মোনঘরের ৪০ তম পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত দুদিনের অনুষ্ঠান সমাপ্ত

 স্টাফ রিপোর্টার, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

IMG_6744পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মোনঘরের ৪০ তম পূর্তিতে আয়োজিত দুদিন ব্যাপী অনুষ্ঠান শনিবার শেষ হয়েছে। দুদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানে মোনঘরের প্রাক্তন ও নতুন ছাত্র-ছাত্রী এবং শুভাংখীদের অংশ গ্রহনে মিলন মেলায় পরিণত হয়েছিল।

রাঙামাটি শহরের রাঙ্গাপানি এলাকায় অবস্থিত মোনঘরের মাঠে আয়োজিত দুদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের শেষ দিনে শনিবার পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা গুনী ব্যক্তিদের সন্মাননা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠিত হয়। এতে  আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মানবধিকার কমিশনের সভাপতি ও মোনঘর পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি নিরুপা দেওয়ান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা। বিশেষ অতিথি ও সংবর্ধিত ছিলেন চাকমা সার্কেল চীফ বারিষ্টার দেবাশীষ রায়, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ড.মানিক লাল দেওয়ান, পার্বত্য নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য মাধবীলতা চাকমা,রাঙামাটি সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অরুন কান্তি চাকমা, জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিলের সভাপতি এ্যাডভোকেট মিহিরবরণ চাকমা, সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা অঞ্জুলীকা খীসা, নারী নেত্রী শেফালীকা ত্রিপুরা প্রমুখ। উপস্থাপনা করেন মোনঘর পরিচালনা কমিটির সাধারন সম্পাদক কীর্তি নিশান চাকমা।

আলোচনা সভা শেষে মোনঘরেরে ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

IMG_6746

দুদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানে মোনঘরের প্রাক্তন ও নতুন ছাত্র-ছাত্রী এবং শুভাংখীদের অংশ গ্রহনে মিলন মেলায় পরিণত হয়েছিল। শনিবার এ মিলন মেলার সমাপ্তি ঘটে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালের দিকে পার্বত্য রাঙামাটি শহর থেকে পাচঁ কিলোমিটার দুরত্বে রাঙ্গাপানি এলাকায় চার একর জমিতে নিবেদিত ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ সন্ন্যাসী জ্ঞানশ্রী মহাস্থবিরের কয়েকজন সুযোগ্য শিয্য বিমল তিয্যে ভিক্ষু, প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু ও শ্রদ্ধালংকার ভিক্ষুর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মোনঘর শিশুসদনটি আবাসিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্না প্রকাশ করে। বর্তমানে মোনঘর আবাসিক বিদ্যালয়ে ১৩শ ৩৬ জন ছাত্র-ছাত্রী পড়ালেখা করছে। এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা থেকে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা,তঞ্চঙ্গ্যা, চাক, বম, লুসাই, পাংখোসহ দশ ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী থেকে ৮শ ১০জন ছাত্র-ছাত্রী আবাসিক হোস্টেলে অবস্থাস করে পড়ালেখা করছে। এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকসহ ৯৬ জন কর্মকর্তা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। শিক্ষার পাশাপাশি মোনঘরের আর্থিক সক্ষমতা ও আত্ননির্ভশীলতা অর্জনের লক্ষে আয় বর্ধন কর্মসূচি হিসেবে রয়েছে বেকারী, স্টেশনারী দোকান, গার্মেন্টস ও টেনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, সবজি চাষ ও বনায়ন, মোনঘর প্রকাশনা। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছে।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly