রাঙামাটিতে নানিয়ারচর গণহত্যা দিবসে শোক র‌্যালী ও সমাবেশ  

ডেস্ক রিপোর্ট,হিলবিেিটায়েন্টিফোর ডটকম

Nannyachar, 17.11.2014

সোমবার রাঙামাটিতে নানিয়ারচর গণ হত্যার ২১ তম বার্ষিকী উপলক্ষে শোক র‌্যালী ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ কমিটি সদস্য সচিব সেন্টু চাকমার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বার্তায় বলা হয়, “নিপীড়ন, নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে আমাদেরকে দমিয়ে রাখা যাবে না” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে নানিয়ারচর রেষ্ট হাউস মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন  সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক্ষ্যং ইউপি চেয়ারম্যান সুপন চাকমা। বক্তব্য রাখেন, নানিারচর সদর ইউপি চেয়ারম্যান বিনয় কৃষ্ণ খীসা, ঘিলাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান অমর জীবন চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের প্রতিনিধি কাজলী ত্রিপুরা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নিরূপা চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জিকো ত্রিপুরা ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অনিল চাকমা প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নানিয়ারচর সদর ইউপি মেম্বার ও সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব সেন্টু চাকমা।

এর আগে উপজেলা সদরের রেস্ট হাউজ মাঠ থেকে একটি শোক র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও নানিয়ারচর বাজার প্রদক্ষিণ করে শ্মশানে গিয়ে অস্থায়ী শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ কমিটি, শহীদ পরিবার, ইউপিডিএফ, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের পক্ষ থেকে শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

সমাবেশ বক্তারা ১৯৯৩ সালে সেনা-সেটলার কর্তৃক সংঘটিত নান্যাচর গণহত্যার হত্যাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত সকল গণহত্যার শ্বেতপত্র প্রকাশ ও এসব হত্যাযজ্ঞে জড়িতদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

বক্তারা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শুধুমাত্র ভূমি বেদখল ও ভূমি থেকে উচ্ছেদের ঘটনা নয়, এখানে রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও সেটলার বাঙালি কর্তৃক পাহাড়ি নারী ধর্ষণ, নির্যাতনের ঘটনাও থেমে নেই। প্রতিনিয়ত কোথাও না কোথাও এ ধরনের বর্বর ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে। কিন্তু সরকার ও প্রশাসনের তরফ থেকে নারী ধর্ষণ ঘটনার মেডিকেল টেস্ট রিপোর্ট প্রদানে গোপন নিষেধাজ্ঞা থাকায় এসব ঘটনারও কোন সুষ্ঠু বিচার হচ্ছে না।

বক্তারা মেডিকেল কলেজ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন না করে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থাপিত কলেজ ও স্কুলগুলো আধুনিকায়নে মনোযোগ দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি  সকল অন্যায়, অবিচার ও নিপীড়ন-নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়ানোর জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly