বর্নাঢ্য শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাঙামাটিতে আর্ন্তজাতিক পর্বত দিবস পালিত

স্টাফ রিপোর্টার, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

Hil-1_DMEABS

পর্বতঃ টেকসই ভবিষ্যতের প্রধান চাবিকাঠি শ্লোগানকে সামনে রেখে আজ বুধবার(১১ ডিসেম্বর) রাঙামাটিতে বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আর্ন্তজাতিক পর্বত দিবস পালিত হয়েছে।

পৌর সভা মিলনায়তনে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে জাতিসংঘের পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচি প্রকল্পের(ইউএনডিপি-সিএইচডিএফ) সহযোগিতায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা। জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার আমেনা বেগম, ইউএনডিপি-সিএইচটিডিএফ-এর কর্মকর্তা রবার্ট স্টলম্যান ও হিমাওয়ান্টির চেয়ারপার্সন ও নারী নেত্রী টুকু তালুকদার। স্বাগত বক্তব্যে রাখেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইরফান শরীফ।

h-3_DMEABS

এর আগে একটি বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা জেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে পৌর সভা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযযাত্রায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের আদিবাসী নারী-পুরুষ তাদের ঐতিহবাহী পোষাক-পরিচ্ছেদ পড়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। দিবসটির উপলক্ষে সকালের দিকে শহরের পর্যটন মোটেল কমপ্লেক্স এলাকা থেকে রাঙামাটি জেলা পরিষদ চত্বর পর্ষন্ত মিনি ম্যরাথন দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ম্যারাথন দৌঁড়ে বিভিন্ন বয়সীর নারী-পুরুষ অংশ গ্রহন করেন। বিকালে হিমালয়ের পর্বত জীবন নিয়ে আর্ন্তজাতিক পুরুস্কারপ্রাপ্ত ফিল্ম কারাবান প্রদর্শন করা হয়। বিকাল ৫টার দিকে মিনি ম্যরাথন দৌঁড়সহ অনান্য প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরুস্কার বিতরণ করেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইরফান শরিফ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারী নেত্রী টুকু তালুকদার ও রাঙামাটি চারুকলা একাডেমীর অধ্য রতিকান্ত তংচংগ্যা। সন্ধ্যায় আয়োজন করা হয় আদিবাসী মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

h2_DMEABS

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিখিল কুমার চাকমা বলেন,পাহাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা, খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরণের জন্য পর্বত দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম। এ দিবসটি পালনের মধ্যে দিয়ে পাহাড়ি মানুষের বৈচিত্রপুর্ণ জীবনধারা, আশা-আকাঙ্খা, সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা যাবে। পাহাড় পর্বত থেকে আমরা সুপেয় পানি ও আমাদের জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহ করে থাকি। জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে মানুষের অস্তিত্ব বর্তমানে বিপন্ন ও হুমকির সম্মুখীন। পাহাড়-পর্বতগুলো সুরক্ষার মাধ্যমেই আমাদেরকে এ হুমকি মোকাবেলা করতে হবে। পাহাড় আমাদের স্বপ্ন, পাহাড় আমাদের ঐতিহ্য, পাহাড় আমাদের জীবনের জন্য।

তিনি আরও বলেন দীর্ঘ দুই যুগের অধিক সময় ধরে চলা সংঘাত অবসান ঘটিয়ে ১৯৯৭ সালে ২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৪৮টি ধারা ইতোমধ্যে সরকার বাস্তবায়ন করেছে। তিনি বলেন পার্বত্য চুক্তি অনুযায়ী পর্যটন বিভাগকে জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তরিত কথা থাকলেও এখনো করা হয়নি। তাই এই বিভাগটি পরিষদের কাছে হস্তারিত না করায় পর্যটন খাতকে উন্নয়নে এগিয়ে নেয়া যাচ্ছে না।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly