বান্দরবানের সংস্কারের অভাবে রুমা-বগালেক-মুন্নুয়াম সড়কের বেহাল দশা

ক্যমুই অং মারমা,বান্দরবান,হিলবিডিটোয়েন্টিফার ডটকম

DSCF5561
বাংলাদেশের দার্জিলিং হিসেবে খ্যাত পার্বত্য বান্দরবান। পর্যটন স্পট হিসেবে বান্দরবানের অন্যতম বগালেক। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রুমা-বগালেক সড়কটি এখন যান চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রায় সবকটি জাগায় উঁচু ও বিপদজনক বাঁকে দীর্ঘ সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে গিয়ে খানা-খন্দের সৃষ্টি হওয়ায় বর্তমানে এটি বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রুমা থেকে মুন্নুয়াম পাড়া ও রুমা বাজার হতে বগালেক পর্যন্ত সড়কটি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আওতাধীন। সড়কটি বর্তমান সরকারের বিগত ২০০১-০২ অর্থবছরে ইট সলিং করা হয়। এরপর এক যুগেরও বেশী সময় ধরে এটি কোন উন্নয়ন কিংবা সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি। কিন্তু সংস্কার হওয়াতে বর্তমানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পর্যটক থেকে সাধারন মানুষ চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।

 এদিকে রুমা বাজার থেকে দৃষ্টিনন্দন বগালেক পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তা ও একই দুরাবস্থা। পুরো রাস্তা ভেঙ্গে গিয়ে খানা- খন্দে ভরে গেছে। অপ্রশস্ত এ সড়কটি দিয়ে প্রতিনিয়ত মোটর সাইকেল, পর্যটকবহনকারী জীপ(চাঁন্দের গাড়ী)ও মালবাহী ট্রাকসহ অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে থাকে। ফলে সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে যেমন নানা বিড়ম্বনা ও দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তেমনি ওইসব ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে প্রতিনিয়ত ভারী যান চলাচল অব্যাহত রয়েছে।

বগালেক পাড়ার ব্যাবসায়ী লারাম বম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রুমা উপজেলার জন্য বান্দরবান আজ পর্যটন নগরী হিসাবে খ্যাত। কিন্তু রুমা হতে বগালেক যাওয়ার রাস্তাটি নির্মাণের পর থেকে এর কোন অংশ সংস্কার করা হয়নি। উঁচু নিঁচু পাহাড়ী রাস্তায় সবসময় জীবনের ঝুঁকি যাতায়াত করতে হয়।

DSCF5562

বগাকাইং পাড়ার মংথোয়াইচিং কারবারী (পাড়া প্রধান) জানান, মাত্র পনের কিলোমিটার সড়কে যেতে সময় লাগে দেড় থেকে দুই ঘন্টা। রুমার এক মাত্র বড় হাট বাজার রুমা বাজারে সবসময় ভয়ে ভয়ে আসা যাওয়া করি। যেখানে বেশী উঁচু সেখানে দীর্ঘ ১ কিলোমিটার সড়কে গর্ত ও খানা খন্দে ভরা। একই অভিযোগ ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা ইমরান ও সোহেল হোসেনসহ অন্যান্য পর্যটকদের।

রুমা বগালেক ও রুমা মুন্নুয়াম সড়ক যানবাহন জীপ এবং ল্যান্ডক্রুজার মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতা শমীর দাশ বলেন, এই সড়কে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চালকরা যানবাহন চালাচ্ছেন। উপজেলার সবকটি সড়কে বিশাল আকৃতির গর্ত ও ইট সলিং সরে গিয়ে যান চরাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যার মধ্যে কোন যান বাহনের চাকা পড়ার সাথে যাথে যানবাহনের অনেক যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। তার পরেও লাইন ঠিক রাখতে গিয়ে নিজেদের লোকসান মেনে নিয়ে সড়কে যানবাহন ছেড়েছেন মালিকরা।

১নং পাইন্দু ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ক্যসাপ্রু মার্মা এ বিষয়ে জানান, ব্যাবসায়ীদের কাঠ পরিবহনে নিয়োজিত বড় বড় ট্রাকগুলোর অবাধ চলাচলের কারণে সড়কগুলোর অবস্থা এতবেশী বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। এই ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ নীরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। একই অভিযোগ করেন বাসতস্নাং পাড়ার আ,লীগ নেতা সাপলং বম।
হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly