বরকলে লঞ্চে যাত্রীদের ভোগান্তির শেষ নেই!

পুলিন চাকমা,বরকল, হিলবিডিটোয়েন্টিফো  ডটকম

barkal

রাঙামাটির বরকল উপজেলায় নদী পথে যাত্রীবাহী লঞ্চে যাতায়াতে যাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। অভিযোগ উঠেছে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করাসহ মালামাল পরিবহন, বসার সিট নিম্নমানের, টয়লেটগুলো স্বাস্থ্য সম্মত নয়। এত সমস্যার পরও প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রীদের। তবে লঞ্চ মালিকদের পক্ষ থেকে এসব  অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

অপরদিকে,নামে বিরতীহীন যাত্রীবাহী লঞ্চ হলেও প্রায় সময় মানুষ,ছাগল ও মুরগীর সাথে বসে যাতায়াত করতে হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও লঞ্চমালিক সমিতির  কাছে অভিযোগ করলে ও কোন প্রতিকার নেই। প্রতিনিয়ত প্রশাসনের নাকের ডগায় লঞ্চগুলোতে যাত্রী সেবার নামে দুর্ভোগের শিকার হলেও দেখার কেউ নেই বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।  ফলে যাত্রীদের মধ্যে রয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ।

জানা গেছে- রাঙামাটি থেকে ছোট হরিনা বাজার পর্যন্ত নদী পথের দুরত্ব ৭০ কিলোমিটার। প্রতিদিন রাঙামাটি থেকে ছোট হরিণা আর ছোটহরিনা থেকে রাঙামাটিগামী মালিক সমিতির বিরতিহীন ও লোকাল ৬টি লঞ্চ দৈনিক চলাচল করে থাকে। রাঙামাটি থেকে ছোট হরিনা বাজার পর্যন্ত নৌপথের দুরত্ব ৭০ কিলোমিটার। প্রতি কিলোমিটারের নির্দিষ্ট ভাড়া ১ টাকা ৭০ পয়সা।

রাঙামাটি থেকে সুভলং ক্যাম্প ঘাটের দুরত্ব ১৮ কিলোমিটার যার ভাড়া ৩০ টাকা ৬০ পয়সা। কিন্তু বিরতিহীন লঞ্চে ৫০ টাকা লোকাল লঞ্চে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা। রাঙামাটি থেকে বরকল সদরের দুরত্ব ৪৫ কিলোমিটার যার ভাড়া ৭৬ টাকা ৫০ পয়সা। বিরতিহীন লঞ্চে নেওয়া হচ্ছে ১শ টাকা লোকাল লঞ্চে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। রাঙামাটি থেকে  ছোট হরিনা বাজারের দুরত্ব ৭০ কিলোমিটার যার ভাড়া ১শ ১৯ টাকা। রাঙামাটি থেকে সরাসরি ছোট হরিনা পর্যন্ত বিরতিহীন লঞ্চে ভাড়া নেয়া হয় ১শ ৫০ টাকা আর লোকাল লঞ্চের ভাড়া ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। কিন্তু বরকল সদর থেকে ছোট হরিণার ২৫ কিলোমিটারের দুরত্বে ভাড়া হয় ৪২ টাকা ৫০ পয়সা। কিন্তু সেখানে বিরতিহীন লঞ্চে নেয়া হচ্ছে ১শ টাকা আর লোকাল লঞ্চে নেয়া হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। ভাড়ার নির্দিষ্ট তালিকা অনুসরণ না করে লঞ্চের কেরানীরা নিজেদের ইচ্ছে মত দেড় থেকে দ্বিগুন ভাড়া আদায় করছে যাত্রীদের কাছ থেকে। এতে প্রায় সময় যাত্রী ও লঞ্চের কর্মচারীদের মধ্যে বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন ও মালিক সমিতির কাছে অভিযোগ করলেও কোন লাভ হয়না বলে যাত্রীদের অভিযোগ।

এ ব্যাপারে  বরকল উপজেলার ভূষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিলীপ কুমার চাকমা ও আইমাছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শ্যামরতন চাকমা জানান,লঞ্চ মালিক সমিতি ও কেরানীরা নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে যাত্রীদের সেবা না দিয়ে নিজেদের স্বার্থের জন্য যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। অন্যদিকে সুবিধার নাম করে টয়লটেগুলো দুর্গন্ধযুক্ত রাখা হয়। প্রায় সময় যাত্রীদের সাথে কর্মচারীরা খারাপ আচরণ করে থাকেন বলে তারা  অভিযোগ করেন। এ ছাড়াও অন্যান্য উপজেলায় যাতায়াতের লঞ্চগুলোতে ভিআইপিদের জন্য সিট রাখা হয়। কিন্তু বরকলের লঞ্চগুলোতে তার কোন ব্যবস্থা নেই।  টাকার লোভে এখন লঞ্চের কেরানি ও কর্মচারীরা মাদক পাচারের সাথেও জড়িত রয়েছেন বলে চেয়ারম্যানরা অভিযোগ করেছেন।

রাঙামাটি জেলা লঞ্চ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল সেলিম অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে  বলনে, সরকারীভাবে যা ভাড়া রয়েছে তার চেয়ে কম নেয়া হচ্ছে। মাঝে মধ্যে যদি কোন যাত্রীর ছাগল মুরগী থাকে মানবিক কারণে বহন করতে হয়।

লঞ্চ কর্মচারীরা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান অবৈধ কোন মালামাল পরিবহন না করার জন্য মালিক সমিতির পক্ষ থেকে মানা করা আসে। কিন্তু তার পরেও যদি কেউ অবৈধ মালামাল বহন করে তা আটকের জন্য পুলিশ,বিজিবি ও সেনাবাহিনী রয়েছে বলে তিনি জানান।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly