বরকলে বাল্য বিবাহ থেকে রক্ষা পেল পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী সালমা

 পুলিন চাকমা, বরকল,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

Rangamati Maphillbd24.com

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি,শিক্ষক ও এলাকার মুরব্বীদের বাধার কারণে বরকল উপজেলার পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী সালমা আক্তারের (১২) বাল্য বিবাহ রক্ষা পেয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল কুরকুটিছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী সালমার। ঘটনাটি ঘটেছে বরকল উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুরকুটিছড়ি পূর্নবাসিত বাঙালী পাড়ায়।

স্থানীয় লোকজন জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলা সদর ইউনিয়নের কুরকুটিছড়ি গ্রামের মৃত কাসেম আলীর মেয়ে সালমার (১২) সাথে একই গ্রামের ফজল মিয়ার ছেলে শহীদের (২৩) সাথে বিবাহের দিনক্ষণ ঠিক করেন সালমার বড়ভাই দিদার আলী। বিয়ের খবর জানার পর একই বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য সোহরাব উদ্দিন,সহকারী শিক্ষক হিরালাল মজুমদার,জালাল উদ্দিন ও মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি ইয়াছিনের নের্তৃত্বে এলাকার লোকজন নিয়ে বাল্য বিবাহ রোধ করার চেষ্টা চালান। এতে সালমার বড়ভাই দিদার আলী বিয়েতে বাধা প্রদানকারীদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ তাদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলার হুমকি দেন। এতে ক্ষান্ত না হয়ে আবার রাতে দিদার আলী দলবল নিয়ে সহকারী শিক্ষক হিরালাল মজুমদারের বাড়িতে আক্রমণ করতে আসলে এলাকার লোকজন তাদের বাধা দিলে তারা চলে যায় বলে পরিচালনা কমিটির সদস্য সোহরাব উদ্দিন ও সহকারী শিক্ষক হিরা লাল মজুমদার জানায়।

 সালমার মা খুদেজা বেগম জানান, তার মেয়ের ভালমন্দ তিনি  বুঝবেন। এতে অন্য কারোর বাধা দেয়ার কি আছে? আমার সংসারে যে অভাব সেটাতো কেউ দেখে না। স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারের আয় রোজগার করার কেউ নেই। তাই মেয়েকে স্বামীর হাতে তুলে দিতে পারলে আমি মরে গেলেও শান্তি পাবো।

 এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আলতাব হোসেন জানান,মেয়ের মামার মাধ্যমে বাল্য বিবাহের বিষয়টি জানার পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবগত করি। পরে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটিকে বিবাহ অনুষ্ঠান বন্ধ করার পরামর্শ দিই।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly