রাঙামাটিতে এ বছর আনারসের ফলন ভাল হয়েছে

বিশেষ রিপোর্টার, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

CIMG9776hillbd24.com

আবহওয়া অনুকুলে থাকায় চলতি বছরে রাঙামাটি জেলায় আনারসের ভাল ফলন হয়েছে।  তাই এবার আনারস চাষীদের মুখে ফুটেছে হাসি।

রাঙামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে,২০১৩-১৪ মৌসুমে এই  জেলায় ১৯৭০ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হয়। হেক্টর প্রতি উৎপাদন লক্ষ্যমাএা ২৫ মে.টন। প্রতি হেক্টরে উৎপাদন খরচ ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা (প্রায়)। খরচবাদে হেক্টর প্রতি কৃষকদের লাভ হয় ১ লাখ ৩ হাজার টাকা (প্রায়)। চলতি বছরে উপজেলা ভিত্তিক আনারস আবাদ হয় রাঙামাটি সদরে ৬শত হেক্টর, নানিয়ারচর ১ হাজার ১শত হেক্টর,কাউখালীতে ১০ হেক্টর,বরকলে ২০ হেক্টর,জুরাছড়িতে ২৫ হেক্টর,লংগদুতে ৬০ হেক্টর,বাঘাইছড়ি ১৮ হেক্টর,কাপ্তাই ১০০ হেক্টর,রাজস্থলী ৩২ হেক্টর ও বিলাইছড়ি উপজেলায় ৫ হেক্টর। প্রতি বছর মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত কৃষকরা আনারস লাগায়। আর এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত বাজারে আনারস পাওয়া যায়।

এছাড়া হরমোন পদ্ধতি প্রয়োগে আগাম আনারস বাজারজাত করে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হন। আনারস চাষে কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদেরকে আনারস লাগানো ও পরিচর্যা প্রযুক্তি,আগাম আনারস উৎপাদনে হরমোন প্রয়োগ পদ্ধতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল। সুত্র জানায়,আবাদযোগ্য জমি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা থাকলে আনারস চাষ করে ২০ শতাংশ কৃষকের স্বাবলম্বী হবার সুযোগ থাকে। অন্যান্য বছরের তুলনায় রাঙামাটি জেলায় ৫ শতাংশ হারে আনারস চাষীর সংখ্যা বাড়ছে।

 রাঙামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নরেশ চন্দ্র বারই বলেন,আবাদযোগ্য জমিতে আনারস চাষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে চাষীদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। তিনি বলেন,আনারস চাষে মাটি ক্ষয় হয়। আড়াআড়িভাবে স্তুপাকারে লাগালে মাটি ক্ষয় কম হয়। প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে কৃষকদের সঠিক পদ্ধতিতে আনারস চাষে উদ্বুদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে উপ-পরিচালক জানিয়েছেন।

 তিনি আরও জানান, আনারসে ক্যারোটিন,ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়াম রয়েছে। পাকা আনারস বলবৃদ্ধি করে,কফ,পিত্ত বর্ধক,পাচক ও ঘর্মকারক। এছাড়া কচিফলের শাঁস ও পাতার রস মধুর সাথে মিশিয়ে সেবন করলে ক্রিমির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly