বান্দরবানে পাহাড়ের আনারস চাষে সাফল্য

ক্যমুই অং মারমা, বান্দরবান. হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

DSCF6924

পাহাড়ের ঢালুতে আনারস চাষ করে দারুন সাফল্য পেয়েছেন বান্দরবানের আনারস চাষীরা। এই আনারস যেমনি সুস্বাদু তেনি মিষ্টি, স্বাদে গন্ধে ও অতুলনীয়। ফলে এ আনারসের স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখন চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর ৪ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৭ লাখ মেট্রিক টন আনারস। যা গত বছরের চেয়ে ৬৫ মেট্রিক টন বেশী। পাহাড়ের জায়গাগুলো ঢালু হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি জমতে পারে না। তাছাড়া পাহাড়ের ঢালুতে আনারস চাষে উপযোগী ও লাভজনক ফসল হওয়ায় এ চাষের দিকে ঝুঁকছেন চাষীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলা শহরের সদর উপজেলার লাইমি পাড়া, ফারুক পাড়া, গেৎসমনি পাড়া, স্যারন পাড়া, চিম্বুক এলাকা, রুমা উপজেলার বেথেল পাড়া, মুন্নুয়াম পাড়া, মুনলাই পাড়া, ইডেন রোড, ইডেন পাড়া, লাইরুনপি পাড়া, নাজেরেক পাড়া ও রোয়াংছড়ি উপজেলার সুয়ানলু পাড়া, পাইক্ষ্যং পাড়া, ক্যাপলাং ও খামতাং পাড়ায় ব্যাপকহারে আনারস চাষ হচ্ছে।

গেৎসমনি পাড়ার আনারস চাষী জুয়েল বম জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ও সময়মত প্রয়োজনীয় পরিচর্যার কারণে আনারসের ফলন অন্যান্য বছরের চেয়ে ভালো হয়েছে এবং দাম ভালো। বড় সাইজের প্রতিটি আনারস ৫০ থেকে৬০ ও ছোট গুলো প্রতিটি ৪০থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ফারুক পাড়ার আরেক চাষী লালমুন লিয়ান বম জানান, এ বছর তিনি ৬ আঁড়ি (আড়াই একর) জমিতে আনারস চাষ করেছেন। এ পর্যন্ত তিনি ১ লাখ টাকার উপর আনারস বিক্রি করেছেন, আরও ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারবেন।

চট্টগ্রাম থেকে আনারস নিতে আসা পাইকারী ব্যাবসায়ী মোঃ লোকমান হোসেন বলেন, আমি প্রতিবছর বান্দরবানে এসে চাষীদের থেকে পাইকারী দামে আনারস কিনে নিয়ে চট্টগ্রামে বিক্রি করি। এতে আমার ভালো লাভ হয়। ছেলে মেয়েদেরও লেখাপড়া করাইতে পারছি, আমার সংসারও চলে ভালো।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কালাম বলেন, বান্দরবানে পাহাড়ের ঢালু জায়গা আনারস চাষের জন্য বেশ উপযোগী। কারণ বর্ষার সময় গাছের গোড়ায় বৃষ্টির পানি জমতে পারে না।  এখানে জলডুগি (হানিকুইন) ও জায়ান্ট কিউ নামে দুই জাতের আনারস চাষ হয়ে থাকে। এখানকার পরিবেশ ও মাটি এ জাতের আনারসের জন্য বেশ উপযোগী। তাছাড়া এ জাতের আনারস ফলন ভালো, মিষ্টি ও সুস্বাদু এবং লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছর আনারসের চাষ বাড়ছে।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly