যৌবন হারিয়ে মরণ দশায় চেংগী নদী!

বিশেষ রিপোর্টার,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

Changi Nadi pichillbd24.com

জলবায়ুর প্রভাব পড়েছে খাগড়াছড়ির পানছড়িতেও। গত কয়েক দশক ধরে অব্যাহত গাছ-বাঁশ কাটার ফলে মরণ দশায় চেংগী নদী। সত্তর, আশির দশকে পানিতে টুইটম্বুর ছিল চেংগী নদী। গভীরতা ছিল অনেক। চলত শত শত নৌকা। সড়ক যোগাযোগ সুবিধা না থাকায় মালামাল পরিবহনের পরিবহনের প্রধান মাধ্যম ছিল নৌকা। নৌকায় মালামাল পরিবহন করত ব্যবসায়ীরা। এখন নৌকা চলাতো দূরের কথা বোরো চাষীরাও বোরো চাষে পানি দেওয়ার পানি পাচ্ছে না। নদীর দু’পাড় এখন শুধু বালুচর। প্রমত্ত চেংগী নদী হেঁটে পার হয় এলাকাবাসী। নদীর বালুচরে বালুর ছোট ছোট বাঁধ দিয়ে পানি জমা করে বোরো চাষী চাষে পানি দিতে হচ্ছে।

অভিজ্ঞ মহলের ধারনা- অব্যাহত কাঠ, বাঁশ কাটার, জুম চাষী অব্যাহত পাহাড়ে মাটি খুঁড়ে জুম চাষ করার ফলে পাহাড় উম্মুক্ত হয়ে পড়েছে এবং মাটি য় হয়ে নদীর তলদেশ ভরাট করছে। তাই উপজেলার চেংগী নদী, পূজ গাং নদী, তারাবন ছড়া নদীর এখন মরন দশা। বৃষ্টি পানির সঙ্গে পাহাড়ের মাটি আর বালি এসে নদীর তলদেশ ভরাট করছে। নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার কারনে বৃষ্টি হলেই বন্যায় পাবিত হয় নিুাঞ্চল। দেখা দেয় তীর ভাঙ্গন।

 পানছড়ি উপজেলার প্রবীন কার্বারী শান্তি কুমার চাকমা বলেন পাহাড়ে আগের মতো গাছ,বাঁশ নেই। বন দস্যুদের কারনে এমন দশা হয়েছে। মাটি য় হয়ে নদীর তলদেশ ভরাট হয়েছে। এলাকার আবহাওয়া পরিবর্তন হয়েছে। গমর কালে অতিরিক্ত গরম, শীতকালে অতিরিক্ত শীত আর বর্ষা মৌসুমেও আগের মতো বৃষ্টি হয় না।

সত্তর, আশির দশকে নৌকা চলত। মালামাল পরিবহনের প্রধান মাধ্যম ছিল নৌকা। রাঙামাটি, মহালছড়ি, খাগড়াছড়ি, পানছড়ির ব্যবসায়ীরা নৌকায় করে মালামাল পরিবহন করত। আমরাও নৌকায় করে রাঙামাটি আসা-যাওয়া করতাম।

চাষেীদের বোরো চাষের সুবিধার জন্য নদীর পাড়ে পাম্প মেশিন বসিয়েছেন পূজ গাং এলাকার অরিজিৎ চাকমা। তিনি বলেন, নদীতে পানি কমে যাওয়ার কারনে চাষীরা ঠিক সময়ে পানি তুলতে পারছে না। পাম্পের পাশে বালুর ছোট ছোট বাঁধ দিয়ে পানি জমা করে পানি তুলতে হচ্ছে। এতে ফলন নিয়ে চিন্তিত চাষীরা। আগামী এ সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারন করবে।

পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, শুস্ক মৌসুমে নদীতে পানি না থাকার কারনে চাষীরা ঠিকমতো বোরো চাষ করতে পারছে না। চাষীদের সুবিধার্থে পানছড়ি শান্তিপুর এলাকায় চেংগী নদীতে পৌনে দশ কোটি টাকা ব্যায়ে একটি রাবার ড্যাম স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে ১০০ হেক্টর জমিতে ৩০০০ কৃষক বোরো চাষের সুবিধা পাচ্ছে। চেংগী নদীতে আগের মতো পানি থাকলে রাবার ড্যাম বসানোর কোন প্রয়োজন ছিল না।

তবে এর সুফল পাচ্ছে না উপজেলার লোগাং, পূজগাং ও চেংগী ইউনিয়নের চাষীরা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ােভ বিরাজ করছে।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly