মহালছড়ির এক শোভা ত্রিপুরার সাফল্যর কথা

মহালছড়ি প্রতিনিধি, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

111hillbd24.comসহজ সরল আদিবাসী নারী শোভা ত্রিপুরা পেশা একজন শিকিা। বর্তমানে তিনি মহালছড়ি উপজেলার চৌংড়াছড়ি মুখ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

শোভা ত্রিপুরা ১৯৫৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারী রাঙামাটি জেলায় জন্ম গ্রহন করেন। কিন্তু শৈশব-কৈশোর থেকেই তাঁর লেখাযোগায় ছিল বিশেষ আগ্রহ এবং কৈশোর জীবনেই তাঁর লেখায় হাতেখড়ি শুরু হয়। শোভা সংসার জীবনেও তিনি একজন সফল গৃহিনী। তার স্বামী মংছেনচিং (মংছিন) সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক। তাঁদের সংসারে দুই কণ্যা প্রিয়াংকা পুতুল ও তুলি পিয়া। শোভা ত্রিপুরা লেখালেখির মধ্যে আদিবাসী জনজীবন ছাড়াও তিনি লিখেছেন সমতল জনজীবনের কথাও।

তাঁর লেখার মধ্যে ছোট গল্প, কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ, ভ্রমণ কাহিনী, গান, উপন্যাস ইত্যাদি। যা দেশে এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন শীর্ষ স্থানীয় পত্র-পত্রিকা ও সাময়িকীতে প্রকাতি হয়েছে। উল্লেখ যোগ্য প্রকাশনার মধ্যে রয়েছে, ঝরাপাতা (কবিতাগ্রন্থ), ত্রিপুরা জাতির ইতিকথা, ত্রিপুরা জাতির রূপ কথা, জাতক (বুদ্ধ জাতক), ত্রিপুরা জাতি, ত্রিপুরা জাতির ইতিবৃত্ত, আলোময়ীমা ত্রিপুরেশ্বরী ও স্বপ্নের ধূসর ছায়া (উপন্যাস)।

শোভা ত্রিপুরা ১৯৭৩ সালে ঢাকার বঙ্গভবণে কৃতি যুব সংবর্ধনায় অংশ গ্রহন করেন। ১৯৯৯ সালে নারী গ্রন্থ প্রবর্তনা আয়োজিত মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বাংলাদেশের কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলার লেখিকা হিসেবে বিশেষ সম্মাননায় সংবর্ধিত হন।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস’২০১২ সালের ২৬ মার্চ খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার অর্ন্তগত মহালছড়ি উপজেলার সাহিত্য ও সাংষ্কৃতিক সংসদ কর্তৃক সাহিত্য অবদানের জন্য সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। তিনি ১৯৮৫, ১৯৮৬ এবং ২০০০ সালে মহালছড়ি উপজেলাসহ খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা নির্বাচিত হন।

১৯৮১ সালে তিনি রাঙ্গামাটি বনভুমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ১৯৮৩ সালে রাঙামাটি সাংষ্কৃতিক ইনষ্টিটিউট থেকে পুরস্কার লাভ ছাড়াও ২০১৩ সালে রাঙামাটি আদিবাসী ফোরাম কর্তৃক কবি হিসেবে সম্মাননা পদক লাভ, সিরাজগঞ্জ বিশ্ব কবিতা (সাহিত্য উৎসবে) সম্মাননা ও পদক লাভ এবং ঢাকা জাদুঘরে ছায়ানীড় টাঙ্গাইল কর্তৃক কবি সম্মাননা লাভ করেন। তাঁর লেখায় পাহাড়ি জনজীবনের কথা যেমন উঠে এসেছে তেমনি উঠে এসেছে সমতল জনজীবনের কথাও। তিনি ঢাকাস্থ বাংলাদেশ ফোকলোর (গ্রামীন লোক সাহিত্য) সোসাইটিরও একজন সদস্য।

তাঁর এ সফলতায় প্রমাণ করে নারীরাও এখন পিছিয়ে নেই।শোভা ত্রিপুরা’র অনেক পান্ডুলিপি এখনো অপ্রকাশিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তার জন্য তিনি সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক এবং প্রকাশকদের সহযোগিতা আন্তরিক কামনা করেছেন।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly