বান্দরবানের ইউকেচিং বীর বিক্রম আর নেই

বান্দরবান প্রতিনিধি,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

UKChing Birbikram Pic

বান্দরবানে তথা পার্বত্য চট্টগ্রামের একমাত্র আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধা ইউকেচিং বীরবিক্রম আর নেই। শুক্রবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০বৎসর। তিনি এক মেয়ে,দুই পুত্র সন্তান, স্ত্রী আর অসংখ্য আত্বীয় স্বজন রেখে গেছেন । তার মতৃ্যুতে বান্দরবানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, গত বুধবার ব্রেইন ষ্ট্রোক করলে তাঁকে প্রথমে বান্দরবান সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল ৬ টায় মারা যান তিনি।

তিনি দীর্ঘ দিন ধরে বার্ধক্যজনিত কারনে অসুস্থতায় ভূগছিলেন। তাঁকে রবিবার বান্দরবান শহরের বৌদ্ধদের কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে। তাঁর মৃত্যুতে বান্দরবানের সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম থেকে তাঁর মরদেহবাহী একটি এ্যাম্বুলেন্সে করে বান্দরবানে নিয়ে আসা হয়। শুক্রবার বিকাল তিনটায় লাংগি পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। মুক্তিযোদ্ধা ইউকেচিং এর পুরো নাম উক্যচিং মারমা। তিনি ১৯৩৩ সালে বান্দরবান শহরের উজানী পাড়ায় জন্মগ্রহন করেন। 

সারাদেশের ১৭৫জন বীরবিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে তিনি একজন। রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবীতে যখন বাংলা ভাষাভাষীরা সোচ্ছার ঠিক তখনেই ইউকে চিং ১৯৫২ সালে যোগদেন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস(ইপি আরে)। ১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হবার সাথে সাথে তিনি পরিবার-পরিজন ত্যাগ করে জীবনের মায়া না করে একটি স্বাধীন দেশ ও দেশের লাল সবুজের নতুন এক পতাকা দেখার প্রত্যয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ ইপিআরের নায়েক হিসেবে রংপুর জেলার হাতিবান্ধা ব্ওিপিতে কর্মরত ছিলেন। পরাধীনতার শিকল থেকে দেশকে মুক্ত করতে ও নিজেদের অধিকারের কথা চিন্তা করে বিওপিতে কর্মরত এক বিহারি ও ২ পাঞ্জাবিকে হত্যা করেন এবং ৯ বাংগালী ইপিআর সৈনিককে নিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। নিজের জীবন বাজি রেখে নয় মাস যুদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতার জন্য অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সরকার তাঁকে বীর বিক্রম উপাধিতে ভূষিত করেন।

উল্লেখ্য, সারাদেশের ১৭৫জন বীরবিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে তিনি একজন। তাঁর সম্মানে বান্দরবান শহরে ইউকেচিং সড়ক ও শহরের নীলাচল পর্যটন কেন্দ্রে একটি আবক্ষ ভাস্কর্য রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ইউকেচিং মেধা বৃত্তি চালু করা হয়েছে।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly