রাঙামাটিতে সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনার কৃষক মাঠ স্কুল বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন

স্টাফ রিপোর্টার,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

???????????????????????????????

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্প (২য় পর্যায়) এর সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনার কৃষক মাঠ স্কুল বিষয়ে কৃষক সহায়তাকারীদের ১০দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়েছে।

শহরের আসামবস্তিস্থ প্রাণী সম্পদ বিভাগের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ কর্মশালার উদ্বোধন করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা। অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের সদস্য বৃষকেতু চাকমার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম জাকির হোসেন । এ সময় অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন, রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নরেশ চন্দ্র বাড়ৈ, ইউএনডিপি সিএইচটিডিএফ’র ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার ঐশ্বর্য্য চাকমা, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা কুসুম চাকমা, মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামসহ ইউএনডিপি-সিএইচটিডিএফ, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা ও সিনিয়র মাস্টার ট্রেইনার বিমল জ্যোতি চাকমা। জেলার ৮ উপজেলা থেকে ৩৪টি জন কৃষক সহায়তাকারী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম জাকির হোসেন বলেন, বাংলাদেশে খাদ্য নিয়ে অতীতে এক করুণ ইতিহাস আছে। খাদ্যের অভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। বিদেশীরা খাদ্য পাঠাচ্ছে, সে খাদ্যের আশায় বসে থাকতে হয়েছে। সমুদ্রে খাদ্য ভর্তি জাহাজ ভেসেছিল কিন্তু আমাদের দেশে খাদ্য আসেনি। কিন্তু বর্তমানে আমাদের দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। শুধু তাই নয় আমরা বিদেশে খাদ্য রপ্তানি করার মত সামর্থ্যও অর্জন করেছি। খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়টির ওপর সকলকে যত্নশীল হয়ে দৃষ্টি রাখার আহবান জানান তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা বলেন, অশান্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার লে ১৯৯৭ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি বিরাজ করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা হওয়ার কারণে এখানে ইউএনডিপি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ডানিডাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা ও দাতাগোষ্ঠী এখানে কাজ করতে পারছে। পার্বত্য এলাকার মানুষের দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে তারা গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

তিনি আরও বলেন, যে কোনো কাজ করতে গেলে হাতে-কলমে শিখতে হয়। যেকোনো কর্মেেত্র সফল হতে হলে প্রশিক্ষনের কোনো বিকল্প নেই। প্রশিক্ষনে অংশ নিয়ে যে জ্ঞান অর্জন করবেন তা আপনাদের এলাকার লোকজনকে শেখাবেন। প্রশিক্ষণ লব্ধ জ্ঞান আপনাদের সারাজীবন থাকবে।

তিনি বলেন, কৃষি নির্ভর পার্বত্য অর্থনীতিতে কৃষকদের ভূমিকা সমাজে সবচেয়ে বেশি। বর্তমান সরকার কৃষির উন্নয়নে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসুচি হাতে নিয়েছে। আমি নিজেও একজন কৃষক পরিবারের সন্তান। কোনো মানুষ কৃষি উন্নয়নে বা চাষের সমস্যা নিয়ে আমার কাছে এলে আমি সাধ্যমত সহযোগিতা দেবো।

সম্প্রতি মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগকে জেলা পরিষদে হস্তান্তর করণের বিষয়টি উলেল্লখ করে চেয়ারম্যান আরও বলেন, সরকারের এ পদক্ষেপ এর এখানকার শিক্ষা ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর সমস্যাগুলো সমাধান করা যাবে। শিক্ষক সংকট নিরসনে কাজ করা যাবে। বিদ্যালয় গুলোর অবকাঠামো উন্নয়নসহ শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া যাবে। যে সকল শিক্ষক সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে না তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া যাবে।

উল্লেখ্য, দাতা সংস্থা ডানিডার অর্থায়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা ২য় পর্যায় সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনা প্রকল্পটি রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও সিএইচটিডিএফ যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly