বাঘাইছড়ি পৌরসভার বেহাল অবস্থা

 বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

Rangamati Baghaichari Road-gv-1

রাঙামাটির বাঘইছড়ি পৌরসভার বেহাল অবস্থায় পরিণত হয়েছে। এ পৌরসভাটি দ্বিতীয় শ্রৈনীর পৌরসভা ঘোষনা করা হলেও কোন নাগরিক সুযোগ-সুবিধা গড়ে উঠেনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,রাঙামাটি জেলার দ্বিতীয় পৌরসভা হিসেবে ২০০৪ সালে বিএনপি সরকারের বাঘাইছড়িকে পৌর সভা হিসেবে ঘোষনা করে। ঘোষনার পর নির্বাচন না দিয়ে বিএনপির উপজেলা শাখার সভাপতি নিজাম উদ্দিন বাবুকে পৌর সভার প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। এর পর  ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্বাবধায়ক সরকারের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেয়। সর্বশেষ আওয়ামীলীগ সরকারের সময় ২০১২ সালে ১১ জানুযারী বাঘাইছড়ি পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে স্বতন্ত্র  প্রার্থী থেকে পৌর মেয়র হিসেবে আলমগীর কবির এবং আওয়ামীলীগ থেকে ৮জন কাউন্সিলর  এবং বিএনপি থেকে ৪ জন কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। তবে অভিযোগ রয়েছে নির্বাচিত হওয়ার পর মেয়র এবং প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর মধ্যে দ্বন্ধ ও ভুল বোঝাবুঝি কারনে এ পৌর সভার উন্নয়নের কোন ছোয়া লাগছে না।

 সূত্র আরও জানায়, বাঘাইছড়ি পৌরসভার বয়স ১০বছর অতিবাহিত হলেও পৌরসভাবাসী তাদের কাংখিত কোন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না। এখনো হয়নি পৌরসভার নিজস্ব অবকাঠামো থেকে পৌর এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ অন্যান্য সুবিধা। যা নামে মাত্রই পৌরসভা হিসেবে রয়েছে। পৌরসভার গুরুত্ব পুর্ণস্থানে স্ট্রিট লাই থাকলেও সাত লাখ টাকা বিদ্যুৎবিল বকেয়া থাকার ইতোমধ্যে এসব লাইটের বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করে দেয়া হয়েছে।  রাতের বেলায় পৌর সভা এলাকা অন্ধকারে থাকে। এছাড়া পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১১ মাসের বেতন বিল বকেয়া থাকায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেনবলে জানা গেছে।

পৌরসভার প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব আবদুল শুক্কুর মিয়া জানান, বাঘাইছড়ি পৌরসভার জন্য বরাদ্দ একেবারে অপ্রতুল। তিন বছরে পার্বত্য মন্ত্রনালয় থেকে মাত্র দুইশত মেঃটন খাদ্যশস্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এডিপির বরাদ্দ ছাড়া এ পর্সন্ত এ পৌর সভার  জন্য কোন সরকারী বরাদ্দ পায়নি।

পৌর মেয়র মোঃ আলমগীর কবির বলেন, পৌর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি জলবায়ু পরিবর্তন প্রকল্পসহ একাধিক প্রকল্পের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে ধর্না দিয়েছন কিন্তু কোন লাভ হয়নি। শুধুমাত্র এডিপি থেকে বরাদ্দ ছাড়া এ পৌর সভার জন্য  আর কোন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তবে আগামী জুন মাসের দিকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় থেকে ৮কোটি টাকার টিএলসিসি ও ডব্লিউএলসিসি-এর প্রকল্প বরাদ্দ পাওয়ার কথা রয়েছে।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly