রাঙামাটিতে নানান অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পরম পুজ্য বনভান্তের ৯৬ তম জন্ম দিবস পালন

ছন্দ সেন চাকমা,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

hill2

দেশের সর্ববৃহৎ বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রাঙামাটির রাজ বন বিহারের অধ্যক্ষ ও মহাপরিনির্বাণপ্রাপ্ত পরম পুজ্য শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবিরের(বনভান্তে) ৯৬ তম জন্ম দিবস নানান অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কেক কেটে, ধর্মীয় র‌্যালীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে।

সকালের দিকে রাজ বন বিহারের ধর্মশালায় প্রথমে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন এবং পরে ৯৬ পাউন্ড ওজনের কেক কেটে ও বেলুন উড়িয়ে বনভান্তের ৯৬ তম জন্ম দিবস উদ্বোধন করেন রাঙামাটি রাজ বন বিহারের আবাসিক ভিক্ষু সংঘের প্রধান প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির। এরপর রাজ বন বিহারের মাঠে আয়োজন করা হয় ধর্মীয় সভা। সভায় সদ্ধর্ম দেশনা দেন ফুরোমোন সাধনাতীর্থ আন্তর্জাতিক ভাবনা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ভৃগু মহাস্থবির, পানছড়ির শান্তিপুর অরণ্য কুঠিরের অধ্যক্ষ শাসন রক্ষিত মহাস্থবির। এসময় বক্তব্যে দেন চাকমা রাজা সার্কেল চীফ দেবাশীষ রায়  ও রাজ বন বিহার পরিচালনা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি গৌতম দেওয়ান। এসময় রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, সাবেক উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ান, রাজ বনবিহার পরিচালনা কমিটির সাধারন সম্পাদক প্রতুল চাকমাসহ হাজার হাজার বৌদ্ধ নর-নারীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ধর্মীয় সভার শুরুর আগে পঞ্চশীল প্রার্থনা ও দানোৎসর্গ  করা হয়।

hill5

বিকালে রাজ বন বিহার মাঠে আয়োজন করা ধর্মী সভা। এতে স্বধর্ম দেশনা দেন রাজ বন বিহারের আবাসিক ভিক্ষু সংঘের প্রধান প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির,জ্ঞানপ্রিয় মহাস্থবির। বক্তব্যে দেন রাজ বনবিহার পরিচালনা কমিটির সাধারন সম্পাদক প্রতুল চাকমা। এতে হাজার হাজার বৌদ্ধ পুর্নার্থী অংশ নেন। এছাড়া সন্ধ্যায় চুরাশি হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়। এর আগে বনভান্তের জন্ম দিবস উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী নানান অনুষ্ঠান কর্মসূচি বুধবার সমাপ্ত হয়।

উল্লেখ্য, বনভান্তে ১৯২০ সালে ৮ জানুয়ারী রাঙামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নের মোড়ঘোনা গ্রামে জন্ম গ্রহন এবং ২০১২ সালের ৩০ জানুয়ারী দেহ ত্যাগ(মহাপ্রয়ান) করেন। তাঁর ভক্ত ও পুর্নার্থীদের শ্রদ্ধা ও দর্শনের জন্য বর্তমানে রাজ বন বিহারে বনভান্তের মরদেহ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিশেষ কফিনে রাখা রয়েছে।

IMG_5972

রাজ বন বিহারের আবাসিক ভিক্ষু সংঘের প্রধান প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির বলেন,যেমন করে নিজেদের কাজকর্মের মাধ্যমে কাজের মূল্য বা ফল লাভ  ও লেখাপড়া শিখে পরীক্ষা দিয়ে তার ফল অধিকার লাভ করা যায়, ঠিক তেমনি করে বৌদ্ধ ধর্মের স্বধর্ম আচারণ ও চর্চা, ধ্যান-সাধনা করে সুখ-শান্তি ও মার্গফল লাভ করা যায়।

তিনি বলেন, পরমপূজ্য বনভান্তে যে স্বধর্ম বাণী দিয়ে গেছেন সেগুলো আমাদের সঠিকভাবে প্রতিপালন করতে হবে। বনভান্তে তার জীবদ্দশায় আমাদের যে জাগায় আমাদের টেনে তুলেছেন তার থেকে কিভাবে আরও উন্নতি করা যায় তার মূল্যায়ন করতে হবে।

 P1470396

তিনি জ্ঞানী ও বড় জনদের প্রতি শ্রদ্ধা ও আস্থা রাখার উপদেশ দিয়ে আরও বলেন, সমাজের জ্ঞানী ও বড় জনদের প্রতি শ্রদ্ধা ও আস্থা রাখতে পারলে নিজের এবং সমাজের মঙ্গল লাভ করা সম্ভব। তবে নিজেদের মত চললে, নিজেদের মত আচারণ করলে সমাজে, এলাকায় শান্তি-শৃংখলা উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি দুঃখ থেকে মুক্তি পেতে এবং মঙ্গল ও ধর্ম ফল লাভের জন্য সঠিক স্বধর্ম আচারণ, ন্যায় ও সত্যর পথে এবং বনভান্তের উপদেশ মেনে চলার হিতোপোদেশ দেন।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

P1470311

Print Friendly