বাঘাইছড়ি কাউখালী ও বরকল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের লড়াই হবে ত্রিমুখী

স্টাফ রিপোর্টার,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

Hill okhillbd24.com
আগামী ১৫ মার্চ তৃতীয় দফা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিন উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চেয়ারম্যান পদে কাউখালীতে ৩ জন, বাঘাইছড়িতে ৩ জন ও বরকলে ৪ জন প্রতিন্ধদ্ধিতা করছেন। কাউখালীতে জাতীয় রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপির প্রার্থী থাকলেও বাঘাইছড়িতে দলীয় কোন প্রার্থী দেয়নি। তবে বরকলে আওয়ামীলীগের প্রার্থী দিলেও বিএনপি প্রার্থী নেই। তাই সব মিলিয়ে এই তিনটি উপজেলায় লড়াই হবে ত্রিমুখী।

এদিকে, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ১২টা থেকে বন্ধ হচ্ছে এসব উপজেলা প্রার্থীদের যাবতীয় প্রচার-প্রচারনা। ইতোমধ্যে এসব উপজেলায় আইন-শৃংখলা বাহিনী মোতায়েনসহ নির্বাচনী যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা নির্বাচন কার্যালয়।

তৃতীয় দফায় অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে রাঙামাটির তিনটি উপজেলার মধ্যে বাঘাইছড়ি উপজেলায় এবার নির্বাচনে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল সন্তু লারমার সমর্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি, এমএন লারমা সমর্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের(ইউপিডিএফ) সমর্থিত প্রার্থীরা নির্বাচনে লড়ছেন। আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের দাপটের কারণে জাতীয় রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপি থেকে প্রার্থী দিতে সাহস করেনি। যদিও এ উপজেলায় আওয়ামীলীগ ও বিএনপির যথেষ্ট শক্ত অবস্থান রয়েছে। তাই তিনটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের মধ্যে এ উপজেলায় নির্বাচনী লড়াই হবে ত্রিমুখী।

এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতাকারী হলেন, এমএন লারমা সমর্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি সমর্থিত ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুর্দশন চাকমা (ঘোড়া),সন্তু লারমার সমর্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি সমর্থিত প্রার্থী বড়ঋষি চাকমা(দোয়াত কলম),ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের(ইউপিডিএফ)বিশ্বজিৎ চাকমা (আনারস)। এছাড়া ভাইস-চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন চিত্র বিকাশ চাকমা(বই), জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা ( টিয়া পাখি ), মোঃ আব্দুল কাইয়ুম ( টিউবওয়েল), দীপ্তিমান চাকমা ( তালা), ও প্রদীপ কুমার চাকমা ( চশমা)। মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে একজন প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী থাকায় সুমিতা চাকমা বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বাঘাইছড়ি উপজেলায় মোট ভোটার হচ্ছে ৫৯ হাজার ৪শ০০ জন(পুরুষ- ৩১,৫৪২,মহিলা-২৭,৮৫৮ জন)।

তৃতীয় দফা নির্বাচনে একমাত্র কাউখালী উপজেলায় জাতীয় রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপি থেকে দলীয় প্রার্থী নির্বাচন করছে। তাই এ উপজেলায় আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রাথীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে। তবে এ উপজেলা থেকে ইতোমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে থেকে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে মারধর, হুমকির অভিযোগ এনে নির্বাচনের আগে সেনা বাহিনী মোতায়েন দাবি করে জেলা রির্টানিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবদেন জানিয়েছেন। তাই সব মিলিয়ে নির্বাচনী দিনে কয়েকটা ভোট কেন্দ্রে গন্ডগোলের আশংকা রয়েছে। তবে প্রশাসন এ বিষয়ে সম্পুর্ন সর্তক অবস্থানে রয়েছে। কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী এস এম চৌধুরী(ঘোড়া),বিএনপির সমর্থিত অমরেন্দ্র রোয়াজা(মোটর সাইকেল) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অজুর্ন মনি চাকমা(আনারস)।

এ উপজেলায়ও চেয়ারম্যান পদে ত্রিমূখী লড়াই হবে। ভাইস-চেয়ারম্যান পদে জসিম উদ্দিন খোকন ( তালা), মংসুই ইউ চৌধুরী ( চশমা) ও মোঃ নাসির উদ্দিন (টিউবওয়েল)প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন এ্যানী চাকমা কৃপা ( প্রজাপতি) ও জান্নাতুল ফেরদৌস ( কলম)। এ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ৩৬ হাজার ৬৮২ জন(পুরুষ-১৮,৮০০, মহিলা-১৭,৮৮২ জন)।

সীমান্তবর্তী ও দুর্গম বরকল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জাতীয় রাজনৈতিক দল থেকে আওয়ালীগ প্রার্থী দিলেও বিএনপির কোন প্রার্থী দেয়নি। তবে নির্বাচনে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী এলাকায় কিছু প্রভাব থাকায় এ উপজেলায় ত্রিমুখী লড়াই হবে।

এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে যে চার জন প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন তার একমাত্র নারী প্রার্থী ও জন সংহতি সমিতি সমর্থিত মনি চাকমা ( হেলিকপ্টার), আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সন্তোষ কুমার চাকমা (দোয়াত কলম),স্বতন্ত্র প্রার্থী বিহারী রঞ্জন চাকমা (আনারস) ও কমল জ্যোতি চাকমা (মোটর সাইকেল)। ভাইস-চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন বিধান চাকমা ( মাইক ),মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ( তালা ) সুদীর্ঘ চাকমা (বই )। মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন রায় সোনা চাকমা (প্রজাপতি), ও শুকুন্তলা চাকমা ( পদ্মফুল )। বরকলের মোট ভোটার রয়েছেন ২৯ হাজার ৯শ৬২ জন(পুরুষ- ১৬,৪৭৫,মহিলা- ১৩,৪৮৭ জন)।

জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল করিম জানান, রাঙামাটির তিনটি উপজেলায় নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এসব উপজেলায় নিবাৃচন সুষ্ঠভাবে সম্পন্নের জন্য আইন-শৃংখলা বাহিনীর মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ পর্ষন্ত এ তিন উপজেলায় নির্বাচন নিয়ে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রনে এবং স্বাভাবিক রয়েছে।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly