বান্দরবানে রাজনৈতিক অস্থিরতায় ধসের মুখে পর্যটন শিল্প: লোকসান গুনছে ব্যবসায়ীরা

বান্দরবান প্রতিনিধি, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

3

বান্দরবানে ধ্বসের মুখে পড়েছে পর্যটন শিল্প। রাজনৈতিক দলগুলোর  অব্যাহত হরতাল ও অবরোধের  মত বিভিন্ন কর্মসুচীর কারণে বান্দরবানের আবাসিক হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকরা প্রতিদিন লক্ষ টাকারও বেশি লোকসান গুনছে।

জানাগেছে, বর্তমানে পর্যটন মৌসুম। এ সময়েদেম-বিদেশ থেকে ভ্রমন পিপাসু পর্যটকদের আগমন ঘটে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর অব্যাহত হরতাল-অবরোধের কারণে পর্যটকের দেখা মিলছে না। ফলে পর্যটন শিল্পের ধ্বস নেমেছে। বান্দরবানে পর্যটন স্পটের মধ্যে রয়েছে  চিম্বুক,নীলগিরি,কেউক্রাডং,বগালেক,মেঘলা,প্রান্তিকলেক,স্বর্ণ মন্দির ও নীলাচলে বিস্তির্ণ পাহাড়, আকাশ ও মেঘের মিতালী, ঝিড়িঝর্ণা-রিজুক-শৈলপ্রপাত,বড় পাথর, নাফাকুমসহ অসংখ্য ঝর্ণাধারা, ঝুলন্ত সেতু, ক্যাবলকারসহ ইত্যাদি। এসব স্পটে প্রতিবছর  পর্যটন মৌসুমে বান্দরবানে প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটে।

আবাসিক হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকদের মতে, হরতাল অবরোধের কারণে কোন আয় রোজগার না থাকলেও হোটেল কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন এ সব প্রতিষ্ঠানে লোকসানি গুনতে হচ্ছে। তাদের মতে,রাজনৈতিন দলগুলো এক সাথে বসে একটা সমঝোতা আসলে এ পর্যটন শিল্প হয়তো আলোর মুখ দেখবে। এছাড়াও দুরের যাত্রা ভ্রমনের জন্য জীপ মাইক্রো গাড়ীর শ্র্িরমকেরা এখন বেকার হয়ে পড়েছে। সব মিলে হরতালের মত কর্মসুচীর কারণে পুরো পর্যটন সংশ্লি¬ষ্ট শিল্পগুলো চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

জীপ মাইক্রো গাড়ীর শ্র্িরমকরা জানায়,শীত মৌসুমে আমাদের আয়-রোজগারের সময়। কারণ এসময় বান্দরবানে পর্যটকের আগমন ঘটে। হঠাৎ করে রাজনৈকিত দলগুলো দলাদলীর কারনে আমাদের গাড়ীর চাকা বন্ধ হয়ে গেছে। এখন আয় রোজগার না থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে রয়েছি।

এদিকে’হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন,বান্দরবান পর্যটন এলাকা এবং এখন পর্যটন মৌসুম। কিন্তু বান্দরাবানে কোনো পর্যটক নেই। আমরা পর্যটন ব্যবসার সাথে জড়িত সবাই লক্ষ লক্ষ টাকার আর্র্থিকভাবে ক্ষতিগ্রহস্ত হচ্ছি। এ বছর আশা করেছিলাম ঘুরে দাঁড়াতে পারব। কিন্তু না,দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবারও পর্যটন ব্যবসাকে পথে বসাচ্ছে। অনেকেই হোটেলে অগ্রীম বুকিং দিয়ে  থাকে। কিন্তু অবরোধ-হরতালের ঘোষনা সাথে সাথে বুকিং বাদদিয়ে দেয়। অথচ এসময় হোটেল-মোটেল গুলোতে অগ্রীম বুকিং করে রাখতে হতো। কারণ এসময় হোটেল-মোটেল গুলোতে রুম পাওয়া কষ্টকর ছিল। দেশের স্বার্থে পর্যটন শিল্পের বিকাশের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখতে পর্যটন শহর বান্দরবানকে হরতালের আওতামুক্ত রাখা প্রয়োজন।

অপরদিকে ব্যবসায়ী সংগঠন চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি লক্ষীপদ দাস বলেন,পর্যটন শিল্পে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। বান্দরবানে রাজনৈতি কর্মসুচীর কোনো ধরনের ছোয়া না লাগলেও দুরদুরান্ত থেকে পর্যটক আসা সম্ভব হচ্ছে না।রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালো হওয়ার সাথে সাথে সমস্যা কেটে যাবে। বাইরে থেকে যে সব পর্যটকরা আসেন তাদের আসা-যাওয়াটা কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। যার কারনে অনেকগুলো হোটেল-মোটেল পর্যটক শুন্য।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly