটও খুলেছে। বুধবার শহরের বনরুপা, কলেজ গেইট ও তবলছড়ির  সাপ্তাহিক হাট বাজার বসেছে। তবে অন্যান্য দিনের তুলনায় লোকজন কিছুটা কম ছিল। শহরবাসীর মনে এখনো চাপা আতংকের চাপ তাড়া করছে।

বুধবার বিকাল চারটায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে  জেলা প্রশাসক শামসুল আরেফিন স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন। সভায় তিনি রাঙামাটি শহরের উদ্ভূত পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য সর্বমহলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, শহরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসায় শহরে জারিকৃত ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে যাতে আর অনাকাক্সিক্ষত  ঘটনা ঘটতে না পারে সেজন্য প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মোস্তফা জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তানভীর আজম ছিদ্দিকীসহ অন্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।  এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা বিভিন্ন  পরামর্শ ও মতামত তুলে ধরেন।

জেলা প্রশাসক মো. শামসুল আরেফিন আরও বলেন, মেডিকেল কলেজের পাঠদান কার্যক্রম উদ্বোধন ঘিরে রাঙামাটিতে যে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির উদ্ভব হয় তা গত কয়েক দিন ধরে শহরব্যাপী ভয়াবহ আকারে রুপ নেয়- যা একেবারে আয়ত্বের বাইরে চলে যায়। কিন্তু সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় আমরা তার উত্তরণ ঘটাতে পেরেছি। এতে দলমত, গোত্র, সম্প্রদায়, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সর্বশ্রেণী ও সর্বজনগোষ্ঠীর শান্তি প্রিয় মানুষ প্রশাসনকে সহায়তা করেছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃংখলা বাহিনী অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। পাশাপাশি সৃষ্ঠ ঘটনায় সাংবাদ কর্মীদের ইতিবাচক ভুমিকা রাখার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে ও এ ধরনের  ইতিবাচক ভূমিকা  রাখার আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসক  এ ধরনের জনমনের আতংক কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সময় লাগে উল্লেখ করে জানান ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তানভীর আজম ছিদ্দিকীর নেতৃত্বে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অপর দুই সদস্য হচ্ছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) চিত্ত রঞ্জন পাল ও জেলা সমবায় কর্মকর্তা মঙ্গল কুমার চাকমা। ইতোমধ্যে গঠিত কমিটি তদন্ত কাজ শুরু করেছে। কমিটিকে প্রথম কার্যদিবস থেকে দশ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly