বান্দরবানে বিদ্যালয়ের পাশে ইট ভাটা স্বাস্থ্য ঝুকিতে কোমলমতি শিশুরা

বান্দরবান প্রতিবেদক,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

Bandarban School pic-1hillbd24.com

বান্দরবান সদর উপজেলা কুহালং ইউনিয়নের গুংগুরু এলাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে গড়ে উঠা ইট ভাটার ধোয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়ছে কোমলমতি শিশুরা। অবৈধভাবে গড়ে উঠা ইটভাটা বন্ধে এলাকার লোকজন বিভিন্ন সময় মানববন্ধনসহ প্রতিবাদ করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ এ ব্যাপারে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ঘড়ির কাটা সকাল সাড়ে দশটা বাজে। গুংগুরু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটি কাশ রুমে শিক্ষার্থী ভরপুর। শিক্ষকরা পড়াচ্ছেন-শিক্ষার্থীরা মন দিয়ে শুনছেন। স্কুল পাশ দিয়ে চলাচল করেছে কাঠ বোঝায় ট্রাক। রাস্তার ধুলোবালি উড়ে গিয়ে ডুকে পড়ছে কাশ রুমে। কাঠ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে স্কুলের পাশে গড়ে উঠা ইট ভাটায়। ওই ইটভাটায় পুড়ছে কাঠ। কালো ধোয়া ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। রাস্তার ধুলোবালি আর কালো ধোয়া কোমলমতি শিশুদের করে তুলছে অসুস্থ। এরপরও প্রতিদিন যাতায়াত করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। ওই স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর উটিং প্রু খিয়াং ও পঞ্চম শ্রেণীর মংক্যচিং খিয়াং জানায়, অনেক সময় চোখ-মুখ জ্বালা পোড়া করে। ধুলোবালি স্কুলে ডুকে চুল, মুখ সাদা করে ফেলে। যখন বেশি কালো ধোয়া বের হয় আর রুমে এসে ডুকে তখন বমি বমি ভাব লাগে।

স্থানীয় লোকজন জানান, এবিসি ইটভাটার মালিক মো: ইসলাম কোম্পানী। তিনি বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতা। বেশ ক্ষমতার দাপট রয়েছে তার। অবৈধভাবে গড়ে উঠা ইটভাটাটি বন্ধের জন্য বিভিন্ন সময় প্রেস কাবের সামনে এলাকাবাসিরা মানববন্ধন করেছে। স্মারকলিপি দিয়েছেন জেলা প্রশাসককে। এমনকি পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রধানমন্ত্রী দপ্তর পর্যন্ত বন্ধের আবেদন পাঠিয়েছেন। কোনো সুফল পায়নি এলাকার লোকজন। ইটভাটাটি ওই এলাকার ফসলি জমিতেও ফেলছে প্রভাব। ফসলি জমি কেটে, নষ্ট করে ইট ভাটায় মাটি ব্যবহার হচ্ছে। প্রতি বছর কাঠ পোড়ানোর ফলে স্থানীয় লোকেদের গড়ে তোলা বাগানেও ফেলছে প্রভাব। ক্ষতির মুখে পড়ছে বাগান মালিকেরা। তাদেরই একজন বাগান মালিক চিংচাউ মাষ্টার জানান, তার আম গাছ রয়েছে ২০০টি, লিচু ৫০টি, নারিকেল ২০টি, সুপারি ২৫টি, অন্যান্য ৫০টির মতো। এই গাছ গুলো লাগিয়েছেন গত সাত বছর আগে। এখনো পর্যন্ত তিনি ভালো ফলন পাননি। না পাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি ইটভাটাকে দায়ি করছেন।

গুংগুরু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মংহাপ্রু খিয়াং জানান, গুংগুরু প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৮৮৩ সালে স্থাপিত হয় । ২০০৫ সালে এবিসি নামে স্কুলের পাশে গড়ে উঠে। বন ও পরিবেশ এবং ইটভাটা আইন অনুয়ায়ি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসতি এলাকা থেকে তিন কিলোমিটার দূরে ইটভাটা নির্মাণ করার কথা উল্লেখ আছে। সেখানে স্কুলের পাশেই গড়ে উঠেছে ইটভাটাটি। ইটভাটাটির মালিক মো: ইসলাম কোম্পানী জানান, তার ইটভাটাটি বৈধভাবে গড়ে উঠেছে। পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের যাতে কোনো ধরনের ক্ষতি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখছেন। ইটভাটাটি যদি কারোর ক্ষতির কারণ হয় এক্ষেত্রে তিনি তা বন্ধ করে দিবেন বলে জানান।

জেলা সিভিল সার্জন ডা: মংতেঝ জানান, ধুলোবালি আর কালো ধোয়া শিশুদের নামে মুখে গেলে শ্বাস কষ্ট, এলার্জি, সর্দি, গলা সমস্যা, মাথা ব্যাথাসহ বিভিন্ন শারীরিক অসুবিধা দেখা দিতে পারে।

জেলা প্রশাসক কে এম তারিকুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর অবৈধ ইটভাটা গুলোতে অভিযান চালানো হয়। জরিমানা করা হয়। যেসব ইটভাটার বৈধতা নেই তা বন্ধে প্রশাসনিকভাবে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly