বরকল-জুরাইছড়ি বাজারে পুরষ্কারের নামে ভিন্ন কৌশলে চলছে সিগারেট বিক্রির মহোৎসব

পুলিন চাকমা, বরকল,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

barkal cigaret pic-02

রাঙামাটির বরকল ও জুরাইছড়ি উপজেলার হাট বাজারে সিগারেট কোম্পানীর প্রতিনিধিরা ধুমপায়ীদের নানা ধরনের পুরষ্কারের প্রলোভন দেখিয়ে দেদারছে বিক্রি করছে সিগারেট। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের গরীব ও অশিক্ষিত মানুষ এ পুরষ্কারের লোভে বেশী করে ধুমপানে আসক্ত হচ্ছে। এছাড়াও দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী বাজারগুলোতে সরবরাহের নামে হাজার হাজার কাটন সিগারেট ভারতের মিজোরামের বিভিন্ন বাজারে পাচার করারও অভিযোগ রয়েছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা টোবাকো কোম্পানী (ডিটিসি) ব্রীটিশ আমেরিকা টোবাকো (বিএটিসি) ও আবুল খায়ের টোবাকো কোম্পানী লিমিটেড (একেটিসিএল) এর তিনটি সিগারেট কোম্পানী বরকল ও জুরাইছড়ি উপজেলার হাট বাজার গুলোতে বিভিন্ন নামের সিগারেট বিক্রি করছে। ধুমপায়ীদের নানাভাবে বুঝিয়ে ও বিভিন্ন ধরনের পুরষ্কারের লোভে প্রলোভিত করে নিজেদের কোম্পানীর বিভিন্ন নামের সিগারেট হাট বাজার গুলোতে দেদারছে বিক্রি করছে প্রতিনিধিরা। তাদের প্রতিনিধিরা গোল্ডেন হিল,সাহারা, নাম্বার ওয়ান ও শেখ সিগারেটের বিক্রি বাড়ানোর জন্য স্ল্যাইড সংগ্রহ করছেন।

cigaret pic-001

সিগারেটের এ স্ল্যাইড সংগ্রহের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পুরষ্কারের মধ্যে ১০টি স্ল্যাইড জমা দিলে- ১প্যাকেট সিগারেট ৪০টি স্ল্যাইডে- ১টি আরএফএল প্ল্যাষ্টিক বালতি ৬৫টি স্ল্যাইডে-১টি ছাতা ও ৫০০টি স্ল্যাইডে- ১টি স্যাম্পনি মোবাইল ফোন সহ এসব দেয়া হয় স্ল্যাইড জমাদানকারী ধুমপায়ীদের। এ ভাবে বরকল ও জুরাইছড়ির দুই উপজেলার হাট বাজার গুলোতে প্রকাশ্যে ভাবে সুকৌশলে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেদারছে চলছে সিগারেট বিক্রির মহোৎসব।

এছাড়াও অনুসন্ধানে দেখা গেছে উপজেলার সীমান্তবর্তী বাজার গুলোতে সিগারেট সরবরাহের নামে হাজার হাজার কাটন সিগারেট ভারতের মিজোরাম প্রদেশের দেমাগ্রী,বড়পণছড়ি,হুগুর দুলেইয়ে মালছড়ি ও কমলা নগর সহ অন্যান্য বাজার গুলোতে পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বাজারে পাচার করতে পারলে প্রতি কাটন সিগারেটে বাংলাদেশের টাকায় ডাবল দাম পাওয়া যায়। এতে কোম্পানী ও তার প্রতিনিধিরা লাভবান হচ্ছেন।

ঢাকা টোবাকো কোম্পানীর প্রতিনিধি আবদুল ছালাম রিপন জানান- সিগারেটের বিজ্ঞাপন স্যাটেলাইট টিভি,সংবাদপত্রে প্রচার ছাড়া অন্য কৌশলে বিজ্ঞাপন দিয়ে সব কোম্পানী সিগারেট বিক্রি করছে। তবে বিজ্ঞাপনে কিংবা পোষ্টারে কোন কোম্পানীর নাম কিংবা সিল মোহর নেই। আপনারা সাংবাদিকরা লিখলেও কোন কাজ হবে না। আগেও অনেক সাংবাদিক সিগারেটের ব্যাপারে লিখেছিল কিন্তু কোন কাজ হয়নি। কারণ সিগারেট কোম্পানী একশ টাকার সিগারেট বিক্রি করলে ৫৪ টাকা সরকারকে কর দিতে হয়। সরকার সিগারেট থেকে যে কর পায় যা অন্য কোন পণ্য থেকে পায়না বলে অত্যান্ত বীরদর্পে কথাগুলো বলেছিলেন কোম্পানীর ঐ প্রতিনিধি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা টোবাকো কোম্পানীর জেলা টেরিটরি সেলস অফিসার (টিএইচও) পিন্টু সাহার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আপনি সাংবাদিক আপনি আপনার কাজ করেন আমি আমার কাজ করবো। এর পরে আর তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা.সিআর.

Print Friendly