রাঙামাটিতে এমএন লারমার ৩০ তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত

 স্টাফ রিপোর্টার, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর  ডটকম

IMG_5522

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সাংসদ মানবেন্দ্র নারায়ন লারমার(এমএন লারমা) ৩০ তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ রোববার(১০ নভেম্বর) রাঙামাটিতে শোক র‍্যালী, ফুলেল শ্রদ্ধা,স্মরণ সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হয়েছে।

 আয়োজিত স্মরণ সভায়  বক্তারা বলেন মহান নেতা এমএন লারমা শুধু জুম্ম জাতির একজন মহান নেতা ছিলেন না। তিনি ছিলেন সারাদেশের মেহনতী মানুষের নেতা। চার কুচক্রী গিরি-প্রকাশ-দেবেন-প্রকাশের মত বিভেদপন্থীরা মহান নেতা এমএন লারমাকে হত্যা করে জুম্ম জাতির অপুরনীয় তি করেছে। বক্তারা এ মহান নেতার আদর্শ, সংগ্রাম, দর্শন ও বিপ্লবী চেতনাকে ধারন করে এবং সকল প্রকার নব্য বিভেদপন্থী ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিষ দাঁত ভেঙ্গে দিয়ে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধভাবে সামিল হয়ে সরকারকে চুক্তি বাস্তবায়নের বাধ্য করার আহ্বান জানান।

সকল প্রকার ভিভেদ ও ষড়যন্ত্র উৎখাত করে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলন জোরদার করার শ্লোগানকে সামনে রেখে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি জেলা শাখার উদ্যোগে  শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গনে এ স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়।  এতে জনসংহতি সমিতির জেলা শাখার সভাপতি গুনেন্দু বিকাশ চাকমার সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি উষাতন তালুকদার। এসময় বক্তব্যে দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য মাধবি লাতা চাকমা, আদিবাসী ফোরামের পার্বত্যাঞ্চলে ক অঞ্চলের সাধারন সম্পাদক ইন্টু মনি চাকমা। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন গিরিসুর শিল্পগোষ্ঠীর সাধারন সম্পাদক আনন্দ জ্যোতি চাকমা। এরপর এমএন লারমা স্মরণে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। স্মরণ সভার শুরুর আগে জেলা শিল্পকলা একাডেমী চত্বর থেকে শুরু হয়ে বনরুপা পেট্রোল পাম্প চত্বর পর্ষন্ত ঘুরে গিয়ে আবারও শিল্পকলা একাডেমী চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এরপর সেখানে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ বেদীতে  পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা জানান। এর আগে শোক র‌যালী ও ফটো-এক্সিভিশনর উদ্বোধন করেন জুম ইসথেটিকস কাউন্সিলের সভাপতি শিশির চাকমা।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে উষাতন তালূকদার বলেন, মহান নেতা এমএন লারমা জুম্ম জাতীয়তাবাদের সংস্কারক ছিলেন। তিনি নিজের জাতিকে ভালবেসে ও ঘুমন্ত জাতীকে জাগ্রত করে জাতীয়তাবাদী চেতনায় ধারন করে জুম্ম জাতিকে একত্রিত করে অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। কিন্তু চার কুচক্রী গিরি-দেবেন-প্রকাশ-পলাশ দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের অঙ্গুলীতে এমএন লারমাকে রাতে আধাঁরে নিমর্মভাবে তার আট সহযোদ্ধাকে হত্যা করা হয়। তাকে হত্যা করায় জাতি এক অপুরনীয় ক্ষতি হয়েছে। জাতীয় জীবনে এমএন লারমা প্রয়োজনীয়তা অতিব জরুরী ছিল।

তিনি আরও বলেন চার কুচক্রীর মতো ইউপিডিএফও অন্যদের প্রজেক্ট বাস্তবায়নে মেতে উঠেছে এবং তার জন্য জনগনের কাছে গিয়ে সুন্দর সুন্দর কথা বলে জনগণকে মোহিত করছে। অথচ তাদের আসল মূখোশ প্রকাশ পাচ্ছে না। কারণ ইউপিডিএফ দালালিপণা করছে তা জনগনের মাঝে সেই ষ্পষ্ট ধারনা নেই।

IMG_5569

 অধিকার এমনিতে কেউ দেয় না, অধিকার ছিনিয়ে নিতে হয় বলে তিনি উল্লেখ করে বলেন, এমএন লারমা যে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে যে শিা দিয়ে গেছেন তার ফিরিয়ে আনতে হবে। ভিবেদের কারনে আমাদের দুর্বল মনে করার কারনে শাসক গোষ্ঠী  অধিকার দিতে চাইছে না। তাই জাতীয় অস্তিত্ব রায় ও  ভূমি অধিকারের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সবাইকে আন্দোলন-সংগ্রামে সামিল হতে হবে।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly