দীঘিনালার বাঘাইছড়ি দু-অরে ভারতের সহকারী হাই কমিশনার সোমনাথ ঘোষ


ভারত সরকার, উন্নয়নের দিক থেকে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম’-কে মিজোরাম রাজ্যের সমকক্ষ হিসেবে দেখতে চায়

নিজস্ব প্রতিবেদক,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

Wc2চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার সোমনাথ ঘোষ বলেছেন, পার্বত্য আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভারত সরকার সদিচ্ছার সাথে কাজ করতে আগ্রহী। সমস্ত বাংলাদেশ ও বাংলাদেশীদের মতো পার্বত্য চট্টগ্রামেও আমরা চায়, অর্থনৈতিক উন্নতি। বিশেষ করে শিক্ষা-স্বাস্থ্য-কৃষ্টি-সংস্কৃতি এবং তাঁত ও হস্তশিল্প খাতে ভারত সরকার, পার্বত্য চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের উদ্যোগকে স্বাগত জানাবে। প্রয়োজনে বাড়াবে সহযোগিতার হাতও।

তিনি সোমবার বিকেলে সস্ত্রীক জেলার দীঘিনালা উপজেলা বাঘাইছড়ি দু-অর এলাকায় ‘কনসার্ন সার্ভিসেস ফর ডিসএ্যাবলড (সিএসডি)’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিদর্শন করতে এসে এসব কথা বলেন।

add

এসময় সহকারী হাই কমিশনার ভারতের মিজোরামের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অভূতপূর্ব উন্নয়নে উদাহরণ দিয়ে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামও একই ধরনের পথে এগিয়ে যেতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রামের উৎপাদিত ফল-ফলাদি এবং প্রাকৃতিক সম্পদ; সেক্ষেত্রে শুভ সূচক। এখানকার মানুষের ঐতিহ্য ও শ্রম পাল্টাতে পারে অনেক কিছু। তবে এজন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিতভাবে উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে।

ভারত সরকার সীমান্তবর্তী প্রতিবেশী অঞ্চল হিসেবে এই অঞ্চলের সব ধরনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ইতিবাচকভাবে দেখতে চায়।

সিএসডি’র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী  পরিচালক বিশ্বজিৎ দাশগুপ্ত তাঁর স্বাগত বক্তব্যে, চট্টগ্রামের নন্দীরহাটে ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘কনসার্ন সার্ভিসেস ফর ডিস-অ্যাবলড (সিএসডি)’র উন্নয়নে চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনারের কার্যালয় থেকে সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি উপস্থিত সকলকে জানান, চলতি বছরের জানুয়ারীতে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত স্থানীয় সাংবাদিক পলাশ বড়–য়া’র একটি মানবিক প্রতিবেদন পড়ে দীঘিনালার মতো প্রত্যন্ত পাহাড়ী এলাকায় কাজ হাতে নেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের ঐকান্তিক সহযোগিতায় খুব কম সময়ে চালু করা হয়েছে, ২৮ জন প্রতিবন্ধীসহ ৩’শ ৯ জন দরিদ্র শিশুর জন্য বিনামুল্যে আবাসিক পাঠদান, কম্পিউটার, সংগীত ও চারুকলা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা।

পাশাপাশি ৬টি তাঁত ও ১৭টি সেলাই মেশিন দিয়ে হত-দরিদ্র নারীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের।
বাঘাইছড়ি দু-অর প্রতিবন্ধী উন্নয়ন কেন্দ্র’র সভাপতি কৃপারঞ্জন চাকমা, দৈনিক সমকাল’র ষ্টাফ রিপোর্টার সত্রং চাকমা, দীঘিনালা প্রেস ক্লাব সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম রাজু, স্থানীয় সমাজকর্মী প্রজ্ঞান জ্যোতি চাকমা, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাক্যমনি চাকমা, প্রথম আলো’র প্রতিনিধি পলাশ বড়–য়া, কালের কন্ঠ প্রতিনিধি জাকির হোসেন ও উদালবাগান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবতরু চাকমা উপস্থিত ছিলেন।

সহকারী হাই কমিশনার পার্বত্যাঞ্চলের মানুষের চাকরী-বাকরি, আয়, জীবন যাপনের মানের উন্নয়ন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যার কথা অবগত আছেন; এমন মন্তব্য করে বলেন, অদূরেই ভারতের বিভিন্ন সীমান্ত রাজ্যে, সেখানেও এ ধরনের সমস্যা আছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের কাছাকাছি মিজোরাম, ভারতবর্ষে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যে সবথেকে উন্নত রাজ্য। সুতরাং এরকমই একটি পার্শ্ববর্তী ভূমিতে যদি এতোখানি উন্নতি সম্ভব হয়, তাহলে এখানেও (পার্বত্য চট্টগ্রাম) সবাই মিলে তা সম্ভব।

তিনি এজন্য তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মুলতঃ এটা স্থানীয় বাসিন্দাদেরই কাজ। আমাদের (ভারত) দিক থেকে অনেকটা তা প্রতীকি। ছোট-খাটো সহযোগিতা দিয়ে হয়তো তা পূরণ করা সম্ভব হবেনা। শিক্ষা-স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে, বিভিন্ন বৃত্তিমুলক, বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে কাজটা আপনাদেরই (স্থানীয়) শুরু করতে হবে।

তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের সবুজ প্রকৃতি দেখার মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, পার্বত্যাঞ্চলে অনেক সম্ভাবনা আছে। পার্বত্যাঞ্চলে অনেক ফল হয়, আছে অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ আছে। এগুলোকে কাজে লাগিয়ে অনেক কিছু করা যেতে পারে।

তিনি পাহাড়ীদের ঐতিহ্যবাহী তাঁত এবং হস্ত ও কারুশিল্পের দিকে বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করে বলেন, এগুলোর পাশাপাশি এখানকার ছেলে-মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। মানুষের স্বাস্থ্যগত যতো সমস্যা সেগুলোরও সমাধান করা প্রয়োজন।

সহকারী হাই কমিশনার বাঘাইছড়ি দু-অরে পৌঁছালে স্থানীয় নারী-পুরুষ এবং প্রতিষ্ঠানের শিশুরা তাঁকে ফুলের পাঁপড়ি ছড়িয়ে স্বাগত জানান।

উল্লেখ্য, সহকারী হাই কমিশনার ভারত সরকারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের নন্দীরহাটে নব্বইয়ের দশকে প্রতিষ্ঠিত প্রতিবন্ধীদের কল্যাণকামী প্রতিষ্ঠান ‘সিএসডি’র উদ্যোগে দীঘিনালার বাঘাইছড়ি দু-অরে প্রতিষ্ঠিত সমন্বিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র  ও প্রতিবন্ধী ছাত্রাবাসের উন্নয়নে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly