বরকলে জরিমানার টাকা দিতে  না পারায় বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা!

পুলিন চাকমা, বরকল,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

কয়েকদিনের মধ্যে জরিমানার ৮২ হাজার টাকা দিতে হবে এটি সালিশ সভার সিদ্ধান্ত। এত টাকা দেয়ার সার্মথ্য না থাকায় অবশেষে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন মোঃ ইউছুফ (২৬)। সেই বরকল উপজেলার আইমাছড়া ইউনিয়নের মধ্য কলাবুনিয়া গ্রামের মৃত রশিদ মুন্সির ছেলে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়,কলাবুনিয়ার মৃত রশিদ মুন্সির ছেলে মোঃ ইউছুফ ফারজানা (২২) ও সাইমা বেগম (১৯) নামে দুজনকে বিয়ে করে। প্রথম স্ত্রীর দুই সন্তান আর দ্বীতিয় স্ত্রীর এক সন্তান রয়েছে। দ্বীতিয় স্ত্রী সাইমা বেগমকে স্বামী ইউছুফের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য তার বাবা মা এলাকার মুরব্বীদের কাছে অভিযোগ করে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহষ্পতিবার কলাবুনিয়া বাজারে এলাকার মেম্বার তমীর আলী আবু সালেহ ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হক ও রুহুল আমিনের নের্তৃত্বে এক সালিশ সভা করা হয়। সালিশ সভা শুরু হওয়ার আগে ইউছুফ ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী সাইমা বেগমের বাবার কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয় সালিশ দারেরা। সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর ইউছুফ কে জানানো হয় দুই স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করতে পারবেনা। দ্বীতিয় স্ত্রী সাইমা বেগম কে ছেড়ে দিতে হবে এবং তাকে ভরণ পোষণ ও অন্যান্য খরচের নামে ৮২ হাজার টাকা দিতে হবে স্বামী ইউছুফকে। কয়েক দিনের মধ্যে এ টাকা পরিশোধ করার নির্দেশ দেন সালিশ কমিটি। কিন্তু সালিশ কমিটির এ সিদ্ধান্ত মানতে না পারায় একদিকে সালিশ কমিটি অপর দিকে প্রথম স্ত্রীর যন্ত্রণা আর দ্বীতিয় স্ত্রীকে হারানোর বেদনা সহ্য করতে না পারায়  শনিবার রাঙামাটির ভেদভেদি এলাকার শুশুড় বাড়িতে দুপুর ১টায় বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে মোঃ ইউছুফ। পরে তাকে মুমুর্য অবস্থায় রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করে কোন মতেই বেচেঁ যান তিনি। বর্তমানে  তিনি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ব্যাপারে এলাকার মেম্বার মোঃ তমীর আলী জানান, ইউছুফের দ্বীতিয় স্ত্রী সাইমা বেগম তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট পুড়িয়ে দিয়েছে বলে তার স্বামী ইউছুফের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অভিযোগ করে। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে সালিশ ডাকা হয়। সালিশে সিদ্ধান্ত হয় নতুন করে বোর্ড থেকে সার্টিফিকেট আনতে যা খরচ হবে তার স্বামী ইউছুফ বহন করবে। সালিশে দ্বীতিয় স্ত্রী সাইমা বেগম তার স্বামীর সাথে ঘর করবে না বলে জানালে কাবিননামা বাবদ ৫০হাজার টাকা কোর্টের মাধ্যমে দেয়ার জন্য ইউছুফ কে বলা হয়। তাকে কোন প্রকার ভয় ভীতি কিংবা মানসিক ভাবে আঘাত দেয়া হয়নি বলে মেম্বার তমীর আলী জানান।

 বরকল থানার পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আব্দুল করিম বলেন লোক মুখে তিনি শুনেছেন। কিন্তু থানায় এখনো  কেউ অভিযোগ কিংবা মামলা  করতে আসেনি।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly